সাঙ্গুর ভাঙ্গনে বিলীন হচ্ছে বান্দরবানের শস্যভাণ্ডার গোয়ালিয়াখোলা

আলাউদ্দীন শাহরিয়ার, বান্দরবান | বৃহস্পতিবার , ১৬ জুলাই, ২০২৬ at ১০:২৯ পূর্বাহ্ণ

বান্দরবানে বর্ষায় খরস্রোতা সাঙ্গু নদীর ভাঙ্গনে বিলীন হচ্ছে শস্যভাণ্ডার নামে পরিচিত গোয়ালিয়াখোলা। আটদিনের বন্যায় আঠারো শতক ফসলি জমি, খেত খামার, বসতঘর এবং কবরস্থানের জায়গা নদীগর্ভে হারিয়ে গেছে। প্রতিনিয়তই ভাঙ্গনে কৃষি নির্ভরশীল মানুষগুলোর স্বপ্নের ফসলের জমি নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যাচ্ছে। স্থানীয়রা জানান, ভাঙ্গন প্রতিরোধে এখনো নেয়া হয়নি কার্যকর কোনো ব্যবস্থা।

বান্দরবান সদর উপজেলার রেইছা সদর ইউনিয়নের এক নম্বর ওয়ার্ডে অবস্থিত গোয়ালিয়াখোলা এলাকাটি জেলার শস্যভাণ্ডার হিসেবেই পরিচিত। এ অঞ্চলের চার শতাধিক কৃষক পরিবার নদী ভাঙ্গনের মুখে পড়েছে। ইতিমধ্যে খরস্রোতা সাঙ্গু নদীর ভাঙ্গনে বিস্তীর্ণ এলাকা নদীগর্ভে হারিয়ে গেছে। ভাঙ্গনে বিলীন হয়েছে চলাচলের রাস্তা, ২০টি বসতঘর, টিউবওয়েল। সমপ্রতি বন্যা ও পাহাড়ী ঢলে নদীর পানি বেড়ে কৃষকের ২টি বসতঘর এবং খেত খামারের ঘর ভেঙে নদীতে তলিয়ে গেছে। ভাঙ্গনে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক নূর মোহাম্মদ ও রহমত আলী অভিযোগ করে বলেন, গোয়ালিয়াখোলা পুরো এলাকার মানুষজন কৃষি নির্ভর জীবিকা নির্বাহ করে। ভাঙ্গনরোধে ব্যবস্থা নিতে পানি উন্নয়ন বোর্ডসহ সরকারের সংস্থাগুলোতে ধর্না দিয়েও সুফল পাননি।

রেইছা সদর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান অংচ হ্লা মারমা বলেন, নদী ভাঙ্গনে কমছে গোয়ালিয়াখোলার ফসলি জমি। বর্ষায় ভাঙ্গন তীব্র হয়ে উঠে। প্রতিবছর বৃষ্টিতে ভাঙ্গনে বিস্তীর্ণ এলাকা নদীতে মিশে গেছে। ভাঙ্গনরোধে সরকারের উর্ধতন মহলে তদবির করেও প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করাতে পারিনি। নতুন সরকারের কাছে সাঙ্গু নদী খনন এবং ভাঙ্গন প্রতিরোধে ব্যবস্থা নেয়ার দাবি জানাচ্ছি।

বিষয়টি নিশ্চিত করে বান্দরবান পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী অপু দেব বলেন, সাঙ্গু নদীর ভাঙ্গনে বিস্তীর্ণ এলাকা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। গোয়ালিয়াখোলায় ভাঙ্গনরোধে কিছু অংশে কাজ করা হয়েছিল। সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে নতুন প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য প্রস্তাবনা পাঠানো হয়েছে। বরাদ্দ পেলে কাজ করা হবে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোতে।

পূর্ববর্তী নিবন্ধগণমাধ্যমসমূহকে নীতিমালা যথাযথভাবে মেনে চলার আহ্বান তথ্য অধিদফতরের
পরবর্তী নিবন্ধজলকদর খালকে মডেল খাল হিসেবে সংস্কার করা হবে