বল বয়রা এখন ‘ফিউচার স্টার’

চট্টগ্রামের মাঠে নতুন সংযোজন

স্পোর্টস ডেস্ক | মঙ্গলবার , ২৮ এপ্রিল, ২০২৬ at ১১:১২ পূর্বাহ্ণ

নতুন কিছু শুরু মানেই যদি ‘চট্টগ্রাম’ হয় তবে এবারও সে কথা আবারো প্রমাণিত হলো। চট্টগ্রামের মাঠে বল বয়দের এবার দেয়া হলো নতুন পরিচিতি। বল বয় শব্দ বাদ তারা এখন ‘ফিউচার স্টার’। গতকাল বাংলাদেশনিউজিল্যান্ড প্রথম টিটোয়েন্টি ম্যাচ শুরুর আগে জাতীয় সঙ্গীতের জন্য মাঠে প্রবেশ করেন দুই দলের ক্রিকেটাররা, তাদের পেছনেই দেখা গেল একদল কিশোরকিশোরীকে। বাউন্ডারি সীমানার বাইরে সারিবদ্ধ হয়ে দাঁড়ালো তারা। তাদের পরনে আকাশী টি শার্ট ও ট্রাউজার। খেলা শুরুর ঠিক আগে তারা ছড়িয়ে পড়লো সীমানার ঠিক বাইরে মাঠের নানা প্রান্তে। তাদের পরিচয়, তারা ‘বল বয়।’ তাদের কাজ, সীমানা পেরোনো বল তুলে নিয়ে দ্রুত খেলোয়াড়দের কাছে পৌঁছে দেওয়া। একসময় ক্রিকেট ম্যাচের গুরুত্বপূর্ণ অনুসঙ্গ ছিল বল বয়। সময়ের পরিক্রমায় আধুনিক ক্রিকেটের নানা পারিপার্শ্বিকতায় এই সংস্কৃতি হারিয়েই গেছে প্রায়। বল বয় দেখা যায় এখন খুব কম সিরিজ বা টুর্নামেন্টেই। বাংলাদেশে সেটিই আবার ফিরিয়ে আনছেন বিসিবি সভাপতি তামিম ইকবাল। মূলত তার উদ্যোগেই আবার ফিরে এলো ‘বল বয়।’ কদিন আগে মিরপুরে ওয়ানডে সিরিজের সময় তামিম জানিয়েছিলেন ‘বল বয়’ ফিরিয়ে আনার ভাবনার কথা। নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে বাংলাদেশের টিটোয়েন্টি সিরিজ দিয়ে বাস্তব রূপ পেল সেটি। তামিম অবশ্য তাদেরকে ভিন্ন নামে ডাকতে চান। সাবেক অধিনায়ক সামাজিক মাধ্যমে জানালেন এটির পেছনের ভাবনাও। ‘বল বয়’ শব্দটা ব্যক্তিগতভাবে কখনোই খুব একটা ভালো লাগত না আমার। ওরাই আমাদের ভবিষ্যৎ, তাই আমি ওদেরকে বলতে চাই ‘ফিউচার স্টার।’ আশা করি, এই খুদে ক্রিকেটাররা ওদের প্রিয় ক্রিকেটারদের কাছ থেকে দেখে অনুপ্রাণিত হবে, ওদের স্বপ্নের সীমানা বড় হবে এবং একদিন বাংলাদেশের হয়ে খেলবে। আমিও একসময় ওদের মতোই ছিলামআমিও ছিলাম একজন বল বয়।’ সাধারণ স্থানীয় বিভিন্ন একাডেমির উঠতি ক্রিকেটারদের বেছে নেওয়া হয় এই ভূমিকার জন্য। সচিন টেন্ডুলকার থেকে শুরু করে বাংলাদেশের মোহাম্মদ আশরাফুল বা তামিম, যুগে যুগে অনেক তারকা ক্রিকেটার ছেলেবেলায় মাঠে থেকেছেন বল বয় হিসেবে। এই ‘ভবিষ্যতের তারকাদের’ ভূমিকা এ দিন শুধু বল কুড়োনোই ছিল না, ম্যাচের মাঝবিরতিতে তাদেরকে শারীরিক কসরত করান বিসিবির ট্রেনার ইফতিখার আহমেদ। চট্টগ্রামে ফিউচার স্টার হিসেবে অংশ নিয়েছে ২২ জন ক্ষুদে ক্রিকেটার যারা অনূর্ধ্ব১৪ ও অনূর্ধ্ব১৬ দলে ক্রিকেট খেলে থাকে। জাতীয় দলের ক্রিকেটারদের এত কাছে থেকে দেখার সুযোগ তাদের স্বপ্নকে আরও বড় করে তুলবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। তারা আরো বলছেন, এই উদ্যোগ শুধু ম্যাচ পরিচালনার অংশ নয়, বরং ভবিষ্যতের ক্রিকেটার তৈরির একটি প্রেরণাদায়ক প্ল্যাটফর্ম। মাঠের পাশে দাঁড়িয়ে খেলা দেখার এই অভিজ্ঞতা অনেক শিশুর জীবন বদলে দিতে পারে।

পূর্ববর্তী নিবন্ধচট্টগ্রাম আঞ্চলিক কমিটির প্রস্তুতি সভা
পরবর্তী নিবন্ধড্যান পরীক্ষায় চট্টগ্রাম জেলা ক্রীড়া সংস্থার সাফল্য