মাছ মাংস সবজির দাম বাড়তি, চাপে মানুষ

জাহেদুল কবির | সোমবার , ৩ আগস্ট, ২০২৬ at ৭:১০ পূর্বাহ্ণ

দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতিতে চাপে পড়েছে সীমিত আয়ের মানুষ। আয়ের সাথে ব্যয়ের ব্যবধানে দিন দিন বৃদ্ধি পাওয়ায় সংসার চালাতে হিমশিম খাচ্ছে অধিকাংশ মানুষ। খরচ কমাতে অনেকে পরিবারের সদস্যদের গ্রামে পাঠিয়ে দিচ্ছেন। অন্যদিকে নিম্নবিত্ত শ্রেণীর কান্না দেখার যেন কেউ নেই। আলু ভর্তা, ডিমডাল খাবেন, সেখানেও বেড়েছে খরচ। এক ডজন ডিম কিনতে হচ্ছে ১৪৫১৫০ টাকায়, মাঝারি মানের মসুর ডালের কেজি ১০০ টাকা এবং আলুর কেজি ৩০ টাকা। এছাড়া ঘর ভাড়া, ছেলেমেয়েদের পড়ালেখা এবং ওষুধ খরচ তো আছেই।

ভুক্তভোগীরা বলছেন, দেশের চাকরির বাজারে এখনো বেশির ভাগ মানুষের বেতনসীমা ১৫২৫ হাজারের ঘরে। আজ থেকে ৫ বছর আগে সেই টাকায় মোটামুটি সংসারের ব্যয় নির্বাহ করা যেত। এখন সময়ের ব্যবধানে প্রত্যেক পণ্যের দাম দ্বিগুণ, ক্ষেত্র বিশেষে দ্বিগুণের বেশি হয়ে গেছে। নিত্যপণ্যের সাথে বাসা ভাড়া, সন্তানের পড়াশোনা, যাতায়াত ও চিকিৎসার খরচ মেটাতে মাসের প্রথম সপ্তাহে ৯০ শতাংশ শেষ। বাকি সময়টা আত্মীয়স্বজন ও বন্ধুবান্ধবের কাছ থেকে ধারদেনা করে করে চলতে হচ্ছে মধ্যবিত্ত শ্রেণীর।

নগরীর ২ নং গেট মোড়ে কথা হয় ভ্যান চালক হোসেন আলীর সঙ্গে। তিনি জানান, ঘরে বউবাচ্চাসহ ৭ জনের সংসার। এখন আয় কমে গেছে। এর মধ্যে জিনিসপত্রের দাম বেড়েছে। নিজে একবেলা কম খেয়ে হলেও বাচ্চাদের খাওয়াতে হচ্ছে।

খুচরা বাজার বিশ্লেষণে দেখা গেছে, বর্তমানে প্রতি কেজি চিনি বিক্রি হচ্ছে ১০৫ টাকায়। পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ৫৫ থেকে ৬০ টাকা, রসুন ১৪০১৪৫ টাকা, আদা ১৫০ টাকা, মোটা মসুর ডাল ১০০ টাকা এবং চিকন মসুর ডাল প্রতি কেজি বিক্রি হচ্ছে ১৫০ টাকায়। অপরদিকে এক লিটার সয়াবিন তেল বিক্রি হচ্ছে ১৯৯ টাকা, ২ লিটার ৩৯৮ টাকা এবং ৫ লিটার সয়াবিন বিক্রি হচ্ছে ৯৭৫ টাকায়।

বাজারে সিদ্ধ চাল সিদ্ধ প্রতি কেজি মানভেদে ৪৮ টাকা থেকে শুরু করে ৯৫ টাকা পর্যন্ত। আতপ চাল বিক্রি হচ্ছে মানভেদে ৬৫ থেকে ৯০ টাকায়। এছাড়া ব্রয়লার মুরগির কেজি বিক্রি হচ্ছে ১৯০ টাকায়। পাঙ্গাস মাছ ২০০ টাকা, তেলাপিয়া ২২০ টাকা এবং রুই মাছ বিক্রি হচ্ছে ২৮০৩৫০ টাকায়। বাজারে বর্তমানে ৭০৮০ টাকার নিচে কোনো সবজি নেই।

ফরিদ উদ্দিন নামে একজন বেসরকারি চাকরিজীবী বলেন, বেতন পাই ২৫ হাজার টাকা। এর মধ্যে বাসা ভাড়া, গ্যাস বিল ও বিদ্যুৎ বিল পরিশোধ করতে ১৪ হাজার টাকা শেষ। এ টাকা দিয়ে কোনোভাবে টেনেটুনে সংসার চালাতে হচ্ছে। আমাদের মতো মধ্যবিত্ত মানুষ আলু ভর্তা, ডালডিম খাব, সেই সুযোগও নেই। খরচ বেড়েছে দ্বিগুণ।

ব্যবসায়ীরা জানান, আন্তর্জাতিক বাজারে ভোগ্যপণ্যের দাম আগের চেয়ে কমেছে। আমদানি ব্যয়ও বেড়েছে। কোনো ব্যবসায়ী তো আর লোকসান দিয়ে ব্যবসা করবেন না। অপরদিকে খুচরা ব্যবসায়ীদের অভিমত, পাইকারদের থেকে একটা নির্দিষ্ট মুনাফায় খুচরা ব্যবসায়ীরা পণ্য বিক্রি করেন। বর্তমানে দোকান ভাড়া, গ্যাসবিদ্যুৎ খরচ বেড়েছে। আমাদের অতি মুনাফা করার সুযোগ নেই।

বাজার সংশ্লিষ্টরা বলছেন, সরকার শুধুমাত্র রমজান এলেই বাজার মনিটরিং করে। মনিটরিংয়ের অভাবে ব্যবসায়ীরা নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম ইচ্ছেমতো বাড়ায়। বাজার নিয়ন্ত্রণে সরকারের নজরদারি বাড়ানোর দাবি জানান তারা।

কনজ্যুমার অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ক্যাব) চট্টগ্রাম বিভাগীয় সভাপতি এসএম নাজের হোসেন আজাদীকে বলেন, নিত্যপণ্যের এই ঊর্ধ্বগতিতে সবচেয়ে বিপদে আছে মধ্যবিত্ত শ্রেণী। সীমিত আয় দিয়ে সংসার চালানোটা দুরূহ হয়ে পড়েছে। বাজারে এমন কোনো পণ্য নেই যার দাম বাড়েনি। মাছমাংসসবজি থেকে শুরু করে প্রায় সব ভোগ্যপণ্যের দাম বেড়েই চলেছে। নিয়মিত বাজার মনিটরিং না করলে আরো দাম বাজার আশঙ্কা রয়েছে।

পূর্ববর্তী নিবন্ধমীরসরাইয়ে মাছবাহী পিকআপের ধাক্কায় দুই ইমামের মর্মান্তিক মৃত্যু
পরবর্তী নিবন্ধচট্টগ্রামে আরো ৩২ জন ডেঙ্গু আক্রান্ত