নেপালের আকস্মিক বন্যায় মৃতের সংখ্যা বেড়েই চলছে, সেই সাথে ক্রমশই বাড়ছে নিখোঁজের সংখ্যাও। এখন পর্যন্ত মৃত্যুর সংখ্যা নয়শ ছাড়িয়েছে। গতকাল সোমবার সকালে নেপাল পুলিশ জানিয়েছে, এখনও পর্যন্ত ৯০৩টি মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। এর আগে রোববার নিখোঁজের সংখ্যা ২৫০২ জন বলা হলেও এখন সেই সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৪,২৪৭ জনে। নিখোঁজদের মধ্যে ৩ হাজার ৬৫৫ জন নেপালি নাগরিক, বাকি ৫৯২ জন বিদেশি নাগরিক। নিখোঁজ যারা রয়েছেন তাদেরকে উদ্ধারে সন্ধান চালিয়ে যাচ্ছেন উদ্ধারকর্মীরা।
এদিকে, সেখানকার জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের সুড়ঙ্গের ভেতরে আটকে পড়া শত শত মানুষকে উদ্ধারে তৎপরতা জোরদার করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন কর্মকর্তারা। আশঙ্কা করা হচ্ছে, এসব সুড়ঙ্গে আটকে পড়ে আছে ৯৩৩ জন কর্মী। অন্যদিকে, চীনের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে তিব্বতে এখন পর্যন্ত সরকারিভাবে মৃত্যুর সংখ্যা ১৬ জন। আর নিখোঁজ রয়েছে ৫৪৬ জন।
প্রসঙ্গত, গত বুধবার নেপাল–তিব্বত সীমান্তে হিমবাহ ধসের ফলে বরফ, কাদা ও পাথরের যে বিধ্বংসী ঢল নেমেছিল, তাতে কার্যত বিপর্যয় নামে নেপালে। পাহাড়ি ঢলে ভেসে আসে শত শত মরদেহ। অধিকাংশ দেহই শনাক্ত করার মতো পরিস্থিতিতে নেই। দেখে চেনার উপায় না থাকায় এগুলোর ডিএনএ নমুনা সংগ্রহ করে রাখা হচ্ছে। মরদেহগুলি বেশি দিন ফেলে রাখতেও পারছেন না কর্তৃপক্ষ। নেপালের মর্গে আর জায়গা হচ্ছে না। অস্থায়ী ভাবে কিছু ভবন চিহ্নিত করে সেখানে মরদেহ রাখার ব্যবস্থা করা হয়েছে। কিন্তু তা দীর্ঘ সময়ের জন্য সংরক্ষণের পরিকাঠামো নেই। তাই মরদেহগুলো গণকবর দেয়া হচ্ছে। নেপাল সরকারের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, তাদের মূল নজর এখন সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত দুই জেলা, রসুয়া ও নুওয়াকোটের ১১টি জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের ৯৩৩ জন কর্মী ও প্রকৌশলীকে উদ্ধারের কাজে, যারা ভূগর্ভস্থ সুড়ঙ্গের ভেতরে আটকে রয়েছেন। সুড়ঙ্গগুলোতে জমে থাকা ভারি কাদা ও পাথরের স্তূপ সরাতে সুনিয়ন্ত্রিত বিস্ফোরণ, এঙকাভেটর ও সার্চলাইট ব্যবহার করছে সেনাবাহিনী। নেপাল সেনাবাহিনীর মুখপাত্র রাজারাম বাসনেত বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে বলেন, ‘প্রচুর পরিমাণে ধ্বংসাবশেষ জমে রয়েছে, যা সুড়ঙ্গগুলো খোলার ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।’
অন্যদিকে, চীন জানিয়েছে তিব্বতের জিরোং কাউন্টিতে ৫৪৬ জন নিখোঁজ রয়েছেন, যার মধ্যে ২৩টি দেশের ২৬১ জন বিদেশি নাগরিকও আছেন। রেড ক্রস জানিয়েছে, এই দুর্যোগে প্রায় ৯০ হাজার মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন।
উদ্ধারকর্মীরা সতর্ক করে জানিয়েছেন, হিমবাহ ধসের স্থানে গঠিত কৃত্রিম গহ্বরটি বড় হয়ে শনিবার সন্ধ্যা নাগাদ ১৭৪,০০০ বর্গমিটারে পৌঁছেছে, যেখানে প্রায় ২৫ লাখ ঘনমিটার পানি জমে আছে। এর বাঁধ ভাঙলে নিম্নাঞ্চলে নতুন করে বড় ধরনের প্লাবন হতে পারে।












