৫৬ বছরেও এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের দুর্দশা ঘুচল না

বাবুল কান্তি দাশ | সোমবার , ৫ অক্টোবর, ২০২৬ at ১০:২৪ পূর্বাহ্ণ

শিক্ষা যদি জাতির মেরুদণ্ড হয়, তাহলে শিক্ষক হলো সেই শিক্ষার মেরুদণ্ড। অথচ স্বাধীনতার ৫৬ বছর পার হলেও তাদের আর্থসামাজিক মান–মর্যাদা এখনো তলানিতে। দেশের শিক্ষা ব্যবস্থার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি হলো শিক্ষক সমাজ। অথচ দেশের বেসরকারি শিক্ষকরা আজও ন্যায্য অধিকার থেকে বঞ্চিত হয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছেন। একটি জাতির উন্নয়নে শিক্ষকদের ভূমিকা অপরিসীম। অথচ সেই শিক্ষক সমাজের একটি বড় অংশ যদি অবহেলিত ও বঞ্চিত থাকে, তবে তা জাতির ভবিষ্যতের জন্য অশনিসংকেত। সেই অশনিসংকেত তীব্র থেকে তীব্রতর হচ্ছে এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের বিবিধ বৈষম্যে রেখে। শিক্ষকদের মর্যাদা ক্রমাগত তলানিতে গিয়ে ঠেকছে।

সারা দেশে প্রায় ৩২ হাজার এমপিওভুক্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থাকলেও সেখানে মাধ্যমিক পর্যায়ের সরকারি স্কুলের সংখ্যা মাত্র ৭০০–র কাছাকাছি। সরকারি এবং বেসরকারি অর্থাৎ এমপিওভুক্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মধ্যে বেতনের যে বৈষম্য যা দীর্ঘ সময় ধরে পরিবর্তন করতে পারল না স্বাধীন দেশের সরকার সমূহ। অথচ উভয়ক্ষেত্রে একই পাঠক্রম পাঠ্যসূচী বিদ্যমান। দেশকে যে উন্নত করব তা কীভাবে সম্ভব এমনতরো বৈষম্য রেখে!

শিক্ষকরা ঐক্যবদ্ধ আন্দোলন করলে সমস্ত কিছু বাতাসের মতো উড়ে যাবে একসেকেন্ডেই। তবে শিক্ষকরা তো লাঠিয়াল হতে চায় না। শিক্ষকরা হতে চাই প্রকৃত শিক্ষক। জাতি যাদের দিকে চেয়ে আছে তাদের সন্তানদের পরিপূর্ণ শিক্ষায় শিক্ষিত করতে, আদর্শ মানুষ হিসেবে তাদের সন্তানদের গড়ে তুলতে, সুস্থ নাগরিক হিসেবে দেশের মুখ উজ্জ্বল করতে – সেই শিক্ষকরা কেন লাঠি নিয়ে নামতে হবে রাস্তায়, কেন কাদঁতে হবে রাজপথে পড়ে, কেন পুলিশের সাথে মারামারি করতে যাবে জাতির বিবেকরা? আর যদি রাজপথে যেতেই হয় তখন এ লজ্জা হবে কার? শিক্ষকদের, না সরকারের? কত অসহায় আমাদের এই শিক্ষক সমাজ! ভাবুন একবার. দেশ কীভাবে উন্নত ও সমৃদ্ধ হবে। কীভাবে ঘটবে মেধার বিকাশ। শিক্ষকেরা যাতে উৎসাহ ও স্বচ্ছন্দে কাজ করতে পারেন, সেজন্য তাদের জীবনযাত্রার মান বৃদ্ধি অত্যন্ত জরুরি। বর্তমান সরকারের নেতৃবৃন্দের নির্বাচনপূর্ব প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে যত্নবান হবেন এমনটা শিক্ষক সমাজের প্রত্যাশা। নির্ভার এবং দুশ্চিন্তা মুক্ত হয়ে শিক্ষক সমাজ সৃজনে মননে অনুশীলন অনুধ্যানে নিজেকে আরো দক্ষ ও যোগ্য করে শিক্ষার্থীদের আগামীর বিশ্বের সাথে সমমর্যাদায় উন্নীত হওয়ার লক্ষ্যে যেন কাজ করে যেতে পারেন তার জন্য বৈষম্যের অর্গল ভেঙে সমতার পথে এগিয়ে নিয়ে লক্ষ লক্ষ শিক্ষকের মনস্কামনা পূরণে বর্তমান নির্বাচিত সরকার এগিয়ে আসবেন এই কামনা।

পূর্ববর্তী নিবন্ধশিক্ষকদের প্রতি সম্মান হোক সর্বাগ্রে
পরবর্তী নিবন্ধআধুনিক জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের রূপকার ও কর্মক্ষম প্রজন্ম গঠনে নতুন দিগন্ত