‘জীবনের অভিজ্ঞতার কণ্ঠস্বর শুনি : বাস্তব কণ্ঠস্বর, বাস্তব পরিবর্তন’ প্রতিপাদ্যে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে বিশ্ব মানসিক স্বাস্থ্য দিবস–২০২৬ পালিত হয়েছে। এ উপলক্ষে গতকাল চমেক হাসপাতালের সম্মেলন কক্ষে এক গোলটেবিল বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। চমেক হাসপাতালের মনোরোগবিদ্যা বিভাগের বিভাগীয় প্রধান ও সহযোগী অধ্যাপক ডা. পঞ্চানন আচার্য্যের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত বৈঠকে মানসিক স্বাস্থ্য সুরক্ষা, আত্মহত্যা প্রতিরোধ, শিক্ষার্থীদের মানসিক বিকাশ এবং বিভিন্ন পেশার মানুষের মানসিক সমস্যা নিয়ে আলোচনা হয়। বৈঠকে মনোরোগবিদ্যা বিভাগ থেকে চিকিৎসা নিয়ে সুস্থ হওয়া একজন রোগী ও তাঁর অভিভাবক চিকিৎসকদের আন্তরিকতা ও কাউন্সেলিংয়ের প্রশংসা করেন। পাশাপাশি নার্সিং সেবার মান উন্নয়নের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেন।
নাসিরাবাদ সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় ও ডা. খাস্তগীর সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকরা শিক্ষার্থীদের ভালো ফলাফলের পাশাপাশি মানবিক মানুষ হিসেবে গড়ে তোলার ওপর গুরুত্ব দেন। মোবাইল ফোনের অতিরিক্ত ব্যবহার ও মাদকের ঝুঁকি থেকে শিক্ষার্থীদের রক্ষায় বিদ্যালয়ে স্থায়ী কাউন্সিলর নিয়োগের পদ সৃষ্টির তাগিদ দেন তাঁরা।
চট্টগ্রাম কলেজের মনোবিজ্ঞানের প্রভাষক হাসিব আল মাহমুদ মনোরোগ বিশেষজ্ঞ ও মনোবিজ্ঞানীদের সমন্বিতভাবে কাজ করার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেন। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের মনোবিজ্ঞান বিভাগের সহকারী অধ্যাপক নাজনীন সরকার বলেন, এখনো অনেকে মানসিক রোগকে জিন–ভূতের সমস্যা মনে করেন। এ ধারণা দূর করতে সচেতনতা বাড়ানো প্রয়োজন।
সিএমপি কমিশনার হাসান মোহাম্মদ শওকত আলী পুলিশ সদস্যদের মানসিক চাপ ও আত্মহত্যার ঝুঁকির কথা তুলে ধরে তাঁদের নিয়মিত মানসিক স্বাস্থ্য প্রশিক্ষণ ও চিকিৎসা পরামর্শ দেওয়ার আহ্বান জানান। শিশুরোগ বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ডা. বেলায়েত হোসেন ঢালী মানসিক স্বাস্থ্য সুরক্ষায় অভিভাবকদের দায়িত্বশীল ভূমিকার ওপর গুরুত্ব দেন। শিশুরোগ বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক বাসনা মুহুরী অটিজম নিয়ে নিজের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে সমস্যার পাশাপাশি সমাধানে উদ্যোগী হওয়ার আহ্বান জানান। বর্ষীয়ান মনোরোগ বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ডা. সৈয়দ মাহফুজুল হক বলেন, মানসিক স্বাস্থ্য খাতে স্থায়ী সমাধানে নীতিনির্ধারণী পর্যায় থেকে উদ্যোগ প্রয়োজন। চমেক হাসপাতালের মেডিসিন বিভাগের বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক ডা. আবদুস সাত্তার বলেন, শারীরিক উপসর্গের পেছনেও মানসিক সমস্যা থাকতে পারে, এ বিষয়ে রোগীদের সচেতন করতে চিকিৎসকদের ভূমিকা রাখতে হবে। সমাপনী বক্তব্যে মনোরোগ বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ডা. শফিউল হাসান মানসিক স্বাস্থ্যসেবা জোরদারে পারস্পরিক মতবিনিময় ও সম্মিলিত উদ্যোগের ওপর গুরুত্ব দেন।











