মহেশখালীর ছনখোলা পাড়ায় কলা চাষি আকবরের বাজিমাত

ফরিদুল আলম দেওয়ান, মহেশখালী | শনিবার , ৬ জুন, ২০২৬ at ১০:১৬ পূর্বাহ্ণ

লবণ চিংড়ি ও পানের বরজের জন্য বিখ্যাত কক্সবাজারের দ্বীপ উপজেলা মহেশখালী। কিন্তু এই চেনা জনপদেই এবার নীরবে ঘটে গেছে এক অনন্য কৃষি বিপ্লব। প্রথাগত চাষাবাদের বাইরে গিয়ে মাত্র ৭০০টি কলাগাছ লাগিয়ে বছরে ২০ লাখ টাকা আয় করে তাক লাগিয়ে দিয়েছেন হোয়ানক ইউনিয়নের ছনখোলা পাড়া গ্রামের অদম্য চাষি আকবর আলী। তাঁর এই অভাবনীয় সাফল্য এখন পুরো এলাকায় আলোড়ন সৃষ্টি করেছে, স্বপ্ন দেখাচ্ছে শত শত বেকার যুবককে। আর দেখাদেখিতে কলা চাষে উদ্বুদ্ধ হয়ে এগিয়ে এসেছেন উনি এলাকার অন্তত আরো অর্ধ শতাধিক কলা চাষি।

কয়েক বছর আগেও আকবর আলী আর দশজন সাধারণ কৃষকের মতোই দিনাতিপাত করতেন। কিন্তু চিরাচরিত ফসলের বাইরে নতুন কিছু করার তাড়না ছিল তাঁর মনে। মহেশখালীর মাটি ও আবহাওয়াকে কাজে লাগিয়ে তিনি সিদ্ধান্ত নেন পরিকল্পিত কলা চাষের।

নিজের মেধা ও কঠোর পরিশ্রমকে পুঁজি করে মহেশখালীর গোরকঘাটাজনতা বাজার প্রধান সড়কের পাশে ছনখোলা পাড়া গ্রামের এক খণ্ড জমিতে চলতি বছর শুরু করেন কলার বাগান। ৪ লাখ টাকা পুঁজি বিনিয়োগ করে মাত্র ৭০০টি চারা রোপণ করে যে যাত্রার সূচনা হয়েছিল, আজ তা রূপ নিয়েছে এক ফলবান বিপ্লবে।

ছনখোলা পাড়ার অপর এক কলা চাষি মোহাম্মদ ইসহাক বলেন, আকবর আলী একজন সফল চাষি। তার এই ‘কলা বিপ্লব’ দেখতে প্রতিদিন দূরদূরান্ত থেকে মানুষ ছুটে আসছেন তাঁর বাগানে। কেউ আসছেন পরামর্শ নিতে, কেউ বা আসছেন নিজের চোখে এই অভাবনীয় সাফল্য প্রত্যক্ষ করতে। অনেক বেকার যুবক এখন আকবর আলীকে অনুসরণ করে কলা চাষে উদ্বুদ্ধ হচ্ছেন। আমি নিজেও তার কলা চাষে উদ্বুদ্ধ হয়ে তার পাশাপাশি একটি বাগান করে লাভবান হয়েছি।

মহেশখালী উপজেলা কৃষি অফিসের উপসহকারী অফিসার সাইফুল ইসলাম বলেন, মহেশখালীর আবহাওয়া কলা চাষের জন্য উপযোগী। ধান বা অন্য ফসলের তুলনায় কলা চাষে দ্রুত ফলন মেলে। সঠিকভাবে সার প্রয়োগ ও পরিচর্যা এবং নিষ্কাশন ব্যবস্থা থাকলে কলার বাগান প্রাকৃতিক দুর্যোগে তুলনামূলক কম ক্ষতিগ্রস্ত হয়। পুষ্টিগুণে ভরপুর হওয়ায় স্থানীয় ও জাতীয় বাজারে কলার বারোমাসি চাহিদা থাকে।

মহেশখালীর হোয়ানক ইউনিয়নের ছনখোলা পাড়া গ্রামটি এখন আর কেবল একটি সাধারণ গ্রাম নয়, এটি এখন আধুনিক ও লাভজনক কৃষির এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। সরকারি ও বেসরকারি পর্যায় থেকে যদি আকবর আলীর মতো উদ্যোক্তাদের প্রয়োজনীয় ঋণ সুবিধা ও কারিগরি প্রশিক্ষণ দেওয়া যায়, তবে দেশের ফল উৎপাদন খাতে এক বিশাল বিপ্লব ঘটে যাবে।

পূর্ববর্তী নিবন্ধ১৩ জুন লালদীঘির বিভাগীয় সমাবেশ সফল করুন
পরবর্তী নিবন্ধপাহাড়ে বেগুনি ভুট্টায় সম্ভাবনা