অতীতকে মনে রাখতে হয়

মোঃ আসিফ ইকবাল | বুধবার , ২৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ at ১০:৩৯ পূর্বাহ্ণ

অতীতকে কখনো অবজ্ঞা বা অবহেলা করতে নেই। অতীতের উপর ভর করে আমাদের বর্তমান এবং ভবিষ্যৎ দাঁড়িয়ে থাকে। অতীতের অভিজ্ঞতায় আমাদের জীবনকে সামনের সাফল্য এনে দিতে সক্ষম হয়। তাই অতীত প্রত্যেক মানুষের জীবনের এক মুল্যবান সম্পদ। অতীতের নানা কর্ম, নানান সাধনা মানুষের বর্তমান সাফল্যগাথা নির্ভর করে। যার অতীত যত পরিশ্রমী ও কর্মনিষ্ঠাবান হয় তার বর্তমান এবং ভবিষ্যত তত সুন্দর এবং সাফল্যময় হয়। অতীতের রেখে আসা হাজারো স্মৃতি আমাদের জীবন পথের প্রেরণা হয়ে থাকে। আবারো অতীতের অনেক স্মৃতি আমাদের জীবনের বেদনার নীলবর্ণ হয়ে থাকে। তবুও অতীত থেকে শিক্ষা নিয়ে আমাদের সামনের দিকে এগিয়ে যেতে হয়। আপন গন্তব্যে ছুটে যেতে হয়। বিশেষ করে অতীতে যাদের অবদান আমাদের জীবনে ওতপ্রোতভাবে জড়িত থাকে তাদেরকে মনে রাখা জরুরি। কেননা অতীতের যেকোন দুঃসময়, বিপদে কিংবা নিজের প্রয়োজনে যারা নিঃস্বার্থভাবে পাশে ছিল, আর্থিক, শারীরিক কিংবা যেকোনভাবে সহযোগিতা করেছিল তাদের মনে রাখা আমাদের জীবনের নৈতিক কর্তৃব্য এবং দায়িত্ব। আর আমরা যারা মনে করি অতীত মনে রেখে কী লাভ তাদের জীবনে একসময় অতীতই কাল হয়ে দাঁড়ায়।

কেননা অতীত হচ্ছে শিকড়। আমাদের মনে রাখতে হবে অতীতের অবদান রেখে যাওয়া কিংবা পাশে থাকা মানুষগুলোকে কোনমতে ভুলে বা অবজ্ঞা করা যাবে না। কেননা তাতে করে আমাদের বর্তমানটা বেশি আনন্দদায়ক কিংবা সাফল্যময়ী উঠতে পারে না। প্রত্যেক মানুষই তার অতীতকে নিজের জন্য গৌরব কিংবা সাফল্যের সিঁড়ি মনে করে। আর সেই অতীতকে আমরা অনেকেই কোনমতেই মনে রাখতে চাই না। যার মূলে রয়েছে আমাদের মধ্যে মর্যাদার লড়াই। অনেকেই মনে করে আমরা অতীতে অনেক গরীব কিংবা মধ্যবিত্ত পরিবার থেকে বড় হয়ে উঠেছি। সেই অতীত ঘাটাঘাটি করে কী লাভ। এখন আমরা উচ্চ জায়গায় পৌঁছে গেছি। তাই অতীতকে সামনে না আনাই উত্তম। আসলে এগুলো আমাদের ভ্রান্ত ধারণা। আমাদের শিকড় বা অতীতকে অস্বীকার করে আমরা আমাদের জীবনকে কখনোই বিবেকের আয়নায় দাঁড় করাতে পারব না। কেননা অতীতের ঘাত প্রতিঘাত, শ্রম, সাধনা এবং পরিশ্রমই আমাদের বর্তমান সাফল্যের সিঁড়ি। তাই আসুন অতীতকে যত্ন করি, মর্যাদা, সম্মান করি এবং সম্ভব হলে অতীতের সেই অবদান রাখা মানুষের পাশে দাঁড়াই।

পূর্ববর্তী নিবন্ধশরৎ রানির অপরূপ সাজ
পরবর্তী নিবন্ধআজাদী আমার সাংবাদিকতার প্রথম প্রেম