রাবার বাগানের ফাঁকে ফাঁকে ইটভাটা জ্বালানির উৎস বনাঞ্চলের গাছ

রাউজান প্রতিনিধি | রবিবার , ২ আগস্ট, ২০২৬ at ৬:৪৬ পূর্বাহ্ণ

রাউজানের কদলপুর ও পৌরসভার ৯ নম্বর ওয়ার্ডের বিভিন্ন স্থান থেকে এখনো মাটি কাটা চলছে। নির্বিচারে কেটে নেয়া হচ্ছে রাবার বাগানের ছোটবড় গাছ। এ মাটি ও গাছের বেশির ভাগ যাচ্ছে ইটভাটায়। গ্রামে গ্রামে উদ্বেগজনক হারে বেড়ে গেছে মাদকসেবী ও চুরির ঘটনা। মাদক, মাটি কাটা ও রাবার গাছ কেটে নেয়ার এমন অভিযোগ করে নিজের উদ্বেগের কথা প্রকাশ করেছেন খোদ রাউজানের সংসদ সদস্য গিয়াস উদ্দিন কাদের চৌধুরী। তিনি গত ৩০ জুলাই উপজেলা আইনশৃঙ্খলা বিষয়ক এক সভায় এমন তথ্য দিয়ে উপজেলা প্রশাসন ও আইন শৃংঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে এসব কাজে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে কঠোর নির্দেশ দেন।

খবর নিয়ে জানা যায়, উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে নেশাখোরদের তৎপরতা উদ্বেগজনক হারে বেড়ে গেছে। ইয়াবার মত মরণনেশার বিকিকিনিতে জড়িয়ে পড়েছে কিশোর যুবকদের একটি অংশ। বেড়ে গেছে বিভিন্ন এলাকায় মোটরসাইকেল, সিএনজি টেঙিসহ গরু চুরির ঘটনা। স্থানীয় জনসাধারণের অভিমত আইনশৃংঙ্খলা বিষয়ক সভায় সংসদ সদস্য যেই বক্তব্য তুলে ধরেছেন সেই বক্তব্য রাউজানের সাধারণ মানুষের বক্তব্যের প্রতিধ্বনী।

এলাকাবাসী তাদের প্রতিক্রিয়ায় জানান, এতদিন প্রশাসনের কর্মকর্তাদের মধ্যে যারা এসব অপকর্ম দেখেও না দেখার ভান করে আসছিলেন, তারা এখন সংসদ সদস্যের উদ্বেগ ও নির্দেশনা গুরুত্বসহকারে মাথায় নেবেন। এসব কাজে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেবেন।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, পৌরসভার ৯ নম্বর ওয়ার্ড ও পার্শ্ববর্তী ডাবুয়া ইউনিয়নের হিংগলা, মেলুয়া, আলীরখীল, ওহেদের খীল, হলদিয়া ইউনিয়নের বৃক্ষভানুপুর, বিন্দ্যাবান এলাকায় অন্তত অর্ধশতাধিক ইটভাটায় ইট পোড়ানো হয়। এসব ভাটায় ইট পোড়ানোর মাটির উৎস হচ্ছে আশেপাশের পাহাড় টিলা ও কৃষিজমির মাটি। জ্বালানি হিসাবে ব্যবহৃত হয় রাবার গাছসহ বিভিন্ন বনাঞ্চল থেকে কাটা গাছ।

সূত্র মতে, ডাবুয়া, রাউজান ও হলদিয়া রাবার বাগানের ফাঁকে ফাঁকে রয়েছে অর্ধশত ইটভাটা। এসব ভাটায় পোড়া ইট ও মাটি পরিবহনের জন্য ভাটা মালিকরা বাগানের রাবার গাছ কেটে করেছেন বিভিন্নমূখি অসংখ্য রাস্তা। এসব রাস্তায় পরিবহন করা হচ্ছে ট্রাকে ট্রাকে পাহাড়টিলা কাটা মাটি।

অভিযোগ রয়েছে, বাগান কর্তৃপক্ষের নীরবতায় স্থানীয় প্রভাবশালীরা রাবার বাগানের শত শত একর জায়গা অবৈধ দখলে নিয়ে গেছে। জবরদখল করা জায়গায় কেউ কেউ করেছে মাছের প্রজেক্ট, কৃষিজমি ও ভিটা। অবৈধ দখলদারদের কেউ কেউ খণ্ড খণ্ড করে দখল শর্ত বিক্রি করে দিচ্ছে অন্যজনের কাছে।

মাদকের ছড়াছড়ির বিষয়ে জানতে চাইলে রাউজান থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘মাদকের বিরুদ্ধে অভিযান চলমান আছে, নেশাজাত দ্রব্য বিকিকিনির বিরুদ্ধে প্রতিটি এলাকায় জনসচেতনতা সৃষ্টি করতে হবে।

পুলিশকে সঠিক তথ্য দিয়ে সহযোগিতা করলে মাদক নিয়ন্ত্রণ করা সহজ হবে। মাটি কাটার বিষয়ে জানতে চাইলে সহকারী কমিশনার ভূমি অংছিং মারমা বলেন, ‘কোনো এলাকায় মাটি কাটা হচ্ছে এমন খবর পেলে দ্রুত অভিযান পরিচালনা করা হয়। জব্দ করা হয় যান্ত্রিক সরঞ্জাম। করা হয় জরিমানা। প্রশাসন এই ধরনের কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানে রয়েছে।

পূর্ববর্তী নিবন্ধযুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষস্থানীয় ২৫ ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা ঢাকায় আসছেন ব্রিফিংয়ে মাহ্‌দী আমিন
পরবর্তী নিবন্ধআইফোনের বক্সে ৬শ পিস ইয়াবা, আলমারির ড্রয়ারে বিদেশি পিস্তল