যুক্তরাষ্ট্রের নতুন শুল্ক প্রস্তাব নিয়ে বাংলাদেশে যে প্রতিক্রিয়া

| বৃহস্পতিবার , ৪ জুন, ২০২৬ at ৫:৩২ পূর্বাহ্ণ

জোরপূর্বক শ্রম ইস্যুতে বাংলাদেশসহ ৬০টি দেশের পণ্যের ওপর নতুন করে শুল্ক আরোপের প্রস্তাব দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য প্রতিনিধির দপ্তর। ট্রাম্প প্রশাসনের এই পদক্ষেপ নিয়ে বাংলাদেশে নানা প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়েছে। এ ব্যাপারে বাংলাদেশের তৈরি পোশাকশিল্পের মালিকদের শীর্ষ সংগঠন বিজিএমইএর সাবেক পরিচালক মহিউদ্দিন রুবেল বলছেন, এটি ট্রাম্প প্রশাসনের নতুন কোনো পরিকল্পনা নয়, বৃহৎ পরিকল্পনারই অংশ। তিনি বলছেন, ট্যারিফ আদায়ের যে পরিকল্পনা ট্রাম্প প্রশাসন শুরুতে নিয়েছিল সেটিই আইনের মারপ্যাঁচে ভিন্ন আঙ্গিকে নতুনভাবে সামনে এনেছে।

তিনি বলেন, অতীতে ট্রাম্প প্রশাসনের নেওয়া ট্যারিফের সিদ্ধান্ত আদালতে বাতিল হলেও সেটাকেই আবার শক্ত করে আইনি প্রক্রিয়ায় আনা হচ্ছে। ওরা বলছে যে আপনি ফোর্স লেবার এবং এক্সেস প্রোডাকশনের জন্য দায়ী, এগুলোতো খুবই আপেক্ষিক ব্যাপার। এগুলো আপনি প্রমাণ করতে পারবেন না, ওরাও পারবে না। আসলে ওরা যে মাত্রায় ট্যারিক কলেকশনের সিদ্ধান্ত নিয়েছিল, আইনের মারপ্যাঁচে সেটাই করছে। খবর বিবিসি বাংলার।

জোরপূর্বক শ্রম ইস্যুতে যেসব দেশে বাড়তি শুল্ক আরোপের প্রস্তাব করার হয়েছে সেখানে বাংলাদেশের নাম থাকায় এর প্রতিবাদ জানিয়েছে বাংলাদেশের ব্যবসায়ীদের বিভিন্ন সংগঠন। গতকাল দুপুরেই সংবাদ সম্মেলন করেছে বাংলাদেশের নিট পোশাকশিল্প মালিকদের সংগঠন বিকেএমইএ।

সংগঠনটির সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম বলছেন, মার্কিন আদালত আগের ট্যারিফ বাতিল করলেও নতুন অজুহাতে আরও ট্যারিফ আরোপের চেষ্টা করছে। জোরপূর্বক শ্রমের যে অজুহাত তারা দিয়েছে এর একটা প্রমাণও কি তারা দিতে পারবে? বাংলাদেশের শ্রমিকদের জোর করে কাজ করানো হচ্ছে, প্রশ্নই আসে না, বলেন তিনি। হাতেম দাবি করেন, শ্রমিকদের অধিকার রক্ষা করেই কাজ হচ্ছে বাংলাদেশে। আইএলও’র আন্তর্জাতিক শ্রম কনভেনশনের দশটি কোর কনভেনশনেই বাংলাদেশ সই করেছে। আমেরিকা মাত্র দুটিতে করেছে। মূলত তাদের আদালত বাতিল করে দেওয়াতে ভিন্ন একটি ক্লজে গিয়ে এটি করার চেষ্টা করছে তারা, বলেন বিকেএমইএ সভাপতি।

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ট্যারিফ ইস্যুতে বাংলাদেশের যে চুক্তি হয়েছে সেটি আবারও পর্যালোচনার কথা বলছেন বেসরকারি গবেষণাপ্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ বা সিপিডি এর গবেষণা পরিচালক খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম। তিনি বলছেন, স্বাভাবিক শুল্কের ওপর লেবার স্ট্যান্ডার্ডের ইস্যু এনে তারা বাড়তি শুল্ক আরোপের চেষ্টা করছেন, কিন্তু আগেই এই ধরনের শুল্কের বিষয়টি অগ্রহণযোগ্য বলে সিদ্ধান্ত দিয়েছিল মার্কিন আদালত, এবারও বিষয়টি মার্কিন আদালতে প্রশ্নের মুখে পড়বে। যদিও তিনি মনে করেন, মার্কিন ট্যারিফের দিকে না তাকিয়ে বাংলাদেশের বরং উচিৎ হবে শ্রম অধিকারের বিষয়ে যদি কোনো প্রশ্ন থাকে সেখানে নজর দেওয়া। শ্রমিকদের অধিকার নিশ্চিতের বিষয়টি নিয়ে অনেকদিন আগে থেকেই আমাদের ওপর চাপ রয়েছে, আমাদের উচিৎ হবে ট্যারিফের দিকে না তাকিয়ে এক্ষেত্রে কোনো প্রশ্ন তোলার সুযোগ থাকলে নিজেদের তাগিদেই সেটি ঠিক করা।

পূর্ববর্তী নিবন্ধসাগরে ভেসে যাচ্ছিল ৪ পর্যটক, গ্রাম পুলিশ ও স্থানীয়দের সহযোগিতায় উদ্ধার
পরবর্তী নিবন্ধফটিকছড়িতে নিরাপদ সড়কের দাবিতে অবরোধ, সংঘর্ষ