ম্যাচ, সিরিজ দুটোই হারল বাংলাদেশ

ক্রীড়া প্রতিবেদক | শনিবার , ২০ জুন, ২০২৬ at ৯:৩৩ পূর্বাহ্ণ

নিজেদের ‘লাকি গ্রাউন্ড’ হিসেবে পরিচিত সাগরিকার বীরশ্রেষ্ঠ মতিউর রহমান স্টেডিয়ামের নামের প্রতি সুবিচার করতে পারেনি টাইগাররা। ছুটির দিনে স্টেডিয়াম ভরা দর্শকদের হতাশ হতে হয়েছে হৃদয়দের হার দেখে। তিন ম্যাচ সিরিজের দ্বিতীয় টিটোয়েন্টিতে গতকাল শুক্রবার বাংলাদেশকে ৭ রানে হারিয়েছে অস্ট্রেলিয়া। সফরকারীদের ১৯৬ রানের জবাবে বাংলাদেশ থামে ১৮৯ রানে। সিরিজের প্রথম টিটোয়েন্টি ৪ উইকেটে জিতেছিল অজিরা। ফলে এক ম্যাচ বাকি থাকতেই বাংলাদেশের বিপক্ষে সিরিজ জয় নিশ্চিত করল অস্ট্রেলিয়া। এর আগে একবার খেলা দ্বিপাক্ষিক সিরিজে বাংলাদেশের কাছে ৪১ ব্যবধানে হেরেছিল অস্ট্রেলিয়া।

টস জিতে প্রথমে ব্যাটিংয়ের সিদ্ধান্ত নেয় অস্ট্রেলিয়া। ভালো শুরুর ইঙ্গিত দিয়ে উদ্বোধনী জুটিতে ১৭ বলে ৩০ রান তুলে বিচ্ছিন্ন হন জশ ইংলিশ ও অধিনায়ক মিচেল মার্শ। ১১ রান করে বাংলাদেশ স্পিনার নাসুম আহমেদের বলে লেগ বিফোর আউট হন ইংলিশ। তিন নম্বরে নেমে ১ রানের বেশি করতে পারেনি কুপার কনোলি। বাংলাদেশ পেসার নাহিদ রানার বলে সাইফ হাসানের দুর্দান্ত ক্যাচে বিদায় নেন তিনি। পাওয়ার প্লের শেষ বলে সাজঘরের পথ ধরেন ১৯ বলে ২০ রান করা মার্শ। বাংলাদেশ পেসার মোস্তাফিজুর রহমানের বলে সাইফের দ্বিতীয় ক্যাচে পরিণত হন অজি দলনেতা।

৪৪ রানে ৩ উইকেট হারিয়ে চাপে পড়ে অস্ট্রেলিয়া। এ অবস্থায় বাংলাদেশের বোলারদের সামনে চড়াও হন ম্যাট রেনশ ও টিম ডেভিড। ২৭ বলের জুটিতে পঞ্চাশ পূর্ণ করে অস্ট্রেলিয়াকে চাপমুক্ত করেন তারা। মারমুখী মেজাজে ২৯ বলে দ্বিতীয় হাফসেঞ্চুরি করেন রেনশ। এদিকে হাফসেঞ্চুরির সম্ভাবনা জাগিয়ে পেসার আব্দুল গাফফার সাকলাইনের প্রথম শিকার হন ডেভিড। ২৬ বলে ৪৫ রানের ঝড়ো ইনিংস খেলেন তিনি। রেনশর সাথে ৫০ বলে ৯৭ রানের জুটি গড়েন ডেভিড। দলীয় ১৪১ রানে ডেভিড ফেরার পর ক্রিজে আসেন নিখিল চৌধুরি। ৮ রান করে নাসুমের বলে লেগ বিফোর আউট হন তিনি।

এরপর অস্ট্রেলিয়াকে ২০ ওভারে ৫ উইকেটে ১৯৬ রানের বড় সংগ্রহ এনে দেন রেনশ ও জোয়েল ডেভিস। ৪টি চার ও ৫টি ছক্কায় ৫২ বলে ক্যারিয়ার সেরা ৮৯ রান তুলে অপরাজিত থাকেন রেনশ। বাংলাদেশের নাসুম ২টি, সাকলাইননাহিদ রানা ও মোস্তাফিজ ১টি করে উইকেট নেন।

১৯৭ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে বাংলাদেশকে ২২ বলে ৪৮ রানের সূচনা এনে দেন দুই ওপেনার তানজিদ হাসান ও সাইফ হাসান। ১৫ বলে ৩০ রান করে থামেন তানজিদ। তিন নম্বরে নামা সৌম্য সরকারের সাথে ১৯ বলে ২৯ রান যোগ করেন সাইফ। দলীয় ৭৭ রানে সৌম্য আউট হলে দ্বিতীয় উইকেট হারায় বাংলাদেশ। ৩টি চারে ৯ বলে ১৫ রান করেন সৌম্য। তৃতীয় উইকেটে ৩৬ বলে ৫৩ রানের ঝড়ো জুটিতে বাংলাদেশকে জয়ের লড়াইয়ে রাখেন সাইফ ও পারভেজ হোসেন ইমন। তাদের জুটির কল্যাণে একপর্যায়ে জয়ের জন্য ৮ উইকেট হাতে নিয়ে ৪৪ বলে ৬৭ রান দরকার পড়ে বাংলাদেশের। ১৩তম ওভারের পঞ্চম বলে দলীয় ১৩০ রানে ইমনকে শিকার করে অস্ট্রেলিয়াকে ব্রেকথ্রু এনে দেন পেসার অ্যারন হার্ডি।

এরপরই পথ হারায় বাংলাদেশ। দলীয় ১৩৪ রানে সাইফ ও ১৫৩ রানে শামিম হোসেন আউট হওয়ার পর বাংলাদেশের জয়ের পথ কঠিন হয়ে পড়ে। শেষ ৩ ওভারে ৪২ রান দরকার পড়ে টাইগারদের। ১৮তম ওভারে ৮ ও ১৯তম ওভারে ১১ রান এলে, ম্যাচের শেষ ওভারে ২৩ রানের দরকারে ১ উইকেটের বিনিময়ে ১৫ রান তুলতে সক্ষম হয় বাংলাদেশ। ফলে ২০ ওভারে ৬ উইকেটে ১৮৯ রান করে ম্যাচ ও সিরিজ হারে টাইগাররা। ইমন ৩৬, সাইফ ৪২ এবং শামীম ৭ রান করেন। ইনিংসের শেষ বলে আউট হওয়ার আগে ২২ বলে ৩৫ রান করেন অধিনায়ক তাওহিদ হৃদয়। ১১ বলে ১৩ রানে অপরাজিত থাকেন সাকলাইন। অস্ট্রেলিয়ার হার্ডি ২ উইকেট নেন। ম্যাচ সেরা হন অস্ট্রেলিয়ার রেনশ। আগামীকাল রোববার একই ভেন্যুতে সিরিজের তৃতীয় ও শেষ ম্যাচ খেলবে বাংলাদেশঅস্ট্রেলিয়া।

পূর্ববর্তী নিবন্ধকোভিডের আঁতুড়ঘর চীনের সেই ল্যাবে যুক্তরাষ্ট্রের অনুদান ছিল
পরবর্তী নিবন্ধসরবরাহ সংকটের অজুহাতে বাড়ছে চিনির দাম