সেঞ্চুরি করা নাজমুল হোসেন শান্তর সেই ক্ষ্যাপাটে উদযাপন গতকাল দেখতে পাননি চট্টগ্রামের দর্শকরা। প্রচণ্ড গরমে ১৭৭ মিনিট ব্যাট করে সেই খ্যাপাটে উদযাপনের প্রাণশক্তি হয়তো তার ছিল না। সেঞ্চুরির পর তার সবকিছুতেই ছিল ক্লান্তির ছাপ। ক্রিজে যখন যান তখন ২.১ ওভারেই তখন ড্র্রেসিং রুমে ফিরে গেছেন দুই ওপেনার সাইফ হাসান ও তানজিদ হাসান। একটু পর সৌম্য সরকারকেও হারিয়ে টালমাটাল দল। দলের সিরিজ জয়ের আশাও তখন হাঁসফাঁস করছে। সেখান থেকেই তিনি হয়ে উঠলেন দলের ভরসা। পরিস্থিতির চাপকে আড়াল করলেন চওড়া ব্যাটে। লিটন কুমার দাসকে নিয়ে গড়লেন রেকর্ড জুটি। শুধু তো নিউজিল্যান্ডের বোলাররাই নয়, আবহাওয়াও ছিল প্রতিপক্ষ। কিন্তু সব হাল না ছেড়ে, সবকিছুকে হারিয়ে ঠিকই তিনি পৌঁছে গেলেন শতরানে। সেঞ্চুরি ছোঁয়ার পর দ্রুত রানের দাবি মেটাতে গিয়ে আউট হয়েছেন বটে। তবে চট্টগ্রামে গতকাল ৯ চার ও ২ ছক্কায় ১১৯ বলে ১০৫ রানের ইনিংসটিই জিইয়ে রাখে বাংলাদেশের সিরিজ জয়ের আশা। আগের ম্যাচেই ফিফটি করার পর তাকে মাঠ ছাড়তে হয়েছিল প্রচণ্ড গরমের কারণে ক্র্যাম্প করায়। সেই শঙ্কা এ দিনও যে ছিল না, তা নয়। তবে এবার তিনি কন্ডিশনের কাছে হার মানেননি। বরং ফিফটির পর আবির্ভূত হন সেরা ছন্দে। গোটা ইনিংসে সিঙ্গল নিয়েছেন ৪২টি। এটিও ফুটিয়ে তুলছে তার ফিটনেস। সিরিজ শুরুর আগে অবশ্য এই ছন্দ ছিল না তার ব্যাটে। গত বছর বিতর্কিতভাবে তাকে ওয়ানডে নেতৃত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়ার পর থেকে রানও যেন হারিয়ে গিয়েছিল। টানা ১২ ইনিংসে ফিফটি ছিল না। এই সিরিজের প্রথম ম্যাচে বিদায় নেন শূন্য রানে। বাংলাদেশ দলে যথেষ্ট বিকল্প নেই বলে তার জায়গা নিয়ে প্রশ্ন উচ্চকিত হয়নি। অবশেষে ১৩ ইনিংসের খরা কাটালেন সিরিজের দ্বিতীয় ম্যাচে। ৫ চার ও ২ ছক্কায় ৫০ রানের ইনিংসটি পুরোপুরি পূর্ণতা পেল না ক্র্যাম্প নিয়ে মাঠ ছাড়ায়। শেষ ম্যাচে দলের যা অবস্থা ছিল, তাতে শান্তর ব্যাট স্রেফ ফিফটিই যথেষ্ট ছিল না। ৩২ রানে প্রথম ৩ ব্যাটারকে হারায় দল। রিশাদ হোসেন ও তাসকিন আহমেদ একাদশে না থাকায় এই ম্যাচে দলের ব্যাটিংয়ের লেজ অনেক লম্বা। সাত নম্বরের পর ব্যাটসম্যানই নেই বলতে গেলে। শান্তর ব্যাটে একটি বড় ইনিংস তাই জরুরি ছিল। প্রয়োজন ছিল একজন সঙ্গীরও। সেখান হাত বাড়িয়ে দিলেন লিটন। দুজনে মিলে এগিয়ে নিলেন দলকে। শান্ত যে এ দিন ভালো করতে পারেন, আভাসটা মিলেছিল শুরুতেই। ক্রিজে যাওয়ার পরপরই দারুণ এক অন ড্রাইভে চার মারেন তিনি ন্যাথান স্মিথকে। সাধারণত ইনিংসের শুরুর দিকে যখন তিনি এরকম অন ড্রাইভ বা স্ট্রেট ড্রাইভ খেলেন, ধরে নেওয়া যায় তিনি ভালো অনুভব করছেন। সময়ের সঙ্গে সেটিই প্রমাণ হতে থাকে। টানা দ্বিতীয় ফিফটিতে পা রাখেন তিনি ৭০ বলে। অপরপ্রান্তে ঠাণ্ডা মাথার ব্যাটিংয়ে ১৯ ইনিংসের খরা কাটিয়ে লিটন ফিফটি করেন ৭১ বলে। দুজনের জুটি শতরান ছাড়িয়ে একসময় পেরিয়ে যায় দেড়শও। ৯১ বলে ৭৬ রান করে লিটন বোল্ড হন লেনঙের বলে। জুটি থামে ১৬০ রানে, নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে চতুর্থ উইকেটে যা বাংলাদেশের সর্বোচ্চ। শান্ত তখন খেলছেন ৯২ রানে। সঙ্গীকে হারালেও তিনি মনোবল হারাননি। একটু পরই পৌঁছে যান শতরানে। ফিফটি থেকে সেঞ্চুরি পর্যন্ত যেতে বল লাগে ৪৪টি। তার চতুর্থ ওয়ানডে সেঞ্চুরি এটি। প্রথম ওয়ানডে সেঞ্চুরির স্বাদ পেয়েছিলেন তিনি ২০২০ সালের ১ মার্চ। সেদিন থেকে এ দিন পর্যন্ত বাংলাদেশের হয়ে ৪টি সেঞ্চুরিই সর্বোচ্চ। শান্তর পাশাপাশি যা করেছেন লিটনও। শতরানের একটু পর ছক্কার চেষ্টায় সীমানায় ধরা পড়ে শেষ হয় তার ইনিংস। ১৮৬ মিনিটের নায়োকোচিত লড়াই শেষে তিনি মাঠ ছাড়েন মাথা উঁচু করে। শুরুর সেই অস্বস্তি কাটিয়ে দল তখন স্বস্তির ঠিকানায়। শেষ দিকে দ্রুত রান তুলতে না পারায় শেষ পর্যন্ত আরও বড় হয়নি স্কোর।












