কবিতার শব্দ আর উচ্চারণে দৃপ্ততায় কবি শামসুর রাহমানকে স্মরণ করে চট্টগ্রামে অনুষ্ঠিত হলো বাচিক শিল্প চর্চা কেন্দ্র তারুণ্যের উচ্ছ্বাস–এর বিশেষ আবৃত্তিসন্ধ্যা যেমন ইচ্ছে লেখার, আমার কবিতার খাতা।
গত ২১ আগস্ট থিয়েটার ইন্সটিটিউটে অনুষ্ঠিত আয়োজন জুড়ে ছিল বাংলা কবিতার অন্যতম প্রধান কবি শামসুর রাহমানের কবিতার অনুরণন। তাঁর কবিতার নাগরিক বোধ, প্রেম, দ্রোহ, স্বাধীনতার আকাঙ্ক্ষা, মানবিকতা ও সময়চেতনা আবৃত্তিশিল্পীদের কণ্ঠে নতুন আবহে ধরা দেয়। অনুষ্ঠানে শামসুর রাহমানের বহুলপ্রশংসিত কবিতাগুলোর মধ্যে পরিবেশিত হয় ‘স্বাধীনতা তুমি’, ‘তোমাকে পাওয়ার জন্যে, হে স্বাধীনতা’, ‘আসাদের শার্ট’, ‘ফেব্রুয়ারি ১৯৬৯’, ‘বর্ণমালা, আমার দুঃখিনী বর্ণমালা’, ‘গেরিলা’, ‘একটি ফোটার জন্যে’, ‘নির্মাণ’, ‘কখনো আমার মাকে’, ‘তোমার জন্যে’ সহ কবির স্মরণীয় কিছু কবিতা। আবৃত্তি করেন মুজাহিদুল ইসলাম, মিঠু তলাপাত্র, শ্রাবণী দাশগুপ্তা, সেজুতি দে, অর্পিতা দাশগুপ্তা, রত্না চৌধুরী, স্বপ্নিল বড়ুয়া, মৌ দত্ত, মৌসুমি দে, রাত্রি বিশ্বাস, মেরিনা সুলতানা, পূর্ণিমা লালা, জুয়েনা আফসানা, শর্মিলি বণিক, সাফা মারওয়া, মুক্তা চৌধুরী, সুস্মিতা দেবনাথ সূচি, তুলি পাল, শহিদুল ইসলাম, তাহসির আরাফাত ও আরিফুর ইসলাম। কবির কবিতার পঙ্ক্তিতে কখনো উচ্চারিত হয়েছে স্বাধীনতার স্বপ্ন, কখনো প্রেম ও বিরহের মৃদু স্পন্দন, আবার কখনো সময় ও সমাজের প্রতি তীব্র দায়বদ্ধতা। একাধিক আবৃত্তিশিল্পীর কণ্ঠে কবিতাগুলো হয়ে ওঠে যেন একই কবির বহুরৈখিক জীবনবোধের নানা প্রতিধ্বনি। আয়োজনটি ছিল কেবল কবিতা আবৃত্তির আসর নয়, বরং শামসুর রাহমানের কবিতার ভেতর দিয়ে তাঁর সময়কে, তাঁর স্বদেশকে এবং আমাদের সমকালকে নতুন করে পাঠ করার এক নান্দনিক প্রয়াস। মঞ্চের আলো–আঁধারিতে একের পর এক কবিতার উচ্চারণে তৈরি হয় আবেগঘন ও শিল্পিত পরিবেশ। ‘যেমন ইচ্ছে লেখার, আমার কবিতার খাতা’ নামটির মধ্যেও যেন ফিরে আসে শামসুর রাহমানের কবিতার সেই চিরতরুণ স্বর, যে স্বর একই সঙ্গে ব্যক্তিগত, নাগরিক, প্রেমময় ও প্রতিবাদী। তারুণ্যের উচ্ছ্বাসের এই আয়োজন সেই স্বরকেই নতুন প্রজন্মের কণ্ঠে পৌঁছে দেওয়ার একটি আন্তরিক প্রয়াস হয়ে থাকল।










