মাস্কের স্যাটেলাইটে ঠাসা কক্ষপথ, বড় সংঘর্ষের চরম ঝুঁকি

| মঙ্গলবার , ১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ at ৮:২২ পূর্বাহ্ণ

ইলন মাস্কের মহাকাশ কোম্পানি স্পেসএক্সের হাজার হাজার স্যাটেলাইটে ক্রমেই ঘন হয়ে উঠছে মহাকাশে পৃথিবীর নিম্ন কক্ষপথ। খবর বিডিনিউজের।

বিজ্ঞানীদের আশঙ্কা, অনিয়ন্ত্রিত এ ভিড় যে কোনো মুহূর্তে ঘটাতে পারে ভয়াবহ সংঘর্ষ, যা কেবল বিশ্বজুড়ে প্রযুক্তিগত যোগাযোগ ব্যবস্থাই অচল করবে না, বরং তৈরি করবে মারাত্মক বিপর্যয়ের ঝুঁকি। পৃথিবীর কাছাকাছি মহাকাশের নিম্ন কক্ষপথ ভূপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ১ হাজার ২০০ মাইল পর্যন্ত বিস্তৃত। এ অঞ্চলে ক্রমেই স্যাটেলাইটরে ভিড় বাড়ছে বলে প্রতিবেদনে লিখেছে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম ইন্ডিপেনডেন্ট। বিজ্ঞানীরা বলছেন, কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত সংঘর্ষ বা অপশক্তির ক্ষতিকর পদক্ষেপের ফলে সেখানে তৈরি হতে পারে ভয়াবহ চেইন রিঅ্যাকশন বা ধারাবাহিক বিপর্যয়। এর জেরে অচল হয়ে পড়তে পারে বিশ্বের সার্বিক প্রযুক্তিগত অবকাঠামো বা মহাকাশে জমে থাকা বর্জ্য খসে সরাসরি পৃথিবীতে পড়তে পারে।

ইউনিভার্সিটি অফ বার্মিংহামএর মহাকাশবিজ্ঞানের অধ্যাপক হিউ লুইস বলেছেন, আমার ধারণা, আমরা এমন এক পরিস্থিতির দিকে এগোচ্ছি, যেখানে মূল নেটওয়ার্কের মধ্যে থাকা কোনো সক্রিয় স্যাটেলাইট সরাসরি দুর্ঘটনার কবলে পড়বে। দুর্ঘটনা কিন্তু এড়ানোর চেষ্টা না করার কারণে ঘটবে না, বরং এড়ানোর জন্য সব ধরনের চেষ্টা করার পরও শেষ রক্ষা হবে না। মার্কিন বাণিজ্য প্রকাশনা ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের এক বিশ্লেষণ বলছে, নিম্ন কক্ষপথে বর্তমানে ৩০ হাজারেরও বেশি বস্তু ভাসছে, যার মধ্যে ১০ হাজারেরও বেশি বস্তু ধনকুবের ইলন মাস্কের কোম্পানি স্পেসএক্সের।

ইতিহাসের সবচেয়ে বড় স্যাটেলাইট বহর নিয়ন্ত্রণ করছে স্পেসএক্স, যা তাদের স্টারলিংক সেবার মাধ্যমে বিশ্বজুড়ে স্যাটেলাইট ইন্টারনেট সরবরাহ করে। কোম্পানিটির দাবি, তাদের বিভিন্ন স্যাটেলাইট সার্বক্ষণিক এদের গতিপথ পর্যালোচনা করে। পথ চলাচলের সময় কোনো সংঘর্ষের আশঙ্কা যদি ১ কোটির মধ্যে ৩ বারের বেশি দেখা দেয় তবে স্বয়ংক্রিয়ভাবে তা পথ পরিবর্তন করে নেয়। মার্কিন নিয়ন্ত্রক সংস্থার কাছে জমা দেওয়া নথির বরাতে জানা গেছে, কেবল গেল এক বছরেই স্পেসএক্সের বিভিন্ন স্যাটেলাইট সংঘর্ষ এড়াতে ৩ লাখ ৫৫ হাজার বারেরও বেশি প্রতিরোধমূলক গতিপথ পরিবর্তন করেছে। পরিস্থিতি ও সার্বিক ঝুঁকি নিয়ে ইন্ডিপেনডেন্টের মন্তব্যের অনুরোধে সাড়া দেয়নি স্পেসএক্স।

বিভিন্ন স্যাটেলাইটের মধ্যে পারস্পরিক সংঘর্ষের ঘটনা এখনও বিরল হলেও ঝুঁকি কিন্তু থেকেই যায়। বায়ুমণ্ডলে পুড়ে ছাই হয়ে যাওয়া অকেজো স্যাটেলাইট ও মানুষের তৈরি মহাকাশ বর্জ্য ধ্বংস হওয়ার হারের চেয়ে নিম্নকক্ষপথে স্যাটেলাইটের ঘনত্ব দ্রুত বাড়তে পারে। ফলে পরবর্তী প্রজন্মের প্রতিটি স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণ দিন দিন আরও বেশি জটিল হয়ে উঠবে। বিভিন্ন সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিদ্বন্দ্বী বিভিন্ন দেশ তাদের নিজেদের স্যাটেলাইট ধ্বংস করেছে।

পূর্ববর্তী নিবন্ধসিএসইতে লেনদেন ১৬.৮৩ কোটি টাকা