ঢাকার পল্লবীতে আট বছরের শিশু রামিসা আক্তারকে ধর্ষণ ও হত্যার মামলায় আসামি সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছে আদালত। পাশাপাশি সোহেলকে ৫ লাখ টাকা এবং স্বপ্নাকে ২ লাখ টাকা অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে। তাদের স্থাবর ও অস্থাবর সম্পত্তি বিক্রি করে অর্থদণ্ডের টাকা আদায় করে ভুক্তভোগী পরিবারকে দিতে বলা হয়েছে রায়ে।
ঢাকা মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাসরুর সালেকীন গতকাল রোববার দুপুর পৌনে ১২টার দিকে জনাকীর্ণ আদালতে এ মামলার রায় ঘোষণা করেন। কাঠগড়ায় দাঁড়ানো আসামি সোহেল রানাকে সে সময় কাঁদতে দেখা যায়। আর নির্বাক স্বপ্নার চোখ দিয়ে অশ্রু ঝরছিল। রায়ের পর তাদের সাজা পরোয়ানা দিয়ে কারাগারে পাঠানো হয়। রায় ঘিরে সকাল থেকে অতিরিক্ত পুলিশ সদস্য মোতায়েন করা হয় আদালত এলাকায়।
আসামিদের সর্বোচ্চ সাজার এই রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন নিহতের পরিবার, আসামিপক্ষসহ সবাই। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাউদ্দিন আহমদ বলেছেন, রায়ে জনপ্রত্যাশা পূরণ হয়েছে। রামিসার বাবা আব্দুল হান্নান মোল্লা তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় বলেন, আলহামদুলিল্লাহ, রায়ে শতভাগ খুশি। এই রায়ে আমার মনের যে প্রত্যাশা, যে আকাঙ্ক্ষা, সেটা আমি পেয়েছি। ইনশাআল্লাহ, আমি শতভাগ আশাবাদী রায় দ্রুত কার্যকর হবে। আল্লাহ পাকের রহমত ও প্রধানমন্ত্রীর দেওয়া সময়ের মধ্যে আমরা কাঙ্ক্ষিত রায় পেয়েছি। খবর বিডিনিউজের।
রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী আজিজুর রহমান দুলু বলেন, রামিসার বাবা ন্যায়বিচার পেয়েছে, আমরা সন্তুষ্ট।
আসামিপক্ষে রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী মুসা কালিমূল্যাহও রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, আসামি সোহেল রানা দায় স্বীকার করে জবানবন্দি দিয়েছিলেন। আত্মপক্ষ সমর্থনে নিজে দোষ স্বীকার করেন। রায়ে সোহেল ও স্বপ্নার মৃত্যুদণ্ডের রায় ঘোষণা হয়েছে। ন্যায়বিচার পেয়েছি। অপরাধী অপরাধের বিচার পেয়েছে। আমি সন্তুষ্ট। সাজার বিরুদ্ধে আপিল করবেন কিনা, এমন প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, রাষ্ট্র আমাকে আসামিপক্ষে নিয়োগ দিয়েছে। রাষ্ট্র যদি চায়, আপিল করব।
এই রায়ের মধ্য দিয়ে দেশের ইতিহাসে সবচেয়ে কম সময়ে ধর্ষণ–হত্যা মামলার বিচার কাজ শেষ হওয়ার নজির তৈরি হলো। রামিসার লাশ উদ্ধারের ২০ দিনের মাথায় আলোচিত এ মামলার রায় এসেছে। দুই আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের পর সাক্ষ্য–জেরাসহ সব বিচারিক কার্যক্রম শেষ হয়েছে মাত্র পাঁচ কার্যদিবসে। বিচার সংশ্লিষ্টরা বলছেন, অতীতে এ ধরনের মামলার বিচার কাজ এত কম সময়ে সম্পন্ন হয়নি।
