বান্দরবানে বন্যা ও পাহাড় ধসে প্রধান সড়কসহ জেলার দেড়শতাধিক অভ্যন্তরীণ সড়ক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সড়ক ও জনপথ বিভাগ, এলজিইডি, পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ড, পার্বত্য জেলা পরিষদ এবং পৌরসভার অর্থায়নে বাস্তবায়িত সড়কগুলোর দুইশ কোটি টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে দাবি প্রকৌশলীদের। মৃত্যুফাঁদে পরিণত হওয়া এসব সড়ক দিয়ে প্রতিদিন ঝুঁকি নিয়ে ‘বাধ্য হয়ে’ চলাচল করছে হাজার হাজার জনসাধারণ।
প্রকৌশল বিভাগসহ সংশ্লিষ্টরা জানায়, সামপ্রতিক আট দিনের বন্যা, পাহাড়ি ঢল ও পাহাড় ধসে জেলার সাতটি উপজেলা, দুটি পৌরসভা এবং ৩৪টি ইউনিয়নে অভ্যন্তরীণ সড়ক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বান্দরবান–কেরানীহাট–চট্টগ্রাম এবং বান্দরবান–রাঙামাটি সড়কও।
প্রাথমিক তথ্যমতে, সড়ক ও জনপথ বিভাগের ১৩টি সড়কের ৬৩ কিলোমিটার, ৪টি আরসিসি ব্রিজ, ৭টি বেইলি সেতু ও কালভার্ট মিলে ৬২ কোটি টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। স্থানীয় সরকার প্রকৌশল বিভাগের (এলজিইডি) ৪৯টি সড়কের ১৯ কিলোমিটার, ১৩টি কালভার্ট ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সড়কগুলো সংস্কারে ৩৯ কোটি টাকা বরাদ্দ প্রয়োজন। পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ডের রুমা–রোয়াংছড়িসহ ৫১টি সড়কের বিভিন্ন অংশ, কালভার্ট, রিটার্নিং ওয়াল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সড়কগুলো সংস্কারের জন্য প্রাথমিকভাবে ২১ কোটি টাকা বরাদ্দের প্রয়োজন। অপরদিকে, পার্বত্য জেলা পরিষদের নির্মাণকৃত ২৫টি সড়ক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সড়কগুলো মেরামতে ১৫ কোটি টাকা বরাদ্দের প্রয়োজন বলে জানিয়েছেন প্রকৌশলীরা। সরেজমিনে ঘুরে দেখা গেছে, বান্দরবান–বাঙালহালিয়া–রাঙামাটি সড়কের শিলক খালের উপর নির্মিত শিলক সেতুটি পাহাড়ি ঢলে ভেঙে যাওয়ায় সড়ক যোগাযোগ এখনো বন্ধ রয়েছে। রুমা–রোয়াংছড়ি সড়ক, চিম্বুক–টংকাবতী সড়ক, বেতছড়া সড়কের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। অভ্যন্তরীণ অসংখ্য সড়ক যানবাহন চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে।
স্থানীয় চাষি লাগ্যচিং মারমা ও জ্যোতিময় তঞ্চঙ্গ্যা বলেন, সড়কে অচলাবস্থা তৈরি হওয়ায় স্থানীয়ভাবে উৎপাদিত কৃষিপণ্য বাজারজাতকরণে চরম ভোগান্তিতে পড়েছে পার্বত্য জনপদের চাষিরা। উৎপাদিত কৃষিপণ্যগুলো দূর–দূরান্ত থেকে মাথায় করে নেওয়া হচ্ছে হাটবাজারে। দ্রুত ক্ষতিগ্রস্ত সড়কগুলো সংস্কারের দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগীরা।
বান্দরবান সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. সাখাওয়াত হোসেন বলেন, মূল সড়কগুলো সংস্কারের কাজ চলমান রয়েছে। বান্দরবান–রাঙামাটি সড়কে ভেঙে যাওয়া দুটি ব্রিজের মধ্যে বেইলি সেতু মেরামত করা হয়েছে। আরসিসি সেতুর স্থলে বেইলি সেতু স্থাপন করে সড়ক যোগাযোগ চালু করার প্রচেষ্টা চলছে। সবগুলো সড়ক দীর্ঘস্থায়ী মেরামতে ৬২ কোটি টাকা বরাদ্দ চেয়ে প্রস্তাবনা পাঠানো হয়েছে।
পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ডের বান্দরবান ইউনিটের নির্বাহী প্রকৌশলী ইয়াছির আরাফাত বলেন, জরুরি সংস্কারের কোনো বরাদ্দ নেই পার্বত্য উন্নয়ন বোর্ডে। তবে চলমান কাজগুলোর ঠিকাদারদের মাধ্যমে ক্ষতিগ্রস্ত সড়কগুলো মেরামতের চেষ্টা করা হচ্ছে। ক্ষতিগ্রস্ত সড়কগুলো মেরামতে কমপক্ষে ২১ কোটি টাকা বরাদ্দ চেয়ে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে চিঠি পাঠিয়েছি।
বান্দরবান পার্বত্য জেলা পরিষদের সিনিয়র প্রকৌশলী লেলিন চাকমা বলেন, প্রাথমিকভাবে চিহ্নিত বন্যা–পাহাড় ধসে ক্ষতিগ্রস্ত সড়কগুলো মেরামতে ১৫ কোটি টাকার মত লাগবে। তবে দূরদূরান্তে ক্ষতিগ্রস্ত সড়কগুলোর সব তথ্য এখনো পাওয়া যায়নি। ক্ষতিগ্রস্ত সড়কের সংখ্যা আরও বাড়বে।











