জুলাই সনদ ও গণভোটের রায় বাস্তবায়নে জাতীয় সংসদে বিরোধী দল হিসেবে সুযোগ সীমিত বলে জামায়াতে ইসলামীর রাজপথে নামার সিদ্ধান্ত নেওয়ার কথা বলেছেন দলের আমির ও বিরোধীদলীয় নেতা শফিকুর রহমান। গতকাল বুধবার বাজেটোত্তর এক মতবিনিময় সভায় তিনি বলেন, জনগণের দেওয়া সংস্কারের ম্যান্ডেট বাস্তবায়নে সরকারি দলের অবস্থান পরিবর্তনের ফলে রাজনৈতিক সংকট সৃষ্টি হয়েছে। সংসদের ভেতরে বক্তব্য দেওয়ার সুযোগ সীমিত হওয়ায় বিরোধী দল জনগণের কাছে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। তবে আমাদের সব কর্মসূচি হবে শান্তিপূর্ণ, নিয়মতান্ত্রিক ও অহিংস।
জাতীয় সংসদের এলডি হলে সংসদ বিষয়ক সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে বিরোধীদলীয় নেতা বিভিন্ন প্রশ্নের জবাব দেন। বিরোধী দলের কর্মসূচি নিয়ে এক প্রশ্নে বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, আমাদের আন্দোলন হবে সম্পূর্ণ শান্তিপূর্ণ, নিয়মতান্ত্রিক ও অহিংস। সংসদের ভেতরে যেমন দায়িত্বশীল আচরণ করেছি, বাইরেও গণতান্ত্রিক কর্মসূচিই পালন করব। খবর বিডিনিউজের।
৩৬ দিনের আন্দোলন কর্মসূচি নিয়ে বিরোধীদলীয় নেতার ভাষ্য, এটি সমঝোতার আন্দোলন নয়; জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠায় একটি নীতিনিষ্ঠ ও শক্তিশালী বিরোধী দলের গণতান্ত্রিক আন্দোলন। জামায়াতে ইসলামীর আমির আমির দলের ‘ছায়া মন্ত্রিসভা’ গঠন নিয়েও কথা বলেন। শফিকুর রহমান বলেন, সরকার বাজেট উপস্থাপনের আগেই বিরোধী দল একটি ছায়া বাজেট প্রকাশ করেছিল। তাদের মূল্যায়নের সঙ্গে উপস্থাপিত বাজেটের সামগ্রিক চিত্রের মিল রয়েছে। বড় বাজেট করাই সমস্যা নয়; মূল চ্যালেঞ্জ হচ্ছে বাজেট বাস্তবায়নের সক্ষমতা এবং দুর্নীতি নিয়ন্ত্রণ।
দেশের অর্থনীতিকে একটি সুদৃঢ় ভিত্তির ওপর এখনো দাঁড় করানো যায়নি তুলে ধরে বিরোধী দলের নেতা বলেন, এর কারণ কিন্তু আমাদের সম্পদের অভাব নয়; বরং মূল কারণ হচ্ছে দূরদর্শী ‘ভিশন’ ও সততার অভাব।
জামায়াত ইসলামীর আমিরের অভিযোগ, গত সাড়ে ১৫ বছরে বিপুল অর্থ বিদেশে পাচার হয়েছে। তার মতে, দুর্নীতি দমন ও বাস্তবায়ন ব্যবস্থায় মৌলিক সংস্কার ছাড়া বাজেটের সুফল সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছাবে না। শফিকুর রহমান বলেন, বাজেটে ৬১টি পণ্যের ওপর কর কমানো বা প্রত্যাহার করা হয়েছে। এখন দেখা দরকার এর সুফল বাজারে প্রতিফলিত হয় কি না। অন্যথায় জনগণের পরিবর্তে সিন্ডিকেটই লাভবান হবে।
জামায়াতের ছায়া মন্ত্রিসভা সংক্রান্ত এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ছায়া মন্ত্রিসভাকে ভবিষ্যতে একটি স্থায়ী প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামোয় রূপ দেওয়া হবে, যাতে দল যদি ক্ষমতায়ও যায় সরকারের কার্যক্রমের গঠনমূলক পর্যালোচনা অব্যাহত থাকবে। তিস্তা মহাপরিকল্পনা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, জাতীয় স্বার্থে তিস্তা মহাপরিকল্পনা দ্রুত বাস্তবায়ন করতে হবে। আমরা স্বাধীন ও সার্বভৌম পররাষ্ট্রনীতিতে বিশ্বাস করি এবং জাতীয় স্বার্থের প্রশ্নে কোনো আপস করব না।