অবশ্য এর আগে তিন কার্যদিবসে মাদক মামলা নিষ্পত্তির নজির রয়েছে। আর গত বছর মাগুরায় আছিয়া ধর্ষণ ও হত্যা মামলার বিচার কাজ সম্পন্ন হয় ১৪ কার্যদিবসে। ওই মামলায় আসামির সর্বোচ্চ সাজা প্রাণদণ্ডের রায় আসে। সে প্রসঙ্গ ধরে অ্যাটর্নি জেনারেল রুহুল কুদ্দুস কাজল এক ব্রিফিংয়ে বলেন, এত দ্রুততম সময়ের মধ্যে এই মামলার তদন্ত প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে মামলার রায় ঘোষণা করা, সেটি আমার মনে হয় সময় বিবেচনায় সবচেয়ে দ্রুততম সময়ের মধ্যকার ঘটনা। আমার মনে হয় যে, আপনাদের মনে থাকার কথা অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময় মাগুরার আছিয়া এবং শ্রাবণ হত্যা মামলার যে বিচার, তার থেকে কম সময়ের মধ্যে বিচারটি সম্পন্ন হয়েছে। এটা বিচারিক প্রক্রিয়াটা মাইলফলক।
এরপর আসামিদের মৃত্যুদণ্ড অনুমোদন (ডেথ রেফারেন্স) ও আপিল বিভাগের শুনানি শেষে তিন মাসের মধ্যে রায় কার্যকর করা সম্ভব বলে আশাবাদী আইনমন্ত্রী আসাদুজ্জামান। রায়ের পর সচিবালয়ে তিনি বলেন, আমার প্রত্যাশা, আগামী তিন মাসের মধ্যে নিষ্পত্তি করা সম্ভব, যদি সুপ্রিম কোর্টের সংশ্লিষ্ট বেঞ্চ এটাকে প্রায়োরিটি দিয়ে শুনানি করেন। আশা করি, সুপ্রিম কোর্ট করবে। কারণ আজকের এই যে ফাস্ট ট্র্যাক করা হয়েছে, সেটা সরকার একা করেনি; মাননীয় প্রধান বিচারপতি যদি ১৫ জুন পর্যন্ত মাননীয় বিচারকদের যে ছুটি ছিল, সেই ছুটি বাতিল না করতেন তবে ফাস্ট ট্র্যাক করা সরকারের পক্ষে সম্ভব হতো না। আইনমন্ত্রী বলেন, এক সপ্তাহের মধ্যে যদি ফাইলটা আসে, আমরা যদি তার পরের সপ্তাহ থেকে এটাকে পেপার বুকে দিয়ে দিতে পারি, পেপার বুক যদি ১৫ দিনের মধ্যে আমরা শেষ করতে পারি, তারপরে যদি বিশেষ বিবেচনায় এটা শুনানি করা হয় এবং শুনানি যদি দুই সপ্তাহের মধ্যে করি, তারপর আপিল বিভাগে যাবে। এটা তিন মাসের মধ্যে করা সম্ভব বলে আমি মনে করি। তবে প্রত্যেকটা মামলায় তো আমরা এ রকম ফাস্ট ট্র্যাকে দিতে পারব না, এই কারণে আমরা একটা ওয়ে আউট বের করার চেষ্টা করছি যে, কতটা দ্রুত আমরা সেটা করতে পারি।
বীভৎস এক হত্যাকাণ্ড : পল্লবীর ১১ নম্বর সেকশন এলাকার একটি অ্যাপার্টমেন্টে পরিবারের সঙ্গে থাকত রামিসা। সে পপুলার মডেল হাই স্কুলের দ্বিতীয় শ্রেণির ছাত্রী ছিল। আসামি সোহেল ও স্বপ্না ওই বাসার অন্য ফ্ল্যাটে সাবলেট থাকতেন। গত ১৯ মে দুপুরে সোহেলদের বাসা থেকে রামিসার লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। পুলিশ সেখান থেকে স্বপ্নাকে আটক করে। পরে সন্ধ্যায় সোহেলকে নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়।
পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে স্বপ্না বলেন, রামিসাকে বাথরুমে আটকে রেখে ধর্ষণ করে মেরে ফেলেন সোহেল। লাশ গুম করার জন্য মাথা ছুরি দিয়ে কেটে আলাদা করেন এবং দুই হাত কাঁধ থেকে অর্ধ বিচ্ছিন্ন করে মৃতদেহ বাথরুম থেকে এনে শোবার ঘরের খাটের নিচে রেখে দেন। কাটা মাথা বাথরুমের বালতির মধ্যে রেখে জানালার গ্রিল কেটে সোহেল পালিয়ে যান।

রামিসার বাবা আব্দুল হান্নান মোল্লা ঘটনার দিন দুজনকে আসামি করে পল্লবী থানায় মামলা করেন। পরদিন সোহেল দোষ স্বীকার করে আদালতে জবানবন্দি দেন। পরে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়। আর স্বপ্নাকেও পাঠানো হয় কারাগারে।
ধর্ষণ ও হত্যার নৃশংস ঘটনাটি সারা দেশে ক্ষোভের জন্ম দেয়। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বাসায় গিয়ে ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যদের সমবেদনা জানান। আশ্বাস দেন বিচার দ্রুত শেষ করার। ঘটনার মাত্র পাঁচ দিনের মাথায় ২৪ মে দুপুরে সোহেল ও স্বপ্নার বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র জমা দেন তদন্ত কর্মকর্তা পল্লবী থানার এসআই অহিদুজ্জামান। সেদিনই বিচারের জন্য প্রস্তুত করে মামলার নথিপত্র ম্যাজিস্ট্রেট আদালত থেকে শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালে পাঠানো হয়।
মামলার বিচারকাজ চালিয়ে নিতে শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের অবকাশকালীন ছুটি বাতিল করা হয়। আসামিদের অব্যাহতির আবেদন নাকচ করে ১ জুন বিচারক মাসরুর সালেকীন আসামি সোহেল রানা ও স্বপ্না আক্তারের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দেন। পরদিন সকালে শুরু হয় সাক্ষ্যগ্রহণ। একদিনেই ১৬ জনের সাক্ষ্য ও জেরা শেষ হয়।
৩ জুন আসামিদের আত্মপক্ষ সমর্থনের শুনানি হয়। বিচারক সেদিন আসামিদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ এবং ১৬ জনের সাক্ষ্য পড়ে শোনান। বিচারক তাদের কাছে জানতে চান, তারা দোষী না নির্দোষ উত্তরে স্বপ্না নিজেকে নির্দোষ দাবি করেন। তবে সোহেল রানা ক্ষমা চান। বলেন, স্যার, আমি নির্দোষ। খালাস চাই। পরদিন ৪ জুন যুক্তিতর্ক উপস্থাপন করে দুই পক্ষ। রাষ্ট্রপক্ষে কৌঁসুলি আজিজুর রহমান দুলু আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে দাবি করে সর্বোচ্চ সাজা মৃত্যুদণ্ড চান। অন্যদিকে আসামিপক্ষে রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী মুসা কালিমূল্যাহ আসামিদের লঘুদণ্ড প্রার্থনা করেন।
যুক্তিতর্ক উপস্থাপনকালে সোহেল রানার দেওয়া জবানবন্দি পড়ে শোনান রাষ্ট্রপক্ষের কৌঁসুলি দুলু। সেখানে উঠে আসে, সোহেলকে পালানোর সুযোগ করে দিয়েই সেদিন রুমের দরজা খোলেন স্বপ্না।
রায়ে জনপ্রত্যাশা পূরণ হয়েছে : দ্রুত সময়ের মধ্যে শিশু রামিসা আক্তার ধর্ষণ–হত্যা মামলার রায় হওয়ায় জনপ্রত্যাশা পূরণ হয়েছে বলে মনে করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাউদ্দিন আহমদ। দুই আসামির মৃত্যুদণ্ডের রায় ঘোষণার পর গতকাল সচিবালয়ে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে তিনি বলেন, পুলিশের তৎপরতা, তদন্ত, বিচারকার্য, সম্পূর্ণ বিষয়টি একটি মাইলফলক। এভাবেই আমরা জনপ্রত্যাশা অনুযায়ী দেশে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করতে চাই।
টেলিভিশনে খবরে স্ক্রিনে রামিসা হত্যার রায়ের খবর শোনার কথা জানিয়ে তিনি বলেন, আমাদের দেশে এটা খুব চাঞ্চল্যকর একটা মামলা ছিল। আমি আজকে পুলিশ বাহিনীকে পুরস্কৃত করার ঘোষণা করছি। বেশ আলোড়ন হয়েছে এই ঘটনা। জনপ্রত্যাশ্যা অনুযায়ী অত্যন্ত কম সময়ের মধ্যে গ্রেপ্তার, ডিএনএ টেস্ট করে সংক্ষিপ্ত সময়ের মধ্যে চার্জশিট দিয়ে বিচারকার্য পরিচালনায় সহযোগিতা করেছি আমরা।
রামিসা হত্যাকাণ্ড থাই পাহাড়ের মতো ভারী হয়ে আছে : রামিসা আক্তার হত্যাকাণ্ডকে থাই পাহাড়ের মতো ভারী বলে বর্ণনা করেছেন আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান। সংসদে এক বিবৃতিতে চীন বিপ্লবের নেতা মাও জে দং–এর উক্তি উদ্ধৃত করে তিনি বলেন, রামিসার হত্যাকাণ্ড আমাদের জীবনে থাই পাহাড়ের মতো ভারী হয়ে আছে। সবচেয়ে কম সময়ে বিচারের নজির হওয়ার দিনে জাতীয় সংসদে ৩০০ বিধিতে বিবৃতি দিয়ে তিনি এ কথা বলেন।
এ রায় দেশের বিচারিক প্রক্রিয়ার মাইলফলক : ঘটনার ২০ দিনের মাথায় রামিসা আক্তার হত্যা মামলার রায় ঘোষণাকে বিচারিক প্রক্রিয়ার মাইলফলক বলছেন রাষ্ট্রের প্রধান আইন কর্মকর্তা রুহুল কুদ্দুস কাজল। গতকাল আলোচিত এ মামলার রায় ঘোষণার পর এক ব্রিফিংয়ে এসে অ্যাটর্নি জেনারেল বলেন, আমি তো মনে করি এটা আমাদের বাংলাদেশের জন্য একটা নতুন যাত্রা।
তিনি বলেন, কোনো একজন আইনজীবী রামিসার বাবাকে গিয়ে বলেছিলেন, তার যদি অতিরিক্ত কোনো আইনগত সহযোগিতা লাগে, তাহলে তারা তা দেবেন। কিন্তু রামিসার পিতা সেদিন মাননীয় প্রধানমন্ত্রীকে সম্বোধন করেছিলেন বড় ভাই হিসেবে। তিনি বলেছিলেন, তিনি আশ্বস্ত করে গেছেন, আমি আশ্বস্ত হয়েছি। আমি মনে করি আমার কন্যা হত্যার বিচার পাব। দ্রুততম সময়ের মধ্যেই এ বিচার সম্পন্ন করার ক্ষেত্রে রাষ্ট্রের যে অঙ্গীকার, রাষ্ট্র তা পালন করতে পেরেছে বলেই মনে করছেন কাজল।
তিনি বলেন, রামিসার বাবা বিচারের জন্য রাষ্ট্রের নির্বাহী বিভাগের প্রধানের ওপর আস্থা রেখেছিলেন এবং নির্বাহী বিভাগ তার ভূমিকা এবং দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করেছে, যা বাংলাদেশের জন্য একটি নতুন যাত্রা। এত দ্রুততম সময়ের মধ্যে এই মামলার তদন্ত প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে মামলার রায় ঘোষণা করা, সেটিও আমার মনে হয় সময় বিবেচনা সবচেয়ে দ্রুততম সময়ের মধ্যেকার ঘটনা।
