মহান মে দিবস আজ শ্রমজীবী মানুষের দিন

আজাদী প্রতিবেদন | শুক্রবার , ১ মে, ২০২৬ at ৯:১৭ পূর্বাহ্ণ

আজ পহেলা মে, মহান মে দিবস। শ্রমিকের রক্তঝরা সংগ্রামের মধ্য দিয়ে ৮ ঘণ্টা কাজের অধিকার আদায়ের দিন। সভ্যতার কারিগর শ্রমিকের শ্রমের সঠিক মূল্যায়ন ও নিরাপদ কর্মপরিবেশ নিশ্চিতের জন্যই এই দিনে খেটে খাওয়া মানুষরা বন্দুকের সামনে বুক পেতে দিয়েছিল। তবে একুশ শতকে এসেও শ্রমিকদের সেই শ্রমের সঠিক মূল্যায়ন ও নিরাপদ কর্ম পরিবেশ নিশ্চিত না হওয়ায় হতাশ অধিকার সংগঠনগুলো। তারা বলছেনশ্রমিকদের অবহেলা করলে মে দিবসের চেতনা সার্থক হবে না।

শ্রমিকদের অধিকার আদায়ের ঐতিহাসিক লড়াইয়ের দিনকে স্মরণ করে আজ শুক্রবার বিশ্বব্যাপী পালিত হবে মহান মে দিবস। বাংলাদেশ সরকারও রাষ্ট্রীয়ভাবে দিবসটি পালন করবে। এবারের প্রতিপাদ্য ‘সুস্থ শ্রমিক, কর্মঠ হাত, আসবে এবার নব প্রভাত’। শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের আয়োজনে সকাল ১০টায় বাংলাদেশচীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে এক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখবেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন। এ সভায় সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী সভাপতিত্ব করবেন। এদিকে, মহান মে দিবস উপলক্ষ্যে রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দল আয়োজিত শ্রমিক সমাবেশে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এছাড়া, বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরসহ শীর্ষ জাতীয় ও শ্রমিক নেতারা বক্তব্য রাখবেন বলে জানিয়েছেন বিএনপির স্থাায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান। এ সমাবেশে লক্ষাধিক শ্রমজীবী মানুষের উপস্থিতির প্রত্যাশা করছে দলটি। বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন শ্রমিক ফেডারেশন চট্টগ্রাম আঞ্চলিক শাখাও দিবস উপলক্ষ্যে কর্মসূচি দিয়েছে। দৈনিক পত্রিকাগুলোতে বিজ্ঞপ্তি দিয়ে সংগঠনটি জানিয়েছেআজ ১ মে বৃহত্তর চট্টগ্রামে সকাল ৬ টা থেকে দুপুর ১ টা পর্যন্ত গাড়ি চলাচল বন্ধ থাকবে। সকাল ৯ টায় সিআরবি শিরীষতলা চত্বরে শ্রমিক সমাবেশ ও সমাবেশ শেষ লাল পতাকার মিছিল অনুষ্ঠিত হবে। বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন শ্রমিক ফেডারেশন চট্টগ্রাম বিভাগীয় আঞ্চলিক কমিটির সহসাধারণ সম্পাদক মো. আবদুর রহিম এ বিজ্ঞপ্তিটি পাঠান। মে দিবস উপলক্ষ্যে বিশ্বের ৮০টির বেশি দেশে ১ মে সরকারি ছুটির দিন হিসেবে পালিত হবে। বাংলাদেশেও সরকারি ছুটির পাশাপাশি নানান কর্মসূচির মাধ্যমে এ দিবসটি ব্যাপক গুরুত্ব ও ভাবগাম্ভীর্যের সাথে পালন করা হবে।

মহান মে দিবসের ইতিহাসের সূচনা ১৮৮৬ সালে যুক্তরাষ্ট্রের শিকাগো শহরে শ্রমিকদের ঐতিহাসিক আন্দোলনের মধ্য দিয়ে। শিল্প বিপ্লবপরবর্তী সময়ে শ্রমিকদের দিনে ১০ থেকে ১৬ ঘণ্টা পর্যন্ত কাজ করতে বাধ্য করা হলে তারা ৮ ঘণ্টা কর্মদিবসের দাবিতে সংগঠিত হয়ে ওঠেন। ওই বছরের ১ মে দেশজুড়ে ধর্মঘট ও বিক্ষোভ শুরু হয়, যার কেন্দ্রবিন্দু ছিল শিকাগো। আন্দোলনের ধারাবাহিকতায় ৪ মে সংঘটিত হে মার্কেটে বোমা বিস্ফোরণ ও পুলিশের গুলিতে বেশ কয়েকজন নিহত ও বহু মানুষ আহত হন। পরবর্তীতে, কয়েকজন শ্রমিক নেতাকে বিতর্কিত বিচারে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হলে, তা বিশ্বব্যাপী প্রতিবাদের জন্ম দেয় এবং শ্রমিক আন্দোলনের ইতিহাসে এক গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হয়। এরপর ১৮৮৯ সালে দ্বিতীয় আন্তর্জাতিক শ্রমিক সম্মেলনে ১ মে আন্তর্জাতিক শ্রমিক দিবস হিসেবে পালনের সিদ্ধান্ত নেয়। সেই থেকে দিনটি বিশ্বজুড়ে শ্রমিক অধিকার ও ন্যায্যতার প্রতীক হিসেবে বিবেচিত হয়।

পূর্ববর্তী নিবন্ধখালে ভাসছিল বোরকা পরা নারীর মরদেহ
পরবর্তী নিবন্ধউত্তর কাট্টলী ক্যাচমেন্টে ১১৪ কোটি টাকায় পরামর্শক নিয়োগ