যুদ্ধবিরতির মাঝে ইরান-যুক্তরাষ্ট্রের ফের পাল্টাপাল্টি হামলা

ইসরায়েল-লেবাননের নিরাপত্তা চুক্তি প্রত্যাখ্যান হিজবুল্লাহর

| রবিবার , ২৮ জুন, ২০২৬ at ৫:৩৫ পূর্বাহ্ণ

যুদ্ধবিরতির সমঝোতার পর স্থায়ীভাবে যুদ্ধ বন্ধে আলোচনা চলার মধ্যে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র পাল্টাপাল্টি হামলা চালিয়েছে। একটি পণ্যবাহী জাহাজে ইরানি ড্রোন হামলার পর গত শুক্রবার যুক্তরাষ্ট্র আবার ইরানে হামলা শুরু করে। যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ডসেন্টকমের ভাষায়, শক্তিশালী পাল্টা হামলা চালানো হয়েছে। ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন সংরক্ষণ এলাকা এবং উপকূলীয় রেডার স্থাপনাগুলোতে বিমান হামলা করেছে মার্কিন বাহিনী। এর আগে গত বৃহস্পতিবার ওমান উপকূলের কাছে সিঙ্গাপুরে নিবন্ধিত বাণিজ্যিক জাহাজ ‘এভার লাভলি’ ড্রোন হামলার শিকার হয়।

১৭ জুন ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়েছে। সবশেষ ৬০ দিনের যুদ্ধবিরতি সমঝোতা হওয়ার পর হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল আবার শুরু হয়। এর মধ্যে স্থায়ীভাবে যুদ্ধ বন্ধের আলোচনাও শুরু করেছেন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের কর্মকর্তারা। এর মধ্যেই নতুন করে হামলা পাল্টা হামলা হল। খবর বিডিনিউজের।

বৃহস্পতিবার ওমান উপকূলের কাছে ‘এভার লাভলি’ জাহাজে হামলায় কোনো নাবিক হতাহত হওয়ার খবর মেলেনি এবং জাহাজ তার গন্তব্যের উদ্দেশ্যে যাত্রা অব্যাহত রেখেছে। এক বিবৃতিতে মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড বলেছে, যখন আন্তর্জাতিক এই গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যপথে বাণিজ্য প্রবাহ ক্রমবর্ধমান হারে বাড়ছে, তখন ইরানের বিপজ্জনক আচরণ নৌযান চলাচলের স্বাধীনতাকে হুমকিতে ফেলেছে। ঘোষণার পর ইরানের দক্ষিণাঞ্চলীয় বন্দর সিরিকের কাছে হামলার খবর পাওয়া গেছে। এর পরেই ইরানের রেভল্যুশনারি গার্ড কোরআইআরজিসি বলেছে, মার্কিন বাহিনীর বিমান হামলার জবাবে তারা ওই অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক স্থাপনাগুলোতে হামলা চালিয়েছে। ইরানের সরকারি বার্তা ইরনা বলেছে, এক বিবৃতিতে আইআরজিসি হুঁশিয়ার করে বলেছে, বারবার আগ্রাসনের ঘটনায় এখনকার তুলনায় আমাদের হামলা হবে আরো বেশি বিস্তৃত। তবে সেন্টকম নিশ্চিত করেছে যে ট্রাম্প প্রশাসন ‘এভার লাভলি’ জাহাজে হামলার ঘটনাকে ওই সমঝোতা স্মারকের শর্ত লঙ্ঘন হিসেবে দেখছে।

যুদ্ধ শুরুর পর ইরান হরমুজ প্রণালিতে নৌচলাচল বন্ধ করে দেওয়ায় জ্বালানি তেল, সার ও অন্যান্য পণ্যের দামে উল্লম্ফন ঘটে। বৃহস্পতিবার হামলার ঘটনায় ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে উত্তেজনা ফের উসকে দিয়েছে। পরদিন শুক্রবার মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প হুঁশিয়ার করে বলেছেন, এভার লাভলি জাহাজে হামলাকে তিনি সমঝোতা স্মারকের বোকামিপূর্ণ লঙ্ঘন হিসেবে বিবেচনা করছেন। সমঝোতা স্মারক অনুযায়ী, ৬০ দিন ইরান কোনো মাশুল ছাড়াই হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচলের সর্বোচ্চ পদক্ষেপ নেবে। যদিও ভঙ্গুর এই যুদ্ধবিরতি কার্যকর রাখা এখন কষ্টসাধ্য হয়ে পড়েছে ইসরায়েলের কারণে। দেশটি সমঝোতা স্মারক লঙ্ঘন করে লেবাননে বোমা হামলা করে যাচ্ছে। এ ব্যাপারে ইরান গত সপ্তাহে বলেছে, লেবাননে হামলা বন্ধ না হলেও তারা হরমুজ প্রণালি আবার বন্ধ করে দেবে।

