বজ্রপাতে স্ত্রীর সামনে স্বামী, ছেলের সামনে বাবার মৃত্যু

দেশের ৫ জেলায় বজ্রপাতে আরো ৭ জনের মৃত্যু

| বৃহস্পতিবার , ৭ মে, ২০২৬ at ৮:২৫ পূর্বাহ্ণ

ময়মনসিংহের দুই উপজেলায় ধান কাটার সময় বজ্রপাতে স্ত্রীর সামনে স্বামী এবং ছেলের সামনে বাবা নিহত হন বলে জানিয়েছে পুলিশ। গতকাল বুধবার বিকালে ফুলপুর এবং নান্দাইল উপজেলায় এ ঘটনা ঘটে বলে সংশ্লিষ্ট থানার পুলিশ জানিয়েছে। নিহতরা হলেন নান্দাইল উপজেলার খারুয়া ইউনিয়নের রাজাবাড়িয়া গ্রামের চান্দু মিয়ার ছেলে আব্দুর রাশিদ (৫৫) এবং ফুলপুর উপজেলার কঠুরাকান্দা গ্রামের প্রয়াত মহুর আলী মুন্সির ছেলে আব্দুল কুদ্দুস (৪৫)। খবর বিডি ও বাংলানিউজের।

নান্দাইল থানার ওসি আজহারুল ইসলাম বলেন, বিকাল সাড়ে ৪টার দিকে রাজাবাড়িয়া বাজারের পাশে নিজ ক্ষেতে স্ত্রীকে নিয়ে ধান কাটছিলেন আব্দুর রাশিদ। এ সময় বৃষ্টির সঙ্গে হঠাৎ বজ্রপাতে আব্দুর রাশিদ আহত হয়। আশপাশের লোকজন টের পেয়ে তাকে উদ্ধার করে নান্দাইল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেঙে নিলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। তবে এ ঘটনায় তার স্ত্রী অক্ষত আছেন। খবর পেয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে পুলিশ।

ফুলপুর থানার ওসি মো. ফিরোজ হোসেন বলেন, বেলা ৩টার দিকে বসতবাড়ির পাশে মইশাপুরি বিলে আব্দুল কুদ্দুসসহ সাতজন শ্রমিক ধান কাটছিলেন। এ সময় বৃষ্টি শুরু হলে পাঁচ শ্রমিক নিরাপদ স্থানে গেলেও আব্দুল কদ্দুস ও তার বড় ছেলে আব্দুল মালেক ক্ষেতেই রয়ে যান। হঠাৎ বজ্রপাতে আহত হয়ে আব্দুল মালেক ঘটনাস্থলেই মারা যান। খবর পেয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে পুলিশ।

৫ জেলায় বজ্রপাতে ৭ জনের মৃত্যু

দেশের পাঁচ জেলায় বজ্রপাতে সাতজনের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে নওগাঁয় তিন ও লালমনিরহাট, কুড়িগ্রাম, জামালপুর ও নাটোরে একজন করে চারজন রয়েছেন। বুধবার দুপুর থেকে বিকেল পর্যন্ত এসব প্রাণহানির ঘটনা ঘটে।

নওগাঁয় দুপুরে বৃষ্টির মধ্যে ধান কাটার সময় বজ্রপাতে জেলার মহাদেবপুর উপজেলায় একজন ও নিয়ামতপুর উপজেলায় দুজনের মৃত্যু হয়েছে। তারা তিনজন পেশায় কৃষি শ্রমিক ছিলেন। মহাদেবপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ওমর ফারুক বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, দুপুরে ধান কাটছিলেন দিলিপ চন্দ্র বর্মন নামে এক ব্যক্তি। এ সময় বজ্রপাত হলে তার মৃত্যু হয়। তার বাড়ি মহাদেবপুর উপজেলার খাজুর ইউনিয়নের কুড়াপাড়া গ্রামে।

অন্যদিকে নিয়ামতপুর উপজেলায় আলাদা স্থানে বজ্রপাতে দুজন কৃষি শ্রমিকের মৃত্যু হয়েছে। নিয়ামতপুর থানার ওসি মাহাবুবুর রহমান জানান, উপজেলার হাজিনগর ইউনিয়নে ধান কাটার সময় বজ্রপাতে এক শ্রমিকের মৃত্যু হয়েছে। তার বাড়ি খাসের হাট উঠাপাড়ায় বলে জানা গেলেও নাম জানা যায়নি। অপরদিকে উপজেলার চন্দননগর ইউনিয়নের রামনগর গ্রামে ধান কেটে ঘরে নেওয়ার সময় বজ্রপাতে অনুকূল চন্দ্র মাহন্ত নামে এক ব্যক্তির মৃত্যু হয়।

লালমনিরহাট জেলার কালীগঞ্জ উপজেলায় বজ্রপাতের আঘাতে ইউসুফ আলী (৪০) নামে এক কৃষকের মৃত্যু হয়েছে। দুপুরের দিকে উপজেলার ভোটমারী ইউনিয়নের ভুল্যারহাট বাজার এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। বজ্রপাতের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন কালীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেঙের জরুরি বিভাগে দায়িত্বরত চিকিৎসক ডা. স্বর্ণা আহমেদ।

কুড়িগ্রাম জেলার নাগেশ্বরী উপজেলার বদিজামালপুর গ্রামে দুপুরে বজ্রপাতে মো. ওবাইদুল নামে এক কৃষকের মৃত্যু হয়েছে। জানা যায়, দুপুরের দিকে ওবাইদুল নিজ জমিতে ধান কাটতে যান। এসময় বৃষ্টি শুরু হলে বজ্রপাত সরাসরি তার ওপর আঘাত হানলে তিনি ঘটনাস্থলেই গুরুতর আহত হয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে দ্রুত হাসপাতালে নেওয়ার চেষ্টা করলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। নাগেশ্বরী থানা পুলিশের ওসি আব্দুল্লাহ হীল জামান বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

জামালপুরে বিