মেসি, এমবাপে, হালান্ড– বিশ্বকাপে দাপট দেখানোর প্রতিযোগিতায় কেউ বাকি ছিলেন না। পড়ে ছিলেন শুধু তিনিই। প্রথম ম্যাচে খারাপ পারফর্ম করে হয়েছিলেন সমালোচিত। ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো এর জবাব দিলেন দ্বিতীয় ম্যাচে। গড়লেন বিশ্বরেকর্ড–বিশ্বের প্রথম ফুটবলার হিসাবে টানা ছয় বিশ্বকাপে গোল করলেন পর্তুগালের অধিনায়ক।
এ বার মেসিও ষষ্ঠ বিশ্বকাপ খেলছেন। তবে ২০১০–এ তিনি গোল করতে পারেননি। সোমবার রাতেই বিশ্বকাপের ইতিহাসে সর্বোচ্চ গোলদাতা হয়েছেন মেসি। তার পর দিন বিশ্বরেকর্ড করলেন রোনালদোও। হিউস্টনে গতকাল মঙ্গলবার ম্যাচের ষষ্ঠ মিনিটে উজবেকিস্তানের জালে বল পাঠিয়ে এই অর্জনে নাম লেখান ৪১ বছর বয়সী পাঁচবারের বর্ষসেরা ফুটবলার। পরে করেন আরো একটি গোল। একই সাথে ঘুরে দাঁড়াল পর্তুগালও। উজবেকিস্তানকে ৫–০ গোলে হারিয়ে নকআউট পর্বে ওঠার আশা জোরালো করল রবের্তো মার্তিনেসের দল। দুই ম্যাচে ৪ পয়েন্ট নিয়ে গ্রুপের শীর্ষে উঠল পর্তুগাল। একটি করে ম্যাচ খেলা কলম্বিয়া ৩ পয়েন্ট নিয়ে দুইয়ে ও ডিআর কঙ্গো ১ পয়েন্ট নিয়ে তিনে আছে। দুই ম্যাচ খেলে উজবেকিস্তান এখনও পয়েন্টের খাতা খুলতে পারেনি। শেষ ম্যাচে কলম্বিয়ার বিরুদ্ধে ড্র করলেই পর্তুগালের নকআউট নিশ্চিত হয়ে যাবে। এই ম্যাচে বেশ কয়েকবার হ্যাটট্রিক করার সুযোগ পেয়েছিলেন রোনালদো। কিন্তু শেষ পর্যন্ত তা আর হয়নি। ম্যাচে অন্য দুই গোলদাতা হলেন নুনো মেন্দেস ও খাফায়েল লেয়াও।
কঙ্গোর বিরুদ্ধে খারাপ খেলার পর রোনালদোকে পর্তুগালের প্রথম একাদশে কেন রাখা হবে, তা নিয়েই প্রশ্ন উঠেছিল। তবে কোচ থেকে ফুটবলার, সকলেই ছিলেন তার পাশে। কোচ রবার্তো মার্তিনেজ উজবেকিস্তান ম্যাচেও প্রথম একাদশে রেখেছিলেন রোনালদোকে। আলোচনা, সমালোচনা শুরু হয়ে গিয়েছিল তখনই। তা বিপুল বেগে বাড়ল, যখন গতকালের ম্যাচে চার মিনিটের মাথায় রোনালদো সহজ একটি সুযোগ নষ্ট করলেন। বাঁ দিক থেকে নুনো মেন্দেসের ভাসানো বলে স্রেফ পা ছোঁয়ালেই চলত। তিন–চার বছর আগের রোনালদো হলে মার্কারকে টপকে অনায়াসে গোল দিতেন। এ দিন বলে পা লাগাতেই পারলেন না। এক ইঞ্চির জন্য পা এবং বলের দূরত্ব রয়ে গেল। গোল মিস্ করে হতাশ মুখে মাথা নাড়তে নাড়তে রোনালদো সেই এক ইঞ্চির পার্থক্যই দেখালেন। এর কয়েক মিনিট পরেই চিত্রনাট্য পুরোপুরি বদলে যায়। ডান প্রান্তে বল পেদ্রো নেতো যখন বল পেয়ে পাস দেওয়ার লোক খুঁজছেন, তখনই জটলার মধ্যে থেকে বেরিয়ে এলেন তিনি। নেতোর ক্রসে চলতি বলেই শট নিয়ে দুরূহ কোণ দিয়ে বল জালে জড়িয়ে দিলেন। জাতীয় দলের হয়ে চার ম্যাচ পর জালের দেখা পেলেন রোনালদো। বড় টুর্নামেন্টে (বিশ্বকাপ, ইউরো) পর্তুগালের হয়ে ১০ ম্যাচের গোল খরাও কাটল তার। সাথে হয়ত এ বার্তাও দেয়া হলে যে, তার ৪১ হলেও তিনি ফুরিয়ে যাননি। এখনও বিশ্বকাপে গোল করার ক্ষমতা রাখেন। গোল করার মুহূর্তের মধ্যে রোনালদোকে ঘিরে সতীর্থদের উচ্ছ্বাস শুরু হয়ে যায়।
এ দিন যে রোনালদোকে দেখা গিয়েছে তার সঙ্গে কঙ্গো ম্যাচের রোনালদোরর অনেক তফাত। এই রোনালদো পরিশ্রম করেছেন, বল দখলের জন্য লড়েছেন, নীচে নেমে ডিফেন্ড করেছেন, সতীর্থের জন্য বল ছেড়ে দিয়েছেন। বয়সের কারণে গতি মন্থর হয়েছে ঠিকই, কিন্তু রোনালদো বোঝালেন, নিজের দিনে তিনি এখনও সেরা।
৩৯তম মিনিটে দারুণ এক পাল্টা আক্রমণে নিজের দ্বিতীয় গোলটি করেন রোনালদো। ডি–বঙে ডান দিকে থ্রু বল বাড়ান ব্রুনো ফের্নান্দেস, বলের পেছনে ছুটে যান রোনালদো, তাকে বাধা দিতে এগিয়ে যান গোলরক্ষক; নিখুঁত শটে দূরের পোস্ট দিয়ে লক্ষ্যভেদ করেন তিনি। এই গোলে সর্বোচ্চ মঞ্চে দেশের এতদিনের সর্বোচ্চ গোলদাতা ইউসেবিওকে (৯ গোল) ছাড়িয়ে গেলেন রোনালদো (১০ গোল)। গ্রেট ইউসেবিও অবশ্য ৯ গোল করেছিলেন কেবল ৬ ম্যাচে, রোনালদোর লাগল ২৪ ম্যাচ।











