যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান সম্পর্কের নতুন অধ্যায়ের সূচনা হল?

| শুক্রবার , ১৯ জুন, ২০২৬ at ৮:০১ পূর্বাহ্ণ

পশ্চিম এশিয়ায় ছড়িয়ে পড়া যুদ্ধ স্থায়ীভাবে বন্ধের প্রচেষ্টা হিসেবে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে অন্তর্বর্তীকালীন যুদ্ধবিরতির চুক্তিটি এক দিন আগেই হয়ে গেল, যাতে ইরানের বড় অর্জন দেখছেন একজন সামরিক বিশ্লেষক। তাহলে কী যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ইরানের সম্পর্কের নতুন অধ্যায়ের সূচনা হল? কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা লিখেছে, এটি এক নতুন অধ্যায়। বিশেষ করে গত এক মাসে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের সম্পর্কের মধ্যে যে নাটকীয় ঘটনাপ্রবাহ দেখা গেছে, তাতে এটি খুবই তাৎপর্যপূর্ণ এক অধ্যায়। খবর বিডিনিউজের।

হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচলে যুক্তরাষ্ট্রের যে অবরোধ চলছে, ইরান তার দ্রুত অবসান চায়। রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম প্রেস টিভিসহ ইরানের সূত্রগুলো বলছে, ইরানের জাহাজের একটি অংশ অবরোধের মধ্যেও চলাচল করতে সক্ষম হচ্ছে। সূত্রগুলো আসলে বলছে, বাস্তবে যুক্তরাষ্ট্র নৌ অবরোধের আংশিক প্রত্যাহার করেছে। ইরানের সূত্রগুলোর বরাতে আল জাজিরা লিখেছে, ইরানের নৌযান, জাহাজ ও তেলের ট্যাংকার চলাচলে আরোপ করা অবরোধ তুলে নেওয়া চুক্তির অপরিহার্য অংশ।

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনায় ইরানি পক্ষের নেতৃত্ব দেওয়া পার্লামেন্টের স্পিকার মোহাম্মদ বাকের কালিবফ বলেন, সামরিক পদক্ষেপের মাধ্যমে আমরা যা কিছু অর্জন করতে চেয়েছিলাম, আলোচনার মাধ্যমে আমরা তার কয়েকগুণ বেশি পেয়েছি, এ নিয়ে কোনো তুলনাই চলে না।

ব্রিটেনের অবসরপ্রাপ্ত জেনারেল সাইমন মেয়লও মনে করেন, ইরানের নতুন নেতৃত্ব তরুণ ও কট্টরপন্থি হলেও যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে করা চুক্তি লঙ্ঘন করে যুদ্ধে ফিরবেন না তারা। তার ভাষায়, কয়েক দশক ধরে পশ্চিম এশিয়ায় ভয়ঙ্কর আচরণ সত্বেও ইরানের জন্য এই চুক্তি খুব ভালো অর্জন। ইরানের বিরুদ্ধে হামলা শুরুর পর আমরা যেরকম আশা করেছিলাম, তার চেয়েও অবশ্যই অনেক বেশি পেয়েছে।

তিনি বলেছেন, আগামী ৬০ দিনের আলোচনা পর্বে জটিলতা তৈরি হওয়ার প্রচুর সুযোগ রয়েছে। তবে ইরান যে চুক্তি লঙ্ঘন করবে না বলেই জেনারেল মেয়ল মনে করেন। কারণ তার মতে, ফের যুদ্ধে জড়ানোর ইচ্ছা নেই ইরানের। জেনারেল মেয়ল বলছেন, একটি নির্দিষ্ট পর্যায় পর্যন্ত ইরানের শাসকগোষ্ঠীর মধ্যে পরিবর্তন আসবে। ব্যক্তিগতভাবে যারা এখন ইরান শাসন করছেন, তারা নতুন স্তরের নেতৃত্ব। তারা আরও বেশি কট্টরপন্থি হতে পারেন। তিনি বলেন, ইসরায়েলি ও নির্দিষ্টভাবে আমেরিকানদের সামরিক হামলার কারণে ইরানের বিপুল ক্ষতি হয়েছে। ফলে পরিস্থিতি এখন একেবারেই ভিন্ন।

পূর্ববর্তী নিবন্ধহালদায় আবার সামান্য পরিমাণে ডিম ছেড়েছে মা মাছ
পরবর্তী নিবন্ধইরান-যুক্তরাষ্ট্র ১৪ দফা চুক্তি প্রকাশ