শিশুর ডিভাইস আসক্তি ও অভিভাবকদের করণীয়

বাবুল কান্তি দাশ | বুধবার , ২০ মে, ২০২৬ at ৬:১২ পূর্বাহ্ণ

মারাত্মক এক সংক্রমণ, ডিভাইস সংক্রমণ। অজান্তেই শিশুদের ঠেলে দিচ্ছে চরম এক বিপর্যয়ের দিকে। সময় থাকতে সাবধান না হলে পরিণামে চরম মূল্য দিতে হতে পারে। মুঠোফোনের আসক্তিতে বাবামায়ের সঙ্গও চান না অনেক শিশু। তার চাইতে পছন্দ একান্তে সময় কাটাতে। এটাকে বলা যেতে পারে স্ক্রিন অ্যাডিকসন যা বাচ্চাদের মনকে হাইজ্যাক করে নিচ্ছে। হারিয়ে যাচ্ছে শিশুর শৈশব। শিশু মনে পড়ছে নেতিবাচক প্রভাব। দেখা দিচ্ছে মানসিক সমস্যা। কোভিডপরবর্তী সময়ে খুদেরা মোবাইলের প্রতি এতটাই নির্ভরশীল হয়ে পড়েছে যে, তার কুপ্রভাব পড়ছে ওদের মানসিক ও শারীরিক স্বাস্থ্যের উপর। স্কুলের পড়াশোনাই হোক কিংবা খেলাধুলা্ত শিশুদের গোটা জগৎটাই এখন মোবাইলনির্ভর হয়ে গিয়েছে। যত দিন এগোবে ততই ‘ডিজিটাল ডিভাইসের’ ব্যবহার ক্রমশ বৃদ্ধি পাবে, তা নিয়ে সংশয় নেই। একক পরিবার এবং মাবাবার কর্ম ব্যস্ততা শিশুদের দিতে পারছে না পর্যাপ্ত সময়। আগের মতো দোলনায় দোল খাওয়ানো বা ঘুমপাড়ানির গল্প বলা এগুলো নেই বললে চলে। শিশু খাবার খেতে না চাইলে, কান্না করলে তা নিরসনে ধরিয়ে দেয় মোবাইল। যা শিশুর মোবাইলে আসক্ত হওয়ার প্রবণতা ক্রমাগত বৃদ্ধি পাচ্ছে। আমরা যদি ২০২০ ও ২০২১ এর দিকে দৃষ্টি দিই তাহলে দেখা যায়, অতিমারিতে তালাবন্ধ বিশ্বে অতি প্রয়োজনীয় কাজগুলি সচল থেকেছিল এর মাধ্যমেই।

তবে শিশুদের স্ক্রিন টাইম কমানোর জন্য অভিভাবকেরা কয়েকটি বিকল্প পথ বেছে নিতে পারেন। স্কুলের বিজ্ঞানের পাঠ্যবইয়ে নানা ধরনের বৈজ্ঞানিক পরীক্ষানিরীক্ষা থাকে, যা চাইলে বাড়িতেও করা সম্ভব। বাবামায়েরা সন্তানের জন্য হাতেকলমে এই ধরনের প্রজেক্ট তৈরি করতে পারেন। তার ফলে এক দিকে যেমন সে মোবাইল থেকে দূরে থাকবে, তেমনই পড়াশোনার প্রতিও আগ্রহ তৈরি হবে। গোয়েন্দা গল্প বা ছবি শুধুই বড়দের জন্য নয়। শিশুমনের মধ্যেও এক জন গোয়েন্দা বা অভিযাত্রী লুকিয়ে থাকে। বাড়িতে ছুটির দিনে তাদের জন্য বিভিন্ন ধাঁধা বা ‘ট্রেজার হান্ট’এর মতো খেলার আয়োজন করা যেতে পারে। প্রয়োজনে সন্তানের বন্ধুদেরও এই খেলায় অংশ নেওয়ার জন্য বাড়িতে আমন্ত্রণ জানানো যায়। তার ফলে শিশুর মস্তিষ্কের বিকাশ ঘটবে। বাড়িতে রান্নাঘরে বা বাগানের পরিচর্চায় ছোটদের অংশ নিতে বলা যেতে পারে। মোবাইল দূরে রেখে, বাড়ির এই ধরনের কাজে বড়দের সঙ্গে সে থাকলে তার মধ্যে সহজেই দায়িত্ববোধ তৈরি হবে। তবে রান্নাঘর বা বাগানের ক্ষেত্রে, ছোটরা যেন ধারালো কোনও জিনিস হাতে না নেয়, অভিভাবকদের তা খেয়াল রাখতে হবে। অল্প বয়স থেকে সন্তানকে বই পড়ানোর অভ্যাস তৈরি করা যেতে পারে। বইয়ের প্রতি আগ্রহ অনেকাংশে ছোটদের মোবাইল থেকে দূরে রাখতে পারে। একই সঙ্গে তাদের স্থানীয় গ্রন্থাগারের সদস্য করে দেওয়া যেতে পারে। তার ফলে বই পড়ার অভ্যাস টিকে থাকবে। মাঠে খেলাধুলোর পাশাপাশি বাড়িতে ছোটদের দাবা, এবং অন্যান্য বোর্ড গেমের অভ্যাস করানো যেতে পারে। প্রয়োজনে বাবামায়েরা তাদের সঙ্গে খেলায় অংশ নিতে পারেন। মোবাইলের পর্দায় ভিডিয়ো গেমের তুলনায় এগুলি শিশুর মানসিক বিকাশের ক্ষেত্রে বেশি সহায়ক।

পূর্ববর্তী নিবন্ধচাঁদ সূর্য
পরবর্তী নিবন্ধশেষ মানুষটি পৃথিবীতে একা