খাগড়াছড়ি প্রতিনিধি জানান, খাগড়াছড়ির পানছড়িতে শান্তিপুর অরণ্য কুটিরে উদযাপিত হয়েছে বৌদ্ধ সমপ্রদায়ের অন্যতম প্রধান ধর্মীয় উৎসব দানোত্তম কঠিন চীবর দান।
গতকাল শনিবার দিনব্যাপী বিহার প্রাঙ্গণে বুদ্ধমূর্তি দান, অষ্টপরিষ্কার দান, সংঘদান, কঠিন চীবর দান, পঞ্চশীল গ্রহণ, কল্পতরু দান ও ধর্মসভাসহ নানা ধর্মীয় আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হয়।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন রাঙামাটির রাজবন বিহারের আবাসিক প্রধান ভদন্ত প্রজ্ঞালংকার মহাস্থবির। প্রধান অতিথি ছিলেন খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ম্রাসা থোয়াই মারমা।
স্বধর্মদেশনা করেন অধ্যক্ষ শাসন রক্ষিত মহাস্থবির, অধ্যক্ষ বিমলানন্দ মহাস্থবির, অধ্যক্ষ মহামিত্র মহাস্থবির, অধ্যক্ষ জিনপ্রিয় মহাস্থবির ও সত্যপ্রেম মহাস্থবির।
ধর্মসভায় ভিক্ষুসংঘ বলেন, কঠিন চীবর দান শুধু ধর্মীয় আনুষ্ঠানিকতা নয়, এটি ত্যাগ, সংযম, সমপ্রীতি ও মানবকল্যাণের অনন্য শিক্ষা বহন করে।

ফটিকছড়ির হাইদচকিয়া গৌতমাশ্রম বিহার : ফটিকছড়ি প্রতিনিধি জানান, উপজেলার পাইন্দং–এ উদযাপিত হয়েছে ‘ কঠিন চীবর দানোৎসব’। হাইদচকিয়া গৌতমাশ্রম কেন্দ্রীয় বিহার পরিচালনা পরিষদ ও দায়ক–দায়িকাবৃন্দের যৌথ উদ্যোগে বিহার প্রাঙ্গণে এই উৎসবের আয়োজন করা হয়।গত ৩০ অক্টোবর অনুষ্ঠানমালার প্রথম পর্বে ছিল পবিত্র ত্রিপিটক পাঠ, জাতীয় ও ধর্মীয় পতাকা উত্তোলন, বুদ্ধপূজা এবং অষ্টপরিস্কার মহাসংঘদান অনুষ্ঠিত হয়। দ্বিতীয় পর্বে চীবর দানোৎসব অনুষ্ঠিত হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন চট্টগ্রাম–২ (ফটিকছড়ি) আসনের সংসদ সদস্য সরোয়ার আলমগীর। বিশেষ অতিথি ছিলেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সাঈদ মোহাম্মদ ইব্রাহিম ও সুশীল বড়ুয়া।
প্রধান জ্ঞাতি ছিলেন ভদন্ত পিংগলা মহাস্থবির। মূখ্য আলোচক ছিলেন জয়পাল স্থবির। আলোচক ছিলেন শান্ত জ্যোতি স্থবির স্মৃতিবংশ স্থবির এবং অগ্রবংশ স্থবির।
স্বাগত বক্তব্য রাখেন বিহার পরিচালনা পরিষদের সভাপতি অঞ্জন কুমার বড়ুয়া। শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন দীবাকর বড়ুয়া চন্দন, ু রিটন বড়ুয়া, সঞ্জীব বড়ুয়া তিনু, বরুণ কুমার আচার্য বলাই। সম্পাদকীয় বক্তব্য এবং সঞ্চালনা করেন রণবীর বড়ুয়া লিংকন। উপস্থিত ছিলেন রূপক বড়ুয়া, সৈকত বড়ুয়া, টুটুল বড়ুয়া, সিটু বড়ুয়া, প্রমল বড়ুয়া, উত্তম বড়ুয়া পল্টু, সঞ্জীব বড়ুয়া, অতনু বড়ুয়া ও সুমিত বড়ুয়া। সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন সুমিত বড়ুয়া।

জুরাছড়ির ধর্মান্ধয় বন বিহার : কাপ্তাই প্রতিনিধি জানান, জুরাছড়ির দুর্গম এলাকায় আমতলী ধর্মান্ধয় বন বিহারে গত ৩০ অক্টোবর কঠিন চীবর দান উৎসব অনুষ্ঠিত হয়। যক্ষাবাজার আর্মি ক্যাম্প কমান্ডার মেজর ফাহিম আল হোসাইন কঠিন চীবর দান অনুষ্ঠানে পরিচালনা কমিটির সাথে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন। তিনি জুরাছড়ি জোনের পক্ষথেকে ভ্রার্তৃত্বের বন্ধন এবং উপহার হিসেবে বিহার পরিচালনা কমিটির সভাপতি নিখিলেশ্বর চাকমার হাতে কঠিন চীবর দান উপলক্ষে ফলের ঝুড়ি তুলে দেন।












