আমাদের সমাজ গঠনে শিক্ষকের ভূমিকা অপরিসীম। কিন্তু প্রায়ই আমরা ভুলে যাই যে, একজন শিক্ষকও আর দশজন সাধারণ মানুষের মতো রক্ত–মাংসের গড়া একজন মানুষ। তাঁর পেশাগত দায়িত্বের বাইরেও একটি ব্যক্তিগত জীবন ও অনুভূতি রয়েছে বোর্ডে চক–ডাস্টারের আঁচড় টানার বাইরেও তাঁর জীবনে হাসার অধিকার রয়েছে, গান গাওয়ার আনন্দ থাকতে পারে, ভালোবাসার অনুভূতি থাকতে পারে। সমাজ বা নিয়মের গণ্ডির মধ্যে থেকে শালীনভাবে নিজেকে প্রকাশ করার পূর্ণ অধিকার তাঁরও রয়েছে।একজন শিক্ষকের ব্যক্তিগত জীবন বা তাঁর শখ ও ভালোলাগাকে নিয়ে উপহাস করা মানে শিক্ষক সমাজকেই অসম্মান করা। সমালোচনা আর বিদ্রূপের মধ্যে সূক্ষ্ম একটি রেখা রয়েছে। সমালোচনা ভুল শুধরে সামনে এগিয়ে যাওয়ার পথ দেখায়, আর বিদ্রূপ মানুষকে ভেতরের দিক থেকে ভেঙে চুরমার করে দেয়। অন্যের মতের ভিন্নতা কিংবা ব্যক্তিগত প্রকাশভঙ্গীকে ব্যঙ্গ না করে, তাকে শ্রদ্ধা করার মানসিকতা তৈরি করতে হবে। সমাজকে সুন্দর ও বাসযোগ্য করে তুলতে হলে পারস্পরিক শ্রদ্ধা এবং সহমর্মিতার বিকল্প নেই।
আমরা দায়িত্বশীল মানুষ হিসেবে প্রত্যেকেই সচেতন হই, অন্যের অনুভূতির প্রতি শ্রদ্ধাশীল থাকি। বিদ্রূপের সংস্কৃতি থেকে বেরিয়ে এসে পারস্পরিক সম্মান ও মর্যাদাবোধকে আমাদের জীবনের মূল মন্ত্র হিসেবে গ্রহণ করি। কারণ বিদ্রূপ নয়, সম্মানই হোক আমাদের সংস্কৃতির ভূষণ।
পেশা যাই হোক না কেন, তোমার পরিচয় যেন তোমার নিজের তৈরি হয়। সমাজের নির্ধারিত ছাঁচে নিজেকে ঢালাই করতে করতে তুমি যেন হারিয়ে না ফেলো তোমার আসল সত্তা। তোমার চিন্তার স্বাধীনতা হোক মেঘহীন দুপুরের রোদের মতো স্বচ্ছ, তোমার চলাফেরা হোক নির্ভীক। কেউ যেন তোমার ডানা ছাঁটার অধিকার না রাখে, কেউ যেন ফিতা দিয়ে মেপে দিতে না পারে তোমার স্বপ্নের উচ্চতা।
যে সমাজে তুমি পথ চলবে, সে সমাজ হোক নিরাপদ ও আস্থার। নির্ভয়ে তোমার গন্তব্যে পৌঁছানোর অধিকার থাকুক তোমারই হাতে। তুমি মানুষ, তুমি স্বাধীন। তোমার মুক্ত জীবনের আলোয় উদ্ভাসিত হোক এই বসুন্ধরা।












