রাউজানে আবারও এক বিএনপি সমর্থককে গুলি করে হত্যা

রাউজান প্রতিনিধি | রবিবার , ২৬ এপ্রিল, ২০২৬ at ৬:২৫ পূর্বাহ্ণ

দুই মাস বিরতির পর রাউজানে আবারও এক যুবককে গুলি করে হত্যা করার ঘটনা ঘটেছে। এই ঘটনাটি ঘটেছে গত শুক্রবার গভীর রাতে। গুলিতে মারা যাওয়া যুবকের নাম কাউসারুজ্জামান বাবলু (৩৬)। তিনি ঢালার মুখ এলাকার আবুল নঈম সওদাগর বাড়ির আবুল কালাম সওদাগরের ছেলে। এদিকে গতকাল শনিবার ৩টার দিকে বাবলুর লাশবাহী এ্যাম্বুলেন্স আসছে সংবাদ পেয়ে এলাকার কয়েকশ নারী পুরুষ চট্টগ্রামরাঙামাটি চার লেইন সড়কের চৌধুরী মার্কেট এলাকায় জড়ো হয়। এসময় বিক্ষুব্ধরা টায়ার জ্বালিয়ে সড়ক অবরোধ করে এ্যাম্বুলেন্সটি সামনে রেখে হত্যাকারীদের দ্রুত গ্রেপ্তার দাবিতে বিক্ষোভ করতে থাকে। এই অবরোধে পড়ে পৌনে দুই ঘণ্টা সড়ক পথের উভয় দিকে শত শত যানবাহন আটকে থাকে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সেখানে পুলিশ গেলেও সড়ক থেকে মানুষকে সরাতে পারেনি। পরে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সেখানে ছুটে যান নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সহকারী কমিশনার ভূমি অংছিং মারমাসহ উপজেলা বিএনপির নেতৃবৃন্দ। তারা পরিস্থিতি শান্ত করার চেষ্টা করেন। বিক্ষুব্ধরা খুনিদের ধরতে দ্রুত অভিযান চালানোর ঘোষণা না দেয়া পর্যন্ত সড়ক অবরোধ ছাড়বে না বলে জানিয়ে দেয়। এই পরিস্থিতির মধ্যে সর্বশেষ অংছিং মারমাসহ উপজেলা বিএনপির নেতৃবৃন্দ খুনিদের ধরতে দ্রুত অভিযান চালানোর সিদ্ধান্তের কথা জানিয়ে সকলকে আশ্বস্ত করলে বিক্ষুব্ধ নারী পুরুষরা সড়কপথ ছেড়ে বাবলুর লাশবাহী এ্যাম্বুলেস নিয়ে বাড়ি দিকে চলে যায়। এসময় নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সহকারী কমিশনার ভূমি অংছিং মারমাসহ বক্তব্য রাখেন বিএনপি নেতা আবু জাফর চৌধুরী, জেলা যুবদলের সাবের সুলতান কাজল ও স্থানীয় বিএনপি নেতা জসিম উদ্দিন।

স্থানীয় জনসাধারণ ও নিহত বাবলুর স্বজনদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, এই খুনের ঘটনাটি ঘটেছে তার বাড়ি থেকে আধা কিলোমিটার দূরে রাউজান পৌরসভার পূর্ব আইলিখীল খামার টিলা এলাকায়। স্থানীরা বলেছেন, বাবলু বিএনপির একজন সমর্থক। তিনি তার এক মামাতো ভাইয়ের সাথে মাটি ও বালুর ব্যবসার সাথে জড়িত ছিলেন। এই ব্যবসার নিয়ন্ত্রণ নিয়ে বাবলুদের সাথে বিরোধ চলে আসছিল একই ব্যবসায় থাকা স্থানীয় অপর একটি গ্রুপের সাথে।

