নগরীর খুলশীতে সাইবার প্রতারণার অভিযোগে গ্রেপ্তার ৬৩ বিদেশি নাগরিকের প্রত্যেকের ৭ দিনের রিমান্ড চেয়ে আবেদন করা হয়েছে। গতকাল রোববার চট্টগ্রামের মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মামলার তদন্তকারী সংস্থা কাউন্টার টেরোরিজম ইউনিট এ আবেদন করে। আগামীকাল এ বিষয়ে শুনানি হবে।
নগর পুলিশের উপকমিশনার (প্রসিকিউশন) হাসান ইকবাল এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। এর আগে ১১ সেপ্টেম্বর খুলশী থানাধীন কৃষ্ণচূড়া আবাসিক এলাকার একটি আটতলা ভবনে অভিযান চালিয়ে সাইবার প্রতারণার অভিযোগে ৬৩ বিদেশি নাগরিককে গ্রেপ্তার করা হয়। তাদের কাছ থেকে ১৩৪টি মোবাইল ফোন, ৫৭টি ল্যাপটপসহ বিভিন্ন ডিভাইস উদ্ধার করা হয়। তবে তাদের কারো কাছ থেকে পাসপোর্ট পাওয়া যায়নি। গ্রেপ্তার বিদেশিদের মধ্যে লাওসের ৩৪ জন, পাকিস্তানের ২১ জন, চীনের পাঁচজন, নেপালের একজন ও ভিয়েতনামের একজন রয়েছেন। তাদের মধ্যে ২০ জন নারী। এছাড়া তাদের সঙ্গে একটি শিশুও ছিল।
পুলিশের দাবি, প্রায় দেড় মাস ধরে ওই ভবনে অবস্থান করে বিভিন্ন ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম ও ওয়েবসাইট ব্যবহার করে প্রতারণাসহ অনলাইন অপরাধ চালিয়ে আসছিলেন তারা। তবে তারা কোন ভিসায় বাংলাদেশে প্রবেশ করেছেন, সে তথ্য এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
এদিকে ৬৩ বিদেশির অবস্থানের তথ্য উদঘাটনের ঘটনায় মোহাম্মদ মহসিন নামে একজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। ঢাকায় আলমগীর নামে এক ব্যক্তির কাছে কোকেনের একটি চালান প্রেরণ করা হচ্ছে–এমন তথ্যের ভিত্তিতে ৪ সেপ্টেম্বর নগরীর দক্ষিণ খুলশীর স্টেড ফাস্ট কুরিয়ার লিমিটেডে অভিযান পরিচালনা করে পুলিশ। সেখান থেকে ১১৮ গ্রাম কোকেন জব্দ করা হয়। পাশাপাশি গ্রেপ্তার করা হয় কুরিয়ারটির সহকারী ম্যানেজার রিয়াদুল আহম্মেদকে।
আদালত সূত্র জানায়, রিয়াদুল প্রেরকের পরিচয় গোপন রেখে উক্ত কোকেনের চালান বুকিং নিয়েছিল। এ ঘটনায় দায়ের হওয়া মামলার তদন্তে মহসিনের সম্পৃক্ততা উঠে আসায় তাকে গ্রেপ্তার করে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়। এর মধ্যে পুলিশের কাছে তথ্য আসে, এই মহসিনের কাছে রয়েছে সাইবার প্রতারণার অভিযোগে গ্রেপ্তার ৬৩ বিদেশির পাসপোর্ট।
আদালত সূত্র জানায়, কোকেন চোরাচালানের মামলায় রিদুয়ানুল ও এস এম মহসিনের ৫ দিন করে রিমান্ড চেয়ে পৃথক দুটি আবেদন করা হয়েছে। আগামীকাল এ বিষয়েও শুনানি অনুষ্ঠিত হবে।
পুলিশের দাবি, মহসিনের পাঠানো ১১৮ গ্রাম কোকেনের সূত্র ধরে ওই বিদেশিদের অবস্থানের তথ্য পাওয়া যায়। খুলশীর আটতলার যে ভবনটিতে ৬৩ বিদেশি থাকতেন সেটি মহসিন ভাড়া করে দিয়েছিলেন। আদালত সূত্র জানায়, মহসিন সাইবার অপরাধ ও মাদক চোরাচালানের একজন সক্রিয় সদস্য।












