শিক্ষার্থীদের সচেতনতাই পারে সড়ক দুর্ঘটনা কমাতে

‘নিরাপদ সড়ক চাই’ এর পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে চসিক প্রশাসক

| মঙ্গলবার , ৩ নভেম্বর, ২০২৬ at ১০:৪৭ পূর্বাহ্ণ

সড়ক দুর্ঘটনা প্রতিরোধে শিক্ষার্থীদের সচেতনতা বৃদ্ধি, ট্রাফিক আইন মেনে চলা এবং সামাজিক দায়িত্ববোধ জাগ্রত করার আহ্বান জানিয়েছেন চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক ডা. শাহাদাত হোসেন।

তিনি বলেন, সামান্য সচেতনতা ও সতর্কতা অনেক মানুষের জীবন বাঁচাতে পারে। নিরাপদ সড়ক নিশ্চিত করতে নিজের পাশাপাশি অন্যের নিরাপত্তার প্রতিও সবাইকে দায়িত্বশীল হতে হবে।

গতকাল সোমবার ‘নিরাপদ সড়ক চাই’ চট্টগ্রাম মহানগর কমিটির আয়োজনে স্কুল ও কলেজ শিক্ষার্থীদের রচনা প্রতিযোগিতার পুরস্কার বিতরণী ও শিক্ষার্থী সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। নগরীর আইয়ুব বিবি সিটি কর্পোরেশন স্কুল অ্যান্ড কলেজ অডিটোরিয়াম প্রাঙ্গণে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। ডায়মন্ড সিমেন্ট লিমিটেডের চেয়ারম্যান আজিম আলীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের প্রধান শিক্ষা কর্মকর্তা ড. কিসিঞ্জার চাকমা, কর্ণফুলী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. রিদুয়ানুল ইসলাম, কর্ণফুলী থানার ওসি নুর মোহাম্মদ, আইয়ুব বিবি সিটি কর্পোরেশন স্কুল অ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষ মোহাম্মদ মাহফুজুল রহমান এবং নিরাপদ সড়ক চাই চট্টগ্রাম মহানগর কমিটির সাধারণ সম্পাদক শফিক আহমেদ সাজীব।

প্রধান অতিথি ডা. শাহাদাত হোসেন বলেন, ডান–বাম ভালোভাবে দেখে এবং যানবাহনের গতিবিধি বুঝে নিরাপদ স্থানে রাস্তা পার হতে হবে। ইসলামে রাস্তার হক আদায়ের কথা বলা হয়েছে।

সড়ক ব্যবহারের ক্ষেত্রেও প্রত্যেক নাগরিকের কিছু দায়িত্ব ও কর্তব্য রয়েছে। তিনি বলেন, ফুটপাত পথচারীদের চলাচলের জন্য। কেউ ফুটপাত দখল করে মানুষের চলাচলে বাধা সৃষ্টি করলে তার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করতে হবে। রাস্তায় কোনো প্রতিবন্ধকতা কিংবা ক্ষতিকর বস্তু পড়ে থাকতে দেখলে তা যথাস্থানে সরিয়ে রাখতে হবে অথবা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানাতে হবে। অন্যের চলাচলে বিঘ্ন সৃষ্টি করে এমন কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে সবাইকে সচেতন হতে হবে। সড়ক দুর্ঘটনার অন্যতম কারণ হিসেবে মোবাইল ফোনের অসতর্ক ব্যবহার উল্লেখ করে তিনি বলেন, অনেক শিক্ষার্থী রাস্তা পার হওয়ার সময় মোবাইল ফোনে কথা বলে কিংবা ভিডিও দেখে। আবার অনেকে দলবেঁধে গল্প করতে করতে রাস্তা পার হয়। এতে আশপাশের যানবাহনের প্রতি মনোযোগ থাকে না এবং দুর্ঘটনার ঝুঁকি বেড়ে যায়। যানবাহন চালকদেরও দায়িত্বশীলতার সঙ্গে গাড়ি চালাতে হবে।

নগরীর সড়ক নিরাপত্তা অবকাঠামো উন্নয়নে সিটি কর্পোরেশনের বিভিন্ন উদ্যোগ তুলে ধরে তিনি বলেন, শিক্ষার্থীদের নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত করতে ফুটওভারব্রিজ ও জেব্রা ক্রসিংয়ের প্রয়োজনীয়তা রয়েছে। নগরীর প্রায় ২৮টি গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক (এআই) ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা চালুর পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে আগামী এক মাসের মধ্যে দুটি স্থানে এ ব্যবস্থা চালুর উদ্যোগ রয়েছে। পাশাপাশি জেব্রা ক্রসিং স্থাপন এবং রেলক্রসিং এলাকায় যানজট ও দুর্ঘটনা কমাতে ওভারপাস নির্মাণের পরিকল্পনাও রয়েছে।

অনুষ্ঠানে রচনা প্রতিযোগিতায় বিজয়ী শিক্ষার্থীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেওয়া হয়। বক্তারা নিরাপদ সড়ক প্রতিষ্ঠায় শিক্ষার্থী, শিক্ষক, অভিভাবক, চালক ও সাধারণ জনগণকে সম্মিলিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানান। প্রেস বিজ্ঞপ্তি।

পূর্ববর্তী নিবন্ধশিক্ষার্থীদের বাংলাদেশের সংবিধান সম্পর্কে সামগ্রিক ধারণা থাকতে হবে
পরবর্তী নিবন্ধএপিএল ড্রাফটে দুই ক্যাটাগরিতে ১০ বাংলাদেশি ক্রিকেটার