শিশু আয়নী খুনের মামলার বিচার শেষ হবে শীঘ্রই

সাক্ষগ্রহণ সম্পন্ন আগামী সপ্তাহে যুক্তিতর্ক, এরপর রায়

হাবীবুর রহমান | বুধবার , ৮ জুলাই, ২০২৬ at ১০:২৫ পূর্বাহ্ণ

নগরীর পাহাড়তলীতে বিড়াল ছানা দিবে বলে ডেকে নিয়ে ধর্ষণ চেষ্টা করে ব্যর্থ হয়ে ৯ বছরের শিশু আয়নী খুনের মামলার বিচার শীঘ্রই শেষ হতে যাচ্ছে। ইতিমধ্যে সাক্ষগ্রহণ কার্যক্রম সম্পন্ন করা হয়েছে। আজ বুধবার মামলার একমাত্র আসামি সবজি বিক্রেতা রুবেলকে ফৌজদারি কার্যবিধির ৩৪২ ধারায় (আত্মপক্ষ সমর্থন) পরীক্ষা করা হবে। এরপর আগামী সপ্তাহে যুক্তিতর্ক কার্যক্রম শেষ করে রায় ঘোষণা করা হবে।

২০২৩ সালের ২১ মার্চ নিখোঁজ হয় শিশু আয়নী। অনেক খোঁজাখুঁজির পরও তাকে কোথাও পাওয়া যায়নি। একপর্যায়ে তার মা পাহাড়তলী থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন। উক্ত জিডি তদন্তে আয়নী নিখোঁজ হওয়ার ঘটনায় স্থানীয় সবজি বিক্রেতা মো. রুবেলের সম্পৃক্তা উঠে আসে। একপর্যায়ে তাকে গ্রেপ্তার করা হয় এবং তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে নিখোঁজের ৯ দিন পর নগরীর পাহাড়তলী থানার মুরগী ফার্ম এলাকার একটি ডোবা থেকে আয়নীর গলিত মরদেহ উদ্ধার করা হয়। সেই সাথে আয়নীর গায়ের একটি গেঞ্জি, এক জোড়া স্যান্ডেল, একটি কালো পায়জামা ও একটি গাড় নেভী ব্লু রংয়ের হিজাবও উদ্ধার করা হয়। মুরগির ফার্মের পাশের কাজির দিঘী এলাকাতে মায়ের সাথে বসবাস করতেন ৪র্থ শ্রেণী পড়ুয়া আয়নী। অভিযুক্ত রুবেলেও একই এলাকায় বসবাস করে ভ্যানে করে তরকারি বিক্রি করতেন। গ্রেপ্তার পরবর্তী মো. রুবেল ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় ঘটনার দায় স্বীকার করে জবানবন্দি দেন।

আদালতসূত্র জানায়, আয়নীর লাশ উদ্ধার পরবর্তী তার মা চট্টগ্রামের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল২ এ একটি নালিশি মামলার আবেদন করেন। আদালত তখন অভিযোগটিকে এফআইআর হিসেবে ট্রিট করার জন্য পাহাড়তলী থানা পুলিশকে নির্দেশ দেন। তদন্ত শেষে পুলিশ মো. রুবেলের বিরুদ্ধে অপহরণ, ধর্ষণ, খুন ও লাশ গুমের অভিযোগে চার্জশিট দাখিল করেন। পরে আদালত এসব অভিযোগ আমলে নিয়ে তার বিরুদ্ধে চার্জগঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দেন।

চট্টগ্রামের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল২ এ গুরুত্বপূর্ণ এ মামলাটির বিচার কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। আসামি মো. রুবেল গ্রেপ্তার পরবর্তী সময় থেকে এখন পর্যন্ত চট্টগ্রাম কারাগারে বন্দি আছেন। আদালতসূত্র আরো জানায়, অপহরণ, ধর্ষণ, খুন ও লাশ গুমের অপরাধ আমলে নিয়ে রুবেলের বিরুদ্ধে বিচার শুরু হলেও পরবর্তীতে সেখানে পরিবর্তন আনা হয়। আসামির জবানবন্দি থেকে শুরু করে সংশ্লিষ্ট সব নথিপত্রে ধর্ষণের অভিযোগটি সেভাবে প্রমাণিত হয়নি। যার কারণে আদালত অপহরণ, ধর্ষণ চেষ্টা, খুন ও লাশ গুমের ধারায় রুবেলের বিরুদ্ধে বিচারকার্য এগিয়ে নেয়।

অপহরণ, ধর্ষণ, খুন ও লাশ গুমের অভিযোগে চার্জশিট দাখিল, চার্জগঠন হলেও পরবর্তীতে সেখানে পরিবর্তন এনে অপহরণ, ধর্ষণ চেষ্টা, খুন ও লাশ গুমের অভিযোগে কেন বিচারকার্য এগিয়ে নেওয়া হলোসে বিষয়ে জানতে চাইলে ট্রাইব্যুনালের পিপি মাহমুদউল আলম চৌধুরী (মারুফ) গতকাল দৈনিক আজাদীকে বলেছেন, মামলার সব নথি বিশ্লেষণ করে আদালতের কাছে মনে হয়েছে যে, এখানে ধর্ষণের ঘটনা ঘটেনি। প্রকৃতপক্ষে ধর্ষণ চেষ্টায় ব্যর্থ হয়ে আয়নীকে খুনে করা হয়েছিল। পিপি বলেন, আয়নী খুনের মামলায় ২৪ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য রেকর্ড করা হয়েছে। বাদীবিবাদী পক্ষের জেরাও শেষ। আগামীকাল (আজ) আসামিকে পরীক্ষা করা হবে। এরপর সামনের কয়েকদিনের মধ্যে যুক্তিতর্ক কার্যক্রম শেষ করে রায়ের জন্য দিন ধার্য্য করবেন বিচারক। রাষ্ট্রপক্ষ এ মামলায় আসামির সর্বোচ্চ শাস্তি প্রত্যাশা করছে বলেও জানান তিনি। আয়নীর মা গরীব ও অসহায় উল্লেখ করে পিপি বলেন, শিশুটির মা প্রতি ধার্য্য তারিখে আদালতে চলে আসেন। যখনই কথা হয়, কান্না করতেই থাকেন। মেয়ের খুনির বিচার দ্রুত দেখতে চান তিনি। আদালতসূত্র জানায়, পূর্ব পরিচয়ের সূত্র ধরে রুবেলের কাছে আয়নী একটি বিড়ালছানার আবদার করেছিল। রুবেলও তাকে সে বিষয়ে আশ্বস্ত করে। একপর্যায়ে ঘটনার দিন রুবেল তার ফুফুর খালি বাসায় ডেকে নিয়ে গিয়ে আয়নীকে ধর্ষণ চেষ্টা করে। এতে ব্যর্থ হয়ে তিনি শিশুটিকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করেন। পরবর্তীতে গুমের উদ্দেশ্যে বস্তায় ভরে লাশ ডোবায় ফেলে দেওয়া হয়। নিজের তরকারির ভ্যানে করেই আয়নীর লাশ ডোবা পর্যন্ত নিয়ে গিয়েছিলেন রুবেল।

পূর্ববর্তী নিবন্ধপরীক্ষায় ডিজিটাল কারসাজিতে পাঁচ বছরের কারাদণ্ড
পরবর্তী নিবন্ধকর্ণফুলী পানি বিদ্যুৎকেন্দ্রে উৎপাদন বেড়েছে ১৩০ শতাংশ