বান্দরবানের লামা ও কক্সবাজারের চকরিয়ায় পাহাড় ধসে ৭ জনের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে লামায় মারা গেছে শিশুসহ দুই পরিবারের ৫ জন। চকরিয়ার বরইতলী ইউনিয়নের ডেবলতলী এলাকায় বসতবাড়ির ওপর পাহাড় ধসে মারা গেছে দুই শিশু ভাই–বোন।
আমাদের বান্দরবান প্রতিনিধি জানান, বৃহস্পতিবার ভোররাতে লামা উপজেলার আজিজনগর ইউনিয়নে ভয়াবহ পাহাড়ধসের ঘটনা ঘটে। এ সময় নিহতরা হলেন– আজিজ নগর ইউনিয়নের মিশন পাড়ার বাসিন্দা মোঃ ইউনুস (২৮), তার স্ত্রী রানু আক্তার (২২), ছেলে মোঃ সোলেমান (৪) এবং মো জুয়েল (৩৪), তার স্ত্রী কুলছুমা আক্তার (২৫)। এর মধ্যে পাগলাছড়া এলাকায় পাহাড় ধসে একই পরিবারের তিনজন নিহত হয়। এছাড়াও একই এলাকায় পাহাড় ধসে বসতঘরের উপর পড়ে স্বামী–স্ত্রী দুজন নিহত হয়। পরে খবর পেয়ে স্থানীয় বাসিন্দা, ফায়ার সার্ভিস ও পুলিশ সদস্যরা উদ্ধার অভিযান চালিয়ে পাঁচজনের মরদেহ উদ্ধার করেন। ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন বান্দরবানের পুলিশ সুপার মোঃ ওহাবুল ইসলাম খন্দকার।
আমাদের চকরিয়া প্রতিনিধি জানান, এদিকে বৃহস্পতিবার ভোররাতে চকরিয়ার বরইতলী ইউনিয়নের সাত নম্বর ওয়ার্ডের মোহছেনিয়া কাটার ডেবলতলী এলাকায় বসতবাড়ির ওপর পাহাড় ধসে ভাই–বোনের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। এ সময় এক নারীও আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। এ সময় পরিবারের অন্য সদস্যরা জেগে ওঠে স্থানীয়দের সহায়তায় মাটি সরিয়ে দুইজনের লাশ উদ্ধার করে। নিহত দুই শিশুর নাম রুমি আক্তার (১৫) ও মোহাম্মদ তৌসিফ (১০)। রুমি মোহছেনিয়া কাটা গ্রামের মোহাম্মদ কাজলের কন্যা এবং বরইতলী দাখিল মাদরাসার দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী। তৌসিফ আবদুল মজিদের পুত্র এবং স্থানীয় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের চতুর্থ শ্রেণির শিক্ষার্থী। নিহতরা সম্পর্কে আপন চাচাতো–জেঠাতো ভাই–বোন। বসত বাড়ির ওপর ঘুমন্ত অবস্থায় পাহাড় ধ্বসের ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন বরইতলী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ ছালেকুজ্জামান।
এদিকে অব্যাহত ভারী বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে বান্দরবানে বন্যা পরিস্থিতি আরও অবনতি হয়েছে। পানি বন্দি হয়ে পড়েছে জেলায় পঞ্চাশ হাজারেও বেশি মানুষ। ভারী বর্ষণে জেলার বান্দরবান–চট্টগ্রাম প্রধান সড়ক‘সহ সাতটি উপজেলার অভ্যন্তরীণ সড়কগুলোতে বিভিন্ন স্থানে ছোট–বড় পাহাড় ধসে পড়েছে। সড়কে যানবাহন চলাচল ব্যাহত হচ্ছে পাহাড় ধসে সড়কের মাটি জমে যাওয়ায়। বৃহস্পতিবার সকাল থেকে বান্দরবান–কেরানীহাট প্রধান সড়কের তিনটি স্থানে এবং বান্দরবান–রাঙামাটি সড়কের কয়েকটি স্থানে বন্যার পানিতে সড়ক তলিয়ে যাওয়ায় বান্দরবানের সঙ্গে সারাদেশের সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে।
এদিকে অব্যাহত বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে সাঙ্গু, মাতামুহুরি ও বাকখালী তিনটি নদীর পানি বিপদসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে বলে জানিয়েছেন বান্দরবান পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী অপু দেব।
অপরদিকে কয়েকদিনের লাগাতার ভারি বর্ষণ ও মাতামুহুরী নদীতে নেমে আসা উজানের ঢলের পানিতে থৈ থৈ করছে কক্সবাজারের চকরিয়া, পেকুয়া ও মাতামুহুরী উপজেলা। এই তিন উপজেলার অন্তত সাত লাখ মানুষ পানিবন্দি অবস্থায় মানবেতর জীবন–যাপন করছেন। তিনদিন ধরে কয়েকফুট পানির নিচে তলিয়ে থাকায় উপজেলা সদরের সঙ্গে সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন রয়েছে অভ্যন্তরীণ সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থা। অঘোষিতভাবে বন্ধ হয়ে পড়েছে তিন উপজেলার তিন শতাধিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানও। হাজারো বসতবাড়ির ভেতর কয়েকফুট পানি উঠায় তলিয়ে গেছে চুলো পর্যন্ত। নিরাপদ পানির সংস্থান টিউবওয়েলগুলো ডুবে থাকায় বিশুদ্ধ পানি এবং খাবারের তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে এখানে।











