ঢাকাই চলচ্চিত্রের ইতিহাসে কিংবদন্তিতুল্য অভিনেতা আনোয়ার হোসেনের নাম চিরস্মরণীয়। দীর্ঘ পাঁচ দশকের অভিনয়জীবনে প্রায় সাড়ে তিনশ সিনেমায় অভিনয় করেছেন তিনি। নানা ধরনের চরিত্রে অভিনয় করলেও একটি চরিত্রই তাকে দর্শকের কাছে চিরস্থায়ীভাবে পরিচিত করে তোলে–নবাব সিরাজউদ্দৌলা। ১৯৬৭ সালে মুক্তি পাওয়া ‘নবাব সিরাজউদ্দৌলা’ সিনেমায় নাম ভূমিকায় অভিনয় করে রাতারাতি ব্যাপক জনপ্রিয়তা পান আনোয়ার হোসেন। তার অসাধারণ অভিনয়ে ফুটে ওঠে বাংলার শেষ স্বাধীন নবাব সিরাজউদ্দৌলার দেশপ্রেম, বেদনা, আত্মমর্যাদা ও পরিণতির করুণ অধ্যায়। সিনেমার পরই দর্শকের কাছে তিনি পরিচিত হয়ে ওঠেন ঢাকাই সিনেমার নবাব হিসেবে। তবে নবাব সিরাজউদ্দৌলা ছিল তার অভিনয়জীবনের শুরু নয়। এর অনেক আগেই মঞ্চনাটক ও চলচ্চিত্রে নিজের জায়গা তৈরি করেছিলেন তিনি। ১৯৫৯ সালে ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশনে ননী দাসের পরিচালনায় এক টুকরো জমি নাটকে অভিনয় করেন। পরে ঢাকা বেতারে অডিশন দিয়ে নির্বাচিত হয়ে ‘হাতেম তাই’ নাটকে ছোট একটি চরিত্রে অভিনয় করেন। মঞ্চনাটকে অভিনয়ের সুবাদে আব্দুল জব্বার খান, মোহাম্মদ আনিস ও হাবিবুর রহমানসহ অনেক গুণীজনের সঙ্গে তার পরিচয় হয়। পরবর্তী সময়ে ঝিনুক পত্রিকার সম্পাদক আসিরুদ্দিনের সহযোগিতায় মিনার্ভা থিয়েটার গড়ে তোলেন আনোয়ার হোসেন। নাট্যদলের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন সৈয়দ হাসান ইমাম, ফতেহ লোহানী, মেহফুজ, সুভাষ দত্ত ও চিত্রা সিনহাসহ অনেকে। ১৯৬১ থেকে ১৯৬৬ সাল পর্যন্ত ১৮টি সিনেমায় কাজ করেন তিনি। তবে ১৯৬৭ সালে ‘নবাব সিরাজউদ্দৌলা’ সিনেমায় অভিনয় তার ক্যারিয়ারে নতুন অধ্যায়ের সূচনা করে।












