অনেক আফসোসে দিনটা ভালো হলো না বাংলাদেশের

মুশফিক ১৭৫ রানে অপরাজিত

ক্রীড়া প্রতিবেদক | বুধবার , ২৫ মে, ২০২২ at ৬:৪৩ পূর্বাহ্ণ

হাতছাড়া হলো দুটি ক্যাচ। ক্যাচের মতো উঠলেও একবার একটুর জন্য গেল না হাতে। নেওয়া হলো না একটি রিভিউ। একবার ব্যাটসম্যান বাঁচলেন আম্পায়ার্স কলে। এই সব কিছু পক্ষে এলে দিনটি আরও ভালো হতে পারতো বাংলাদেশের। তাই অনেক আফসোসে গতকাল দিনটা ভালো হলো না বাংলাদেশের। এর আগে সকালে ব্যাটিংয়ে নেমে লিটন এবং মুশফিকের কল্যাণে ধ্বংসস্তুপের দাঁড়িয়ে থাকা বাংলাদেশ এগিয়ে যাচ্ছিল রানের পাহাড়ের দিকে। কিন্তু দ্বিতীয় দিনটা ঠিক প্রথম দিনের মতো হলোনা। ক্রিকেটে আসলে তেমনটি হয়না সব সময়। যেমনটি গতকাল হয়নি লিটন-মুশফিকের।

তারপরও একাধিক বিশ্বরেকর্ড গড়ে লিটন বিদায় নিলেও বাংলাদেশ ঠিকই রানের পাহাড়ে চড়েছে। তবে সেটা অবশ্যই মুশফিকের কল্যাণে। এই দুই ব্যাটারের দারুণ দৃঢ়তায় ঢাকা টেস্টের প্রথম ইনিংসে বাংলাদেশ অল আউট হয়েছে ৩৬৫ রানে। তবে হতাশায় পুড়তে হয়েছে মুশফিককে। কারণ অল্পের জন্য নিজের চতুর্থ ডাবল সেঞ্চুরিটা তুলে নেওয়া হলোনা বাংলাদেশের মিস্টার ডিফেন্ডেবলের। বাংলাদেশ যে প্রথম ইনিংসে ৩৬৫ রান করেছে তার সিংহভাগই করেছে মুশফিকুর রহিম এবং লিটন দাশ মিলে। এই দুজনের ব্যাট থেকে আসে ৩১৬ রান। বাকিরা এবং অতিরিক্ত মিলে এসেছে ৪৯ রান। সেখানেও সর্বোচ্চ ১৭ রান আসে অতিরিক্ত থেকে।

তারমানে বাকি নয় ব্যাটার মিলে করেছেন ৩২ রান। যেখানে আবার ছয়জন ফিরেছেন শূন্য রানে। তবে জবাবটাও বেশ ভালই দিচ্ছে শ্রীলংকা। বিশেষ করে লংকানদের এই জবাব দেওয়ার পথে নেতৃত্ব দিচ্ছেন অধিনায়ক দিমুথ করুনারত্নে। দ্বিতীয় দিন শেষে প্রথম ইনিংসে লংকানরা করেছেন ২ উইকেটে ১৪৩ রান। ৭০ রানে অপরাজিত অধিনায়ক দিমুথ করুনারত্নে।

আগের দিনের ৫ উইকেটে ২৭৭ রান নিয়ে দ্বিতীয় দিন শুরু করে বাংলাদেশের দুই অপরাজিত ব্যাটার লিটন এবং মুশফিক । এদুজন আর ১৯ রান যোগ করতে সক্ষম হয়। আগের দিনের ১৩৫ রানের সাথে আর ৬ রান যোগ করে ফিরেন লিটন। ১৪১ রানে থামেন লিটন দাশ। লংকানদের সফল বোলার রাজিতার বলে স্লিপে কুশল মেন্ডিসের হাতে খ্যাচ দিয়ে ফিরেন লিটন দাশ। তার ২৪৬ বলের ইনিংসটিতে ১৬টি চার এবং একটি ছক্কার মার ছিল। তবে একপ্রান্তে নিয়ামিত বিরতিতে উইকেট পড়লেও মুশফিক ছিলেন অবিচল। তিনি এগিয়ে যাচ্ছিলেন আরেকটি ডাবল সেঞ্চুরির দিকে। কিন্তু শেষ পর্যন্ত সেটা আর হলোনা। ১৭৫ রানে অপরাজিত থাকতে হয় তাকে। ক্যারিয়ারের চতুর্থ ডাবল সেঞ্চুরিটা করা হলোনা মুশফিকের। শেষ ব্যাটার হিসেবে এবাদত হোসেন রান আউট হয়ে ফিরলে অপর প্রান্তে অজেয় থাকা মুশফিকের নামের পাশে তখন শোভা পাচ্ছিল ১৭৫ রানের ঝলমলে ইনিংস। ৩৫৫ বলের অসাধারন এই ইনিংসটিতে চারের মার ছিল ২১টি। শ্রীলংকার পক্ষে ৬৪ রানে ৫টি উইকেট নেন কাসুন রাজিথা। ৯৩ রানে ৪টি উইকেট নিয়েছেন আশিতা ফার্নান্ডো।

জবাব দিতে নামা শ্রীলংকা শুরুটা দারুণ করেছিল। দুই ওপেনার ওশাদা ফার্নান্ডো এবং অধিনায়ক দিমুথ করুনারত্নে মিলে যোগ করেন ৯৫ রান। ৫৭ রান করা ফার্নান্ডোকে ফিরিয়ে এজুটি ভাঙেন এবাদত হোসেন। তার ৯১ বলের ইনিংসটিতে ৮টি চার এবং একটি ছক্কার মার ছিল। এরপর কুশল মেন্ডিস অবশ্য অধিনায়ককে বেশিক্ষণ সঙ্গ দিতে পারেনি। ৪৪ রানের জুটি গড়লেও ১১ রান করে ফিরেন মেন্ডিস। তাকে ফেরান সাকিব আল হাসান। তবে অধিনায়ক করুনারত্নে এগিয়ে নিচ্ছিলেন দলকে। ১২৭ বলে ৭০ রানে অপরাজিত রয়েছেন লংকান অধিনায়ক। তার ১২৭ বলের ইনিংসটিতে চারের মার ছিল ৭টি। নাইট ওয়াচম্যান হিসেবে মাঠে নামেন কাসুন রাজিথা। দ্বিতীয় দিন শেষে লংকানদের সংগ্রহ ২ উইকেটে ১৪৩ রান। এখনো ২২২ রানে পিছিয়ে আছে শ্রীলংকা। বাংলাদেশের পক্ষে একটি করে উইকেট নিয়েছেন এবাদত এবং সাকিব। আজ ম্যাচের তৃতীয় দিনে লংকানরা কতদূর যেতে পারে সেটাই এখন দেখার বিষয়।