বাংলাদেশ সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়া দেওয়া নিয়ে ভারতের পশ্চিমবঙ্গের নবনির্বাচিত মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী যে বক্তব্য দিয়েছেন, সে বিষয়ে গুরুত্ব দেওয়ার পক্ষে নন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। বিষয়টি নিয়ে রাজ্য নয়, কেন্দ্রীয় সরকারের পক্ষ থেকে কোনো সিদ্ধান্ত আসলে সেটি কূটনৈতিকভাবে আলোচনায় আসবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি। খবর বিডিনিউজের।
গতকাল মঙ্গলবার সচিবালয়ে কাঁটাতারের বেড়া নিয়ে বাংলাদেশে কোনো প্রভাব পড়বে কী না সাংবাদিকরা জানতে চাইলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, সার্বভৌমত্ব নিয়ে আমরা দুই দেশের সঙ্গে সম্পর্ক বজায় রাখি। কোনো দেশের অঙ্গরাজ্যের একটা নির্বাচন হল তার ফলাফল কি হলো এটা তাদের অভ্যন্তরীণ ব্যাপার। এখানে কাঁটাতারের বেড়া যদি ভারতীয় সীমানার মধ্যে নো ম্যান ল্যান্ডস বজায় রেখে দিতে চায়, সেটা কূটনৈতিকভাবে আলোচনা হবে। কিন্তু সেটা তো ভারত সরকারের পক্ষ থেকে আমরা প্রাকটিক্যালি দেখিনি। তাদের কেন্দ্র সরকারের পক্ষ থেকে জানাতে হবে, তারপর সেটি কূটনৈতিকভাবে আলোচনা হবে।
বিধানসভা নির্বাচনে জিতে প্রথমবারের মত ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের ক্ষমতায় আসা বিজেপি সরকারের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী সোমবার তার মন্ত্রিসভার প্রথম বৈঠক শেষে ছয়টি সিদ্ধান্তের কথা জানান। সে সময় সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণে দেড় মাসের মধ্যে বিএসএফকে প্রয়োজনীয় জমি দেওয়ার সিদ্ধান্তের কথা তিনি বলেন।
সরকারের প্রথম বৈঠক নিয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে শুভেন্দু বলেন, আজকে আমরা প্রথম দিনেই কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র দপ্তর তথা বিএসএফের সীমান্ত সুরক্ষিত করার জন্য জমি ট্রান্সফার প্রক্রিয়া অনুমোদন দিলাম এবং আজ থেকেই ল্যান্ড ট্রান্সফার প্রক্রিয়া শুরু হবে। ভূমি ও রাজস্ব সচিব এবং মুখ্য সচিবকে দায়িত্ব দেওয়া হলো ৪৫ দিনের মধ্যে বিএসএফের প্রয়োজনীয় জমি হস্তান্তর সম্পূর্ণ করতে হবে; যা আমাদের কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী নির্বাচনের আগেই বলেছিলেন। এই কাজটা আজকে প্রথম কেবিনেটে আমরা করলাম।
পশ্চিমবঙ্গে সংখ্যালঘুদের ওপর নির্যাতন হওয়ার তথ্য গণমাধ্যমে আসছে– এ সংক্রান্ত এক প্রশ্নের উত্তরে সালাহউদ্দিন বলেন, কিছু সোশাল মিডিয়া আসছে পুরনো চিত্র। তবে আমাদের সীমান্তে সতর্কতা আছে যেন কোনোভাবে পুশইন না হয়। আর সেরকম কোনো ঘটনা আমাদের নজরে আসেনি যে সেখানে অত্যাচারিত হয়েছে কেউ।
আসন্ন কোরবানির ঈদকে কেন্দ্র করে আইনশৃঙ্খলা সংক্রান্ত এক বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলছিলেন তিনি। সে সময় কোরবানির পশুরহাট ঘিরে চাঁদাবাজি বন্ধের ব্যাপারে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। তিনি বলেন, কোরবানি পশুবাহী বিভিন্ন যানবাহন এবং নৌযানে চাঁদাবাজি বিগত সময়গুলোতে ইতিপূর্বে হয়েছিল বলে আমাদের নলেজে আছে। যাতে সেই চাঁদাবাজিগুলো বন্ধ করা যায় এজন্য বিভিন্ন বাহিনীর হট লাইন নাম্বার দেওয়া থাকবে, সে অনুযায়ী দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ঈদকে কেন্দ্র করে সড়ক মহাসড়কগুলোতে যানজট নিরসনেও সরকার ব্যবস্থা নিয়েছে বলে আশ্বাস দিয়েছেন তিনি। সালাউদ্দিন আহমেদ বলেন, ঈদ যাত্রা নিরাপদ করতে এই ব্যবস্থা। তিনি বলেছেন ঈদের আগে যেন তৈরি পোশাক শিল্পের কর্মীরা বেতন ভাতা পান, সে ব্যাপারে মালিকপক্ষের সাথে প্রয়োজনীয় আলোচনা হয়েছে।
বিকেএমইএ, বিজিএমইএ, শ্রমিক ফেডারেশন, ব্যাংকের প্রতিনিধির সঙ্গে কথা বলে সবাই মিলে সহযোগিতার অনুরোধ করেছি। কিছু কিছু সিক ইন্ডাস্ট্রি আছে, কিছু বন্ধ আছে সেগুলোর ব্যাপারে কি করা যায় সে ব্যাপারে আলোচনা করে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য বলেছি।
কোরবানির কাঁচা চামড়ার ব্যাপারে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, চামড়ার মূল্য নির্ধারণের ব্যাপারে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় আরেকটি সভা হবে সেখানে ট্যানারি মালিকরা যাবেন এবং যৌক্তিক মূল্য নির্ধারণ করা হবে। তিনি বলেন, বিনামূল্যে যাতে উপজেলা পর্যায়ে লবণ সরবরাহ করা যায় সেজন্য প্রধানমন্ত্রী ২০ কোটি টাকা অনুমোদন করেছেন।
চাঁদাবাজি নিয়ে জাতীয় সংসদের বিরোধী দলীয় নেতার বক্তব্য উদ্ধৃত করে এক সাংবাদিকের প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, বিরোধী দলীয় নেতা যে চাঁদাবাজি বৃদ্ধি পেয়েছেন বলেছেন তার কাছে যদি খতিয়ান থাকে তাহলে আমার কাছে বা আপনারা দিলে সে অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।












