লোহাগাড়া উপজেলার পুটিবিলা ইউনিয়নের বলিরজুম এলাকায় ডলুখালের পাড় কেটে দীর্ঘদিন ধরে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের অভিযোগ উঠেছে। প্রভাবশালী একটি চক্র শ্যালো মেশিন বসিয়ে প্রকাশ্যে এ কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ায় পরিবেশ, কৃষিজমি, বসতভিটা ও স্থানীয় সড়ক হুমকির মুখে পড়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রশাসনের নজরদারির অভাবে বালু উত্তোলন দিন দিন আরও বেপরোয়া হয়ে উঠছে।
পুটিবিলা ইউনিয়নের ৯ নং ওয়ার্ডের বলিরজুম এলাকার ডলুখালের পাড় থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করা হলেও তা পাশের চুনতি ইউনিয়নের পানত্রিশা এলাকা হয়ে বিভিন্ন স্থানে সরবরাহ করা হচ্ছে বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে। দীর্ঘদিন ধরে একটি প্রভাবশালী চক্র খালের পাড় কেটে শ্যালো মেশিনের মাধ্যমে প্রকাশ্যে বালু উত্তোলন করছে।
স্থানীয়দের দাবি, বালু উত্তোলনের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিরা রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিকভাবে প্রভাবশালী হওয়ায় সাধারণ মানুষ প্রকাশ্যে প্রতিবাদ করতে সাহস পান না। কেউ প্রতিবাদ করলে তাকে নানা ধরনের চাপ ও ভয়ভীতির মুখে পড়তে হয়। ফলে পরিবেশবিধ্বংসী এ কর্মকাণ্ড চললেও অনেকেই নীরব থাকতে বাধ্য হচ্ছেন। অবৈধ বালু উত্তোলনের কারণে খালপাড়ের স্বাভাবিক ভৌগোলিক গঠন মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। একসময় যেখানে ঘন সবুজ গাছপালা ও প্রাকৃতিক পরিবেশ ছিল, সেখানে এখন সৃষ্টি হয়েছে গভীর খাদ ও ক্ষতবিক্ষত ভূমি। মাটি ও বালু অপসারণের ফলে জীববৈচিত্র্য হুমকির মুখে পড়েছে এবং প্রাকৃতিক সৌন্দর্যও নষ্ট হচ্ছে।
গত বৃহস্পতিবার সরেজমিনে দেখা যায়, বলিরজুম এলাকায় ডলুখালের পাড়ে প্রায় ১০ থেকে ১২টি শ্যালো মেশিন বসিয়ে একযোগে বালু উত্তোলন করা হচ্ছে। দীর্ঘদিনের এ কার্যক্রমে খালের বিভিন্ন স্থানে বড় বড় গর্ত ও ধসের চিহ্ন দেখা গেছে। উত্তোলিত বালু পরিবহনের সুবিধার্থে খালের ওপর কাঠের অস্থায়ী সাঁকো নির্মাণ করা হয়েছে। এতে খালের স্বাভাবিক পানি প্রবাহ ব্যাহত হচ্ছে। স্থানীয়দের আশঙ্কা, বর্ষা মৌসুমে এর ফলে জলাবদ্ধতা ও ভাঙনের ঝুঁকি আরও বাড়তে পারে।
প্রতিদিন অসংখ্য বালুবাহী যানবাহন ওই সাঁকো ব্যবহার করে চুনতি ইউনিয়নের ফারেঙ্গা সড়ক দিয়ে বিভিন্ন স্থানে বালু পরিবহন করছে। বালু উত্তোলনস্থল থেকে প্রায় ৫০০ মিটার দূরে বন বিভাগের বনায়ন এলাকা রয়েছে। এ কার্যক্রম অব্যাহত থাকলে বনভূমিও ক্ষতির মুখে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।
স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে প্রকাশ্যে অবৈধ বালু উত্তোলন চললেও জড়িতদের বিরুদ্ধে দৃশ্যমান কোনো প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। ফলে বালু উত্তোলনকারীরা আরও বেপরোয়া হয়ে উঠছে। তাদের মতে, নিয়মিত নজরদারি, ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান ও কঠোর আইন প্রয়োগ ছাড়া এ কর্মকাণ্ড বন্ধ করা সম্ভব নয়।
এ বিষয়ে লোহাগাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. বায়েজীদ–বিন–আখন্দ বলেন, ডলুখালের ওই স্থানে পাড় কেটে বালু উত্তোলনের কোনো অনুমোদন নেই। অবৈধ বালু উত্তোলনের বিষয়ে প্রশাসন সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে জড়িতদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।










