আন্দামান সাগরে মালয়েশিয়াগামী একটি ট্রলারডুবির ঘটনায় শিশুসহ প্রায় ২৫০ জন বাংলাদেশি ও রোহিঙ্গা নিখোঁজ রয়েছে। গত সপ্তাহে প্রতিকূল আবহাওয়া ও অতিরিক্ত যাত্রীবোঝাইয়ের কারণে ট্রলারটি ডুবে যায় বলে মঙ্গলবার জানিয়েছে জাতিসংঘের শরণার্থী ও অভিবাসন বিষয়ক সংস্থা।
জাতিসংঘের সংস্থাগুলো জানায়, বাংলাদেশ থেকে মালয়েশিয়ার উদ্দেশে ছেড়ে যাওয়া ট্রলারটি উত্তাল সমুদ্র ও তীব্র বাতাসের কবলে পড়ে ডুবে যায়। ট্রলারটি কখন ডুবেছিল তা জানা যায়নি। তবে গত ৯ এপ্রিল বাংলাদেশের পতাকাবাহী একটি জাহাজ সাগরে ভাসমান ৯ জনকে উদ্ধার করে। তারা ড্রাম ও কাঠের টুকরো আঁকড়ে ধরে বেঁচে ছিলেন। গত সপ্তাহের ওই ঘটনায় উদ্ধার পাওয়াদের উদ্ধৃতি দিয়ে কোস্ট গার্ডের এক সদস্য জানান, গত ৪ এপ্রিল উন্নত জীবনের আশায় তারা বাংলাদেশ থেকে মালয়েশিয়ার উদ্দেশ্যে রওনা হয়েছিলেন। ৭ বা ৮ এপ্রিলের দিকে তারা ঝড়ের কবলে পড়েন। প্রায় দুই দিন সাগরে ভেসে থাকার পর ১১ এপ্রিল রাত ২টার দিকে ‘মেঘনা প্রাইড’ নামক একটি বাংলাদেশি পতাকাবাহী ট্যাংকার তাদের উদ্ধার করে।
উদ্ধার হওয়া ব্যক্তিরা কঙবাজারের রোহিঙ্গা ক্যাম্পের বাসিন্দা ও স্থানীয় বাংলাদেশি বলে শনাক্ত করা হয়েছে। পরে তাদের কোস্ট গার্ডের জাহাজ ‘মনসুর আলী’র কাছে হস্তান্তর করা হয়। বেঁচে ফেরা ব্যক্তিরা জানিয়েছেন, ট্রলারে প্রায় ১শ মানুষ দেখেছেন তারা।
উদ্ধার হওয়া রফিকুল ইসলাম (৪০) ফরাসি বার্তা সংস্থাকে জানান, প্রায় ৩৬ ঘণ্টা সাগরে ভেসে থাকার পর তিনি প্রাণে বাঁচেন। ট্রলার থেকে ছড়িয়ে পড়া তেলের আগুনে তার শরীর পুড়ে গেছে। মালয়েশিয়ায় চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে তাকে এই নৌকায় তোলা হয়েছিল বলে জানান তিনি।
জাতিসংঘের শরণার্থী বিষয়ক সংস্থা (ইউএনএইচসিআর) ও আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থা (আইওএম) এক যৌথ বিবৃতিতে বলেছে, এই মর্মান্তিক ঘটনা রোহিঙ্গাদের দীর্ঘস্থায়ী বাস্তুচ্যুতি এবং টেকসই সমাধানের অভাবের প্রতিফলন।
কঙবাজারের এক রোহিঙ্গা শরণার্থী বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে বলেন, মানুষ লড়াইয়ে মরছে, না খেয়ে মরছে। তাই অনেকে মনে করে এখানে তিলে তিলে মরার চেয়ে সাগরে মরা ভালো। মঙ্গলবার দেওয়া বিবৃতিতে জাতিসংঘ সংস্থাগুলো আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে রোহিঙ্গা ও তাদের আশ্রয়দাতা স্থানীয় বাংলাদেশিদের জন্য সহায়তা অব্যাহত রাখার আহ্বান জানিয়েছে। বিবৃতিতে আরও বলা হয়, বাংলাদেশের নতুন বছরের এই সময়ে এই ট্র্যাজেডি আমাদের মনে করিয়ে দিচ্ছে– মিয়ানমারে রোহিঙ্গাদের স্বেচ্ছায় ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসনের পরিবেশ তৈরিতে জরুরি পদক্ষেপ প্রয়োজন।