নিহত বাবলুর বাবা আবুল কালাম বলেছেন, দীর্ঘদিন ধরে স্থানীয় কিছু সন্ত্রাসী বাবলুকে বিভিন্নভাবে হুমকি দিয়ে আসছিল। একাধিকবার তাকে প্রাণনাশের হুমকিও দেয়া হয়। শুক্রবার বাবলু তার মামাতো ভাইকে সাথে নিয়ে নানার বাড়িতে দাওয়াত খেতে গিয়েছিল। মামাতো ভাইকে ওই বাড়িতে রেখে গভীর রাতে বাবলু একাকি বাড়ি ফিরতে বের হয়েছিল। কিছুদূর আসার পর ওঁত পেতে থাকা সন্ত্রাসীরা পথে আটকিয়ে তাকে মারধর করে। প্রাণ বাঁচতে দৌঁড়ে পালানোর সময় পিছন থেকে বাবলুকে তারা গুলি করে। পিঠে গুলিবিদ্ধ হয়ে সেখানে মাটিতে লুটে পড়লে সন্ত্রাসীরা পালিয়ে যায়। গুলির শব্দে নানার বাড়ি থেকে মামতো ভাইসহ লোকজন এসে তাকে উদ্ধার করে প্রথমে স্থানীয় একটি হাসপাতালে নিয়ে যায়। পরে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে শনিবার ভোর সকালে বাবলুর মৃত্যু হয়।

নিহতের স্ত্রী লিজা মনি বলেছেন, তার স্বামীর সাথে স্থানীয় কিছু লোকের ঝামেলা হয়েছিল। পরে সেটির সমাধানও হয়েছিল। তাকে কেন কারা গুলি করেছে তিনি বলতে পারছেন না। অপর একটি সূত্র থেকে জানা যায়, বাবলু প্রতিবাদী স্বাভারে ছেলে। তবে তিনি বিভিন্ন সময় নানা তথ্য দিয়ে পুলিশকে সহায়তা করতেন। সূত্রমতে কয়েকদিন আগে স্থানীয় চৌধুরী মার্কেট এলাকায় স্থানীয় কয়েকজন ছেলের জটলায় পাশে দাঁড়িয়ে বাবলু মোবাইলে তাদের কথোপকথনের ভিডিও চিত্র ধারণ করেছিলেন। ওই সময় জটলা পাকিয়ে দাঁড়িয়ে থাকা ছেলেরা অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে আলাপে ব্যস্ত ছিল। আলাপচারিতায় থাকা ছেলেপেলেরা ডিভিও ধারণের বিষয়টি টের ফেলে বাবলুর উপর ক্ষেপে যায়। তাদের মধ্যে এক পর্যায়ে কথা কাটাকাটি হয়। পরে বাবলু মজার ছলে ভিডিও ধারণ করেছে জানিয়ে ভুল স্বীকার করে সেখান থেকে চলে যান।

উল্লেখ্য, চলতি বছরের ২৫ ফেব্রুয়ারি সন্ত্রাসীদের গুলিতে খুন হন পূর্ব গুজরা ইউনিয়নের অলিমিয়াহাট বাজারে আব্দুল মজিদ (৫০) নামে এক যুবদল কর্মী। এর আগে ৫ জানুয়ারি একই ইউনিয়নের অলিমিয়াহাট বাজার থেকে প্রায় ৫০০ মিটার দূরে মুহাম্মদ জানে আলম (৪৮) নামের আরেক যুবদল নেতাকে গুলি চালিয়ে খুন করে মোটরসাইকেল আরোহী সন্ত্রাসীরা। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর ২০ মাসে রাউজানে রাজনৈতিক হানাহানি ও অন্যান্য বিরোধে মোট ২২টি হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে।

সর্বশেষ বাবলু হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় রাউজান থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাজেদুল ইসলাম বলেন, লাশ ময়নাতদন্তের জন্য চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। ওই ব্যক্তির পিঠের বাম পাশে একাধিক গুলির চিহ্ন রয়েছে। কি কারণে কারা এই হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে পুলিশ তদন্তে নেমেছে। সন্ত্রাসীদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে তিনি দাবি করেন।

পূর্ববর্তী নিবন্ধঢাকা-চট্টগ্রামসহ কোন রুটে কত বাস ভাড়া?
পরবর্তী নিবন্ধআনোয়ারায় চায়না ইকোনমিক জোনে ফের আশার আলো