বৃষ্টিপাত আর বৈরি আবহাওয়া উপেক্ষা করে কক্সবাজারে বেড়াতে আসছে বিপুল পর্যটক। গত ২০ দিন ধরে সাপ্তাহিক ছুটি ছাড়াও স্বাভাবিক দিনে পর্যটকের উপস্থিতি দেখা গেছে চোখে পড়ার মতো। বৃষ্টি আর মেঘের লুকোচুরির ভেতর সমুদ্র সৈকতে মনের আনন্দে মেতে উঠেছে আগত পর্যটকরা।
সর্বশেষ শুক্রবার ও গতকাল শনিবার এই ‘অফ সিজনে’ বর্ষা মৌসুমের রেকর্ড পর্যটকের সমাগম হয়েছে। এই ছুটির দিনে সকাল থেকেই লাবণী, সুগন্ধা, কলাতলী ও সি–গাল পয়েন্টে হাজারো পর্যটকের পদচারণায় মুখর হয়ে উঠেছে সৈকত। বিশেষ করে বর্ষার সাগর উপভোগ করতে যারা ভালোবাসেন, তাদের অনেকেই ছুটে এসেছেন কক্সবাজারে।
সৈকতের বিভিন্ন পয়েন্ট ঘুরে দেখা গেছে, পরিবার–পরিজন ও বন্ধুদের নিয়ে সমুদ্রের ঢেউ উপভোগে ব্যস্ত অসংখ্য দর্শনার্থী। কেউ সাগরের পানিতে গোসল করছেন, কেউ বালুকাবেলায় হাঁটছেন। আবার কেউ ঢেউয়ের সঙ্গে আনন্দের মুহূর্ত কাটানোর পাশাপাশি ছবি তুলে তা ক্যামেরাবন্দি করছেন। শুধু সমুদ্রসৈকত নয়, কক্সবাজারের অন্যান্য পর্যটনকেন্দ্রেও বেড়েছে দর্শনার্থীদের উপস্থিতি। হিমছড়ি, ইনানী, ডুলাহাজারা সাফারি পার্ক, কক্সবাজার আইকনিক রেলস্টেশনসহ জেলার বিভিন্ন দর্শনীয় স্থানে পরিবার ও বন্ধুদের নিয়ে ঘুরে বেড়াচ্ছেন ভ্রমণপিপাসুরা।
জেলা প্রশাসনের বিচ কর্মীদের সুপারভাইজার মাহবুব আলম জানান, সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত লাবণী, সুগন্ধা ও কলাতলী সৈকতে পর্যটকেরা সমুদ্র উপভোগ করতে নেমেছেন। অনেকে আবার মেরিন ড্রাইভ সড়ক ধরে টেকনাফ পর্যন্ত ঘুরতে যাচ্ছেন। অন্যদিকে বৈরি আবহাওয়া বিরাজমান থাকায় পর্যটকের নিরাপত্তায় বেশ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে লাইফগার্ড সদস্যরা। সৈকতে গোসলে নেমে বিপদে পড়া পর্যটকদের উদ্ধারে কাজ করছে সি সেফ লাইফগার্ড।
সৈকতে দায়িত্বে থাকা সি সেফ লাইফ গার্ডের দলনেতা সাইফুল্লাহ সিফাত বলেন, এই সময়ে সাগর বেশ উত্তাল থাকে। এর মধ্যে সৈকতের কয়েকটি স্থানে রিপ কারেন্ট বা গুপ্ত স্রোত তৈরি হয়েছে। তাই পর্যটকদের সতর্কতার সঙ্গে সাগরে নামতে নির্দেশনা দেওয়া হচ্ছে। এছাড়াও সার্বক্ষণিক নিয়োজিত রয়েছে লাইফগার্ড কর্মীরা।
হোটেল–মোটেল, গেস্টহাউজ মালিক সমিতির সভাপতি আবুল কাশেম সিকদার বলেন, বর্তমানে প্রায় ৮০ শতাংশ হোটেলকক্ষ বুকিং রয়েছে। যেহেতু ভারী বৃষ্টি নেই, তাই পর্যটকদের এই চাপ অব্যাহত থাকবে বলে আশা করা হচ্ছে। কঙবাজারের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ ও অপারেশন) অহিদুর রহমান বলেন, পর্যটকদের সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
এদিকে পর্যটকদের হয়রানি ও যেকোনো অনিয়ম ঠেকাতে মাঠে রয়েছে জেলা প্রশাসনের ভ্রাম্যমাণ আদালত। জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নাফিস ইনতেসার নাফির নেতৃত্বে অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। নাফিস ইনতেসার বলেন, পর্যটক হয়রানিসহ যেকোনো অনিয়মের অভিযোগ পাওয়া গেলে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।












