সিটি মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন বলেছেন, চট্টগ্রামে মৌসুমের রেকর্ড পরিমাণ বৃষ্টিপাত হয়েছে। এই বৃষ্টির কারণে যাতে নগরবাসী দীর্ঘ সময় জলাবদ্ধতার দুর্ভোগে না পড়েন, সে লক্ষ্যে আমরা বিভিন্ন সংস্থার সমন্বয়ে প্রয়োজনীয় কার্যক্রম বাস্তবায়ন করছি।
গতকাল মঙ্গলবার নগরের বিভিন্ন জলাবদ্ধতাপ্রবণ এলাকা পরিদর্শনে গিয়ে তিনি এসব কথা বলেন। এদিন মেয়র সকাল থেকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল এলাকা, কাতালগঞ্জ, টাইগারপাস, পাঁচলাইশসহ বিভিন্ন জলাবদ্ধতাপ্রবণ ও পাহাড়ঘেরা এলাকা পরিদর্শন করেন এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা ও সংস্থাগুলোকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেন। পরিদর্শনকালে ভারী বর্ষণে লালখান বাজার এলাকায় কয়েকটি বড় গাছ উপড়ে পড়া এবং এয়ারপোর্ট রোডের একটি অংশ ধসে যাওয়ার বিষয়েও দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেন তিনি।
পরিদর্শনকালে ডা. শাহাদাত বলেন, বর্তমানে নগরের জলাবদ্ধতা নিরসন প্রকল্পের প্রায় ৭০ শতাংশ কাজ সম্পন্ন হয়েছে এবং এর সুফল ইতোমধ্যে নগরবাসী পাচ্ছেন। তবে অবশিষ্ট প্রায় ৩০ শতাংশ কাজ, বিশেষ করে হিজড়া খাল, জামালখান খাল ও গুলজার খালের কাজ শেষ না হওয়ায় কয়েকটি এলাকায় এখনো জলাবদ্ধতার সমস্যা রয়ে গেছে।
তিনি বলেন, ৪০টি খালের উন্নয়নে নতুন ডিপিপি বাস্তবায়িত হলে ভবিষ্যতে চট্টগ্রামের জলাবদ্ধতা প্রায় শূন্যের কোঠায় নেমে আসবে বলে আমরা আশা করছি। কাতালগঞ্জ ও পাঁচলাইশ আবাসিক এলাকার পানি মূলত হিজড়া খাল দিয়ে নিষ্কাশিত হয়। কিন্তু এলাকাটি ভৌগোলিকভাবে নিচু হওয়ায় ভারী বর্ষণে সাময়িকভাবে পানি জমে যায়। তবে বৃষ্টি বন্ধ হওয়ার পর সাধারণত এক থেকে দেড় ঘণ্টার মধ্যে পানি নেমে যায়।
তিনি বলেন, হিজড়া খালের কাজ সেনাবাহিনীর ৩৪ ইঞ্জিনিয়ারিং ব্রিগেড বাস্তবায়ন করছে। বর্ষা শুরুর আগে কাজের একটি অংশ স্থগিত রাখতে হয়েছে। বর্ষা শেষে কাজ শেষ হলে এই এলাকার জলাবদ্ধতার সমস্যাও অনেকাংশে দূর হবে।
শাহাদাত বলেন, বহদ্দারহাট, মুরাদপুর, মির্জাপুর, বৃহত্তর বাকলিয়া, চকবাজার, কোতোয়ালী, দেওয়ানহাট, লালখান বাজার, আকবর শাহ, হালিশহর ও বন্দর এলাকায় এবার উল্লেখযোগ্য জলাবদ্ধতা দেখা যায়নি, যা চলমান উন্নয়নকাজের ইতিবাচক ফলাফল।
মেয়র বলেন, আগ্রাবাদ কমার্স কলেজের সামনে গুলজার খালের কিছু কাজ এখনো চলমান রয়েছে। সেটি শেষ হলে আগ্রাবাদ বাণিজ্যিক এলাকাতেও জলাবদ্ধতা অনেকাংশে কমে আসবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
পাঁচলাইশ–কাতালগঞ্জ এলাকায় যত্রতত্র বর্জ্য ফেলার কারণে জলাবদ্ধতা আরো প্রকট হচ্ছে উল্লেখ করে মেয়র বলেন, কিছু ক্লাব, কমিউনিটি সেন্টার ও ইভেন্ট ম্যানেজমেন্ট প্রতিষ্ঠান অনুষ্ঠান শেষে ব্যবহৃত ককশিট, প্লাস্টিক ও অন্যান্য অপচনশীল বর্জ্য নালা–নর্দমায় ফেলে দিচ্ছে। এসব বর্জ্য পানিতে না মিশে ড্রেনেজ ব্যবস্থাকে বাধাগ্রস্ত করছে।
তিনি বলেন, নালা পরিষ্কারের সময় টুকরিভর্তি পলিথিন, প্লাস্টিক ও ককশিট পাওয়া গেছে। এগুলো পানি চলাচলে বড় ধরনের প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করছে। যারা এভাবে বর্জ্য ফেলছে, তাদের বিরুদ্ধে ম্যাজিস্ট্রেটের মাধ্যমে অভিযান পরিচালনা করা হবে এবং আইন অনুযায়ী জরিমানা ও শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তিনি বলেন, জলাবদ্ধতা নিরসনে শুধু অবকাঠামোগত উন্নয়ন নয়, নাগরিকদের দায়িত্বশীল আচরণও সমান গুরুত্বপূর্ণ।











