অভিজাত হোটেলের পরিবর্তে সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের সঙ্গে নিজেদের অভিষেক অনুষ্ঠান উদ্যাপন করেছে রোটারি ক্লাব অব মেট্রোপলিটন চট্টগ্রাম। এ উপলক্ষে নগরীর রৌফাবাদের তিনটি প্রতিষ্ঠানের শিশুদের জন্য তিন মাসের ওষুধ, ডায়াবেটিস মাপার মেশিন, রক্তচাপ পরিমাপের যন্ত্রসহ বিভিন্ন চিকিৎসাসামগ্রী বিতরণ করেছে সংগঠনটি। শনিবার (৩১ অক্টোবর) দুপুরে রৌফাবাদে বুদ্ধিপ্রতিবন্ধী শিশু বিদ্যালয়, সরকারি শিশু পরিবার (বালিকা) ও ছোটমণি নিবাসে ক্লাবটির ৪২তম অভিষেক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। এতে শিশুদের সঙ্গে সময় কাটানো, তাদের খোঁজখবর নেওয়া এবং একসঙ্গে দুপুরের খাবার খাওয়ার মধ্য দিয়ে ব্যতিক্রমী এ আয়োজন সম্পন্ন হয়। সাধারণত রোটারি ক্লাবের অভিষেক অনুষ্ঠান অভিজাত হোটেল কিংবা রেস্তোরাঁয় আয়োজন করা হলেও এবার সেই প্রচলিত ধারা থেকে বেরিয়ে এসেছে সংগঠনটি। সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের সঙ্গে আনন্দ ভাগাভাগির পাশাপাশি তাদের স্বাস্থ্যসেবার বাস্তব চাহিদা জানতেই এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানান আয়োজকেরা। অনুষ্ঠানের চেয়ারম্যান পিপি রোটারিয়ান ওয়াহিদুজ্জামান চৌধুরী বলেন, এসব প্রতিষ্ঠানে পরিবার থেকে বিচ্ছিন্ন, সুবিধাবঞ্চিত ও বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশুরা বসবাস করে। তাদের শুধু অন্ন ও আশ্রয় নয়, প্রয়োজন ভালোবাসা, মর্যাদা ও সামাজিক স্বীকৃতি। সরকারি উদ্যোগের পাশাপাশি সমাজের সামর্থ্যবান ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান এগিয়ে এলে তাদের জীবনযাত্রার মান আরও উন্নত করা সম্ভব।
রোটারি ক্লাবের উদ্যোগে তিন প্রতিষ্ঠানের আবাসিক শিশুদের জন্য তিন মাসের প্রয়োজনীয় ওষুধ সরবরাহ করা হয়েছে। পাশাপাশি ডায়াবেটিস মাপার মেশিন, রক্তচাপ পরিমাপের যন্ত্রসহ বিভিন্ন চিকিৎসাসামগ্রী দেওয়া হয়। ভবিষ্যতেও শিশুদের প্রয়োজন অনুযায়ী সহযোগিতা অব্যাহত রাখার পরিকল্পনা রয়েছে বলে জানান ওয়াহিদুজ্জামান চৌধুরী। বুদ্ধিপ্রতিবন্ধী শিশু বিদ্যালয়ের প্রিন্সিপাল ও উপপরিচালক সাইফুল ইসলাম চৌধুরী বলেন, বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশুদের নিয়মিত স্বাস্থ্যসেবা, চিকিৎসা ও পরিচর্যা নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন রোটারি ক্লাব অব মেট্রোপলিটন চট্টগ্রামের সাবেক সভাপতি (১৯৯৫–৯৬ ও ২০১০–১১) এবং বান্দরবান বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক প্রতিষ্ঠাতা উপাচার্য রোটারিয়ান পিপি ড. এ এফ ইমাম আলী।
বিশেষ অতিথি ছিলেন রোটারিয়ান পিপি জসীম উদ্দিন চৌধুরী, সহকারী কান্ট্রি কোঅর্ডিনেটর, আরআইডি–৬৫, বাংলাদেশ এবং চেয়ারম্যান, দৈনিক পূর্বকোণ লিমিটেড। তিনি বলেন, পিছিয়ে পড়া মানুষের জন্য কার্যকর ও টেকসই উদ্যোগ গ্রহণ করা প্রয়োজন। সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের স্বাস্থ্যসেবা ও জীবনমান উন্নয়নে রোটারির এ ধরনের কার্যক্রম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
সমাজসেবা অধিদপ্তরের চট্টগ্রাম বিভাগীয় পরিচালক মোহাম্মদ শহিদুল ইসলাম বলেন, আমরা সব সময় চাই, এসব প্রতিষ্ঠানের শিশুরা অন্য শিশুদের মতো বেড়ে উঠুক এবং সবার সঙ্গে মিশে স্বাভাবিক জীবনযাপন করুক। চট্টগ্রাম জেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের উপপরিচালক মোহাম্মদ ওমর ফারুক বলেন, সমাজসেবা অধিদপ্তরের আওতাধীন প্রতিষ্ঠানগুলোতে অসহায় ও সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের সুরক্ষা, পরিচর্যা ও পুনর্বাসনে কাজ করা হচ্ছে। অনুষ্ঠানে রোটারি ক্লাব অব মেট্রোপলিটন চট্টগ্রামের প্রেসিডেন্ট রোটারিয়ান ফজলুল করিম চৌধুরী, আইপিপি রোটারিয়ান আফিয়া খাতুন মীরা, রোটারিয়ান সাজেদা বেগম, রোটারি ক্লাব অব চট্টগ্রাম সেন্ট্রালের প্রেসিডেন্ট মতিউর রহমানসহ বিভিন্ন রোটারি ক্লাবের নেতৃবৃন্দ, রোটারিয়ান, রোটার্যাক্ট ক্লাবের সাবেক সভাপতি ও রোটারি ডিস্ট্রিক্টের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। প্রেস বিজ্ঞপ্তি।