শুক্রবার এক সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকরা প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে প্রশ্ন করেন, ১৭ জুনের সমঝোতা এখনো কী অক্ষুণ্ন আছে? জবাবে তিনি বলেন, গতকাল তারা হামলা চালিয়েছেবিষয়টি আমার পছন্দ হয়নি। তাদের এমনটি করা উচিত নয়। এর পরিণতি কী হয়, তা আপনারা দেখতে পাবেন।

সকল বাণিজ্যি জাহাজের জন্য হরমুজ প্রণালিকে নিরাপদ রাখতে মার্কিনী বাহিনী তাদের অঙ্গীকারের কথাও তুলে ধরে। তাছাড়া তারা সমঝোতা স্মারক মেনে চলতে সকল পক্ষের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে।

নিরাপত্তা চুক্তি প্রত্যাখ্যান হিজবুল্লাহর : এদিকে হিজবুল্লাহর প্রধান নাঈম কাসিম যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় লেবানন ও ইসরায়েলের মধ্যে হওয়া নিরাপত্তা চুক্তি প্রত্যাখ্যান করেছেন। স্বাক্ষরিত হওয়ার পরদিন গতকাল শনিবার চুক্তিটিকে ‘ইসরায়েলের কাছে আত্মসমর্পণ’ বলে বর্ণনা করেন তিনি।

বৃহত্তর ইরান যুদ্ধের সমান্তরালে লেবাননের প্রতিরোধ শক্তি হিজবুল্লাহর সঙ্গে ইসরায়েলের যে সংঘাত চলছে তাতে ১০ লাখের বেশি লেবাননি বাস্তুচ্যুত হয়েছেন।

গত শুক্রবার ওয়াশিংটনে ইসরায়েল ও লেবাননের মধ্যে যে রূপরেখা চূড়ান্ত হয়েছে তাতে দক্ষিণ লেবাননের কিছু অংশ থেকে ধাপে ধাপে সেনা প্রত্যাহারের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে তেল আবিব। পাশাপাশি সেখানে লেবাননি সেনা মোতায়েন করা হবে বলেও সিদ্ধান্ত হয়েছে। কিন্তু পরবর্তী পর্যায় বাস্তবায়ন না হওয়া পর্যন্ত ইসরায়েলি বাহিনীকে দক্ষিণ লেবাননের একটি বিস্তৃত অঞ্চলে নিরাপত্তা জোন বজায় রাখার অনুমতি দেওয়া হয়েছে।

এক বিবৃতিতে কাসিম এই চুক্তিকে ‘বাতিল ও অকার্যকর’ বলে বর্ণনা করেছেন। একতরফা ছাড় দেওয়া ও লেবাননের সর্বভৌমত্ব ক্ষুণ্ন করার জন্য তিনি দেশটির সরকারকে অভিযুক্ত করেছেন। হিজবুল্লাহর নিরস্ত্রীকরণের সঙ্গে ইসরায়েলের সেনা প্রত্যাহার যুক্ত করা বিধানগুলোর সমালোচনা করে কাসিম বলেছেন, এগুলো কার্যত ইসরায়েলি সামরিক উপস্থিতিকে বৈধতা দেয় আর ‘সব রেড লাইন অতিক্রম করে’। তিনি জানান, তার দল হিজবুল্লাহ সশস্ত্র প্রতিরোধ অব্যাহত রাখবে। তিনি বলেছেন, সবচেয়ে কঠিন পরিস্থিতিতেও আমরা যুদ্ধক্ষেত্র ছেড়ে যাইনি আর যাবোও না। কাসিম বলেছেন, শুক্রবারের ওয়াশিংটন চুক্তি নয় বরং এর আগে স্বাক্ষরিত যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের সমঝোতা স্মারকের ভিত্তিতে লেবাননের সংঘাতের অবসান হওয়া উচিত। দুই সপ্তাহ আগে স্বাক্ষরিত ওই সমঝোতা স্মারকে লেবাননের আঞ্চলিক অখণ্ডতার নিশ্চয়তা দেওয়া হয়েছিল।

পূর্ববর্তী নিবন্ধসৌরবিদ্যুৎ প্রসারে বড় নীতিগত পদক্ষেপ, শূন্য শুল্কের প্রস্তাব
পরবর্তী নিবন্ধরেললাইন ধরে হাঁটছিলেন দুই নারী, ট্রেনে কাটা পড়ে একজনের মৃত্যু