সম্প্রতি প্রবল বর্ষণ ও বন্যার কারণে বাঁশখালী উপজেলার চাম্বল ইউনিয়নের পূর্ব–চাম্বল আদর্শগ্রাম সংলগ্ন এলাকায় পাহাড়ধসের ঘটনা ঘটে। উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে সে মাটি সরিয়ে রাস্তার পাশে এবং লোকজন চলাচল উপযোগী করার জন্য স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের নির্দেশ দেওয়া হয়। এ সুযোগকে কাজে লাগিয়ে সড়কে জমে থাকা মাটি সরকারি কাজে ব্যবহার না করে বিক্রি করে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় এক ইউপি সদস্যের বিরুদ্ধে। এই বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দা আবদু শুকুর।
ইউএনও বরাবর দেওয়া অভিযোগে আবদু শুকুর উল্লেখ করেন, গত ৩ জুলাই থেকে ১১ জুলাই পর্যন্ত টানা ৯ দিনের ভারী বর্ষণ ও পাহাড়ধসের কারণে পূর্ব চাম্বল আদর্শগ্রাম আশ্রয় প্রকল্প থেকে ধুইল্যাঝিরি যাওয়ার সড়কের প্রায় ৩০০ ফুট অংশে বিপুল পরিমাণ মাটি ধসে পড়ে। এতে ওই সড়কে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। পাহাড় ধসের বিষয়টি স্থানীয় বাসিন্দারা বিষয়টি নজরে আনলে চাম্বল ইউনিয়ন পরিষদে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান ও ইউপি সদস্যরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। পরে উপজেলা প্রশাসনের সঙ্গে যোগাযোগ করে বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত ইউনিয়নের বিভিন্ন ভাঙা সড়ক সংস্কারে ধসে পড়া মাটি ব্যবহারের মৌখিক অনুমতি নেওয়া হয়। তবে পরবর্তী কয়েকদিন বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকায় মাটি অপসারণ করা সম্ভব হয়নি। পরে স্থানীয় ইউপি সদস্য জসীম উদ্দিনসহ আরও ২–৩ জন মিলে সরকারি কাজে ব্যবহার না করে ধসে পড়া মাটি বিক্রি করে দেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে। অভিযোগপত্রে স্থানীয় ইউপি সদস্য ফাতেমা, ফজল, আদর এবং স্থানীয় বাসিন্দা মোছাদ্দেক সাক্ষী হিসেবে স্বাক্ষর করেছেন। স্থানীয় স্কেভেটর ও ডাম্পার চালক মিজান, আবু ও মনির বলেন, ইউপি সদস্য জসিম আমাদের ডেকে সড়কে ধসে পড়া মাটি অপসারণ করে ইউনিয়নের বিভিন্ন ভাঙা সড়কে ফেলতে বলেন। তিনি দাবি করেন, এ কাজে
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার অনুমতি রয়েছে তার কাছে। তার কথামতো আমি নিজ খরচে মাটি অপসারণ করে নিজের প্রয়োজনেও ব্যবহার করেছি এবং বিভিন্ন ভাঙা সড়কে দিয়েছি। তবে কয়েক দিন পর সড়কে দেওয়া মাটিসহ মোট ১২১ গাড়ি মাটির জন্য প্রতি গাড়িতে ৪৫০ টাকা হিসেবে আমার কাছ থেকে টাকা নেওয়া হয়।
এবিষয়ে অভিযুক্ত ইউপি সদস্য জসীম উদ্দিন বলেন, আমি শুধু মাটি অপসারণ করে সড়কে চলাচলের ব্যবস্থা করেছি। মাটি বিক্রি করেছি কি না, তা এলাকায় এসে খোঁজ নিলেই জানতে পারবেন। কাউকে হুমকি দেওয়ার অভিযোগও সঠিক নয়। তবে মাটি অপসারণের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অনুমতি নিয়েছিলেন কি না, এ প্রশ্নের সরাসরি কোনো জবাব না দিয়ে তিনি বিষয়টি এড়িয়ে যান।
চাম্বল ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মো. শহীদ উল্লাহ বলেন, বিষয়টি নিয়ে অভিযোগ হয়েছে বলে জেনেছি। তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন হওয়া উচিত। বাঁশখালী উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. রুহুল আমিন বলেন, লিখিত অভিযোগ পেয়েছি, অভিযোগটি গুরুত্বসহকারে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।