টালবাহানা না করে দ্রুত রায় কার্যকর চান এলাকাবাসী : রামিসা আক্তার ধর্ষণ–হত্যা মামলার আসামিদের ফাঁসির রায় অনিবার্য ছিল মন্তব্য করে তা দ্রুত কার্যকরের দাবি জানিয়েছে এলাকাবাসী। রামিসা হত্যা মামলার রায়কে কেন্দ্র করে গতকাল সকাল থেকে পল্লবীতে রামিসাদের ভাড়া বাসার সামনে ভিড় করেন গণমাধ্যমকর্মীরা। রায় ঘোষণার পরপর সেখানে জড়ো হন স্থানীয়দের অনেকে। অনেককে মোবাইল ফোনে লাইভ ভিডিওতে রায়ের বিষয়ে শুনতে দেখা যায়।
রামিসার বাসা থেকে কয়েকটি ভবন পর তার স্কুল পপুলার মডেল হাই স্কুল। ঈদের ছুটির পর গতকাল খুলেছে স্কুলটি। রামিসার ক্লাসে সহপাঠীরাও স্কুলে এসেছে। কেবল নেই রামিসা। আট বছর বয়সী এই মেয়েটির ধর্ষণ–হত্যার বিচার দাবিতে স্কুল কর্তৃপক্ষ তার বাসার সামনে যে ব্যানার ঝুলিয়েছে তাতে রামিসার ছবির নিচে লেখা রামিসা আক্তার, শ্রেণী দ্বিতীয়, রোল ১।
রায় ঘোষণার পর পপুলার মডেল হাই স্কুলের প্রধান শিক্ষক সাইফুল ইসলাম বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এসে এখানে ন্যায়বিচারের আশ্বাস দিয়ে গেছেন। আজ দুই আসামির ফাঁসির রায় হওয়ায় আমরা খুশি। এখন কোনো টালবাহানা না করে এই রায় যেন দ্রুত কার্যকর করা হয়–এটাই আমাদের দাবি।
রামিসদের প্রতিবেশী ও এই হত্যা মামলার সাক্ষী জাকিরুল ইসলাম রাজু বলেন, এই নৃশংস হত্যার ঘটনায় আসামিদের ফাঁসি হওয়াটা অনিবার্য ছিল। এলাকার লোকজন যারা সেদিন ওই বাড়িতে গিয়েছিলেন, ঘটনার নৃশংসতা দেখেছেন, তারা সবাই এক বাক্যে খুনিদের ফাঁসিই চেয়েছে। এখন এলাকাবাসী আমরা সবাই চাই এই রায় যেন দ্রুত সময়ের মধ্যে কার্যকর হয়।
আসামিটার একবারও হাত কাঁপে নাই : রামিসা আক্তারকে ধর্ষণ ও হত্যা মামলার রায় শুনতে আদালতে এসেছিলেন একদল শিক্ষার্থী। তাদের একজনের জিজ্ঞাসা, আসামিটার একবারো হাত কাঁপে নাই! ঢাকার সরকারি সোহরাওয়ার্দী কলেজের এই শিক্ষার্থীরা আলোচিত এই মামলার রায় শুনতে গতকাল সকালে পুরান ঢাকার আদালতে আসেন। তারা সবাই উচ্চ মাধ্যমিকের শিক্ষার্থী।
রায় শুনতে আসা মিথিলা ভুইয়া হীরা মনি সোহরাওয়ার্দী কলেজের একাদশ শ্রেণির বাণিজ্য বিভাগের ছাত্রী। তিনি বলেন, রামিসার বয়সি একটি ছোট বোন আছে আমার। যেদিন চার্জ গঠন হয়, পুরো ঘটনা জানানো হয়, আইনজীবীরা বললেন, এ রকম এ রকমভাবে মারা হয়েছে, গলা কাটা হইছে, হাত কাটা হইছে, আরো নৃশংসভাবে মারা হয়েছে, এই আসামিটাকে দেখা দরকার ও আসলেই কী! একবারও হাত কাঁপে নাই একটা বাচ্চা মেয়েকে এভাবে মারতে?
ক্ষুব্ধ কণ্ঠে হীরা বলেন, এখন আমি ধর্ষণ নিয়ে কিছু বললে ট্রলড হব সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে। ধর্ষণ নিয়ে বিচার চাইলেও এক শ্রেণির মানুষ ট্রল করে ফেইসবুকে ছাইড়া দেয়। একজন শিক্ষার্থী হিসেবে আমি রাষ্ট্রকে বলব, রামিসার মতো সকল ধর্ষণের ঘটনায়, যেটা আলোচিত হচ্ছে, সেটা ছাড়াও প্রত্যেকটাতে যেন দ্রুত বিচার হয় এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা করা হয়। আমরা মব চাই না, সুষ্ঠু ও দ্রুত বিচার করতে হবে।












