সাতকানিয়ায় ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বী দুই প্রার্থীর সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে গুলিবিদ্ধসহ ২০ জন আহত হয়েছেন। গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুরে উপজেলার খাগরিয়া ইউনিয়নের গনি পাড়া ও ভোর বাজার এলাকায় আওয়ামী লীগের মনোনীত চেয়ারম্যান প্রার্থী আখতার হোসেন ও স্বতন্ত্র চেয়ারম্যান প্রার্থী মুহাম্মদ জসীম উদ্দিনের সমর্থকদের মধ্যে এ ঘটনা ঘটে। সাতকানিয়া সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. শিবলী নোমান ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন।
এলাকাবাসী জানান, খাগরিয়া ইউনিয়নের নতুন চর খাগরিয়া এলাকায় স্বতন্ত্র চেয়ারম্যান প্রার্থী মুহাম্মদ জসীম উদ্দিনের নির্বাচনী কার্যালয় করা না করাকে কেন্দ্র করে বুধবার সন্ধ্যায় আওয়ামী লীগ প্রার্থী ও বর্তমান চেয়ারম্যান আখতার হোসেনের কর্মী–সমর্থকদের সাথে কথা কাটাকাটি ও ধাওয়া পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। এর জেরে গতকাল সকালে উভয় পক্ষের মধ্যে দুই দফায় সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এতে অন্তত অর্ধশতাধিক রাউন্ড গুলি বিনিময় হয়। এ সময় গুলিবিদ্ধসহ উভয় পক্ষের ২০ জন আহত হয়েছে।
আহতরা হলেন মো. শাহআলম (৫৫), আহমদ হোসেন (৫০), মো. মারুফ (৯), আবু বক্কর (৩২), মো. মহিবুল্লাহ (২৯), ইসলাম খাতুন (৬০), রফিক আহমদ (৫২), ফারুখ আহমদ (৬১), মুন্সি মিয়া (৫৫), নুরুল আলম (৩০), আবছার উদ্দিন (৪৫), মো. সায়েদ (২৫), আবু সুফিয়ান (২১), মনির আহমদ (৬২), মো. মহসিন (৩০), জাসেদুল ইসলাম (২৮), মো. হাসান (৩০), রাশেদুল ইসলাম (৩৫), নুর হোসেন (৪৯) ও রাশেদুল ইসলাম (৩০)। আহতদেরকে দোহাজারী স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সসহ বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা দেয়া হয়েছে। আহতদের মধ্যে বেশ কয়েকজনকে দোহাজারী স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়েছে।
দোহাজারী স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ডা. মো. ইসহাক জানান, খাগরিয়ার ঘটনায় আহত হয়ে ১০–১২ জন রোগী হাসপাতালে এসেছিল। তাদের মধ্যে কয়েকজন ছাড়া সবাই গুলিবিদ্ধ। তাদের শরীরের বিভিন্ন স্থানে গুলি লেগেছে। গুলিবিদ্ধ সবাইকে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে চমেক হাসপাতালে প্রেরণ করেছি।
ঘটনার বিষয়ে স্বতন্ত্র চেয়ারম্যান প্রার্থী মুহাম্মদ জসীম উদ্দিন বলেন, নতুন চর খাগরিয়া এলাকায় নির্বাচনী কার্যালয় করতে বাঁধা দেয়ার ঘটনায় ওই দিন রাতেই আমি থানায় অভিযোগ দায়ের করেছি। গতকাল আমি কর্মী–সমর্থকদের সাথে নিয়ে মাইজ পাড়ায় গণসংযোগ শেষ করে গণি পাড়ায় যায়। আমরা মিছিল সহকারে চলে যাচ্ছিলাম। তখন আওয়ামী লীগের প্রার্থী আখতার হোসেনের লোকজন আমাদের উপর হামলা এবং গুলি ছুঁড়ে। পরে সেখান থেকে লোকজনকে নিয়ে ভোর বাজারের দিকে চলে আসি। ভোর বাজার এলাকায় তারা পুনরায় আমাদের উপর হামলা চালায় এবং আমাদের অফিস ভাঙচুর করে। তাদের দুই দফা হামলায় আমাদের ১২–১৪ জন নেতা–কর্মী গুলিবিদ্ধসহ আহত হয়েছেন।
আওয়ামী লীগের মনোনীত প্রার্থী ও বর্তমান চেয়ারম্যান আখতার হোসেন বলেন, স্বতন্ত্র প্রার্থী জসীম চিহ্নিত কিছু সন্ত্রাসীকে সাথে নিয়ে আমার বাড়ির সামনে গিয়ে গালিগালাজ করে এবং প্রাণে মেরে ফেলার হুমকি দিতে থাকে। এক পর্যায়ে তারা আমার বাড়ি লক্ষ্য করে ইটপাটকেল ও গুলি ছুঁড়ে। পরে স্থানীয় লোকজনের প্রতিরোধের মুখে তারা ভোর বাজারের দিকে চলে যায়। সেখানে গিয়ে আমার প্রধান নির্বাচনী কার্যালয়ে ভাঙচুর চালায় এবং আমার কর্মী সমর্থকদের লক্ষ্য করে গুলি ছুঁেড়। এতে আমার বেশ কয়েকজন কর্মী–সমর্থক গুলিবিদ্ধসহ আহত হয়েছেন।
সাতকানিয়া সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. শিবলী নোমান বলেন, দুই চেয়ারম্যান প্রার্থী ও তাদের কর্মী সমর্থকদের মধ্যে ধাওয়া–পাল্টা ধাওয়া ও ইটপাটকেল নিক্ষেপের ঘটনা ঘটেছে। এতে উভয় পক্ষের কয়েকজন কর্মী–সমর্থক আহত হয়েছে। আহতদের মধ্যে কয়েকজন জানিয়েছেন, তারা গুলিবিদ্ধ হয়েছেন। আসলে গোলাগুলির ঘটনা ঘটেছে কিনা, ঘটে থাকলে কারা গুলি করেছে সেই বিষয়গুলো আমরা তদন্ত করে দেখছি।












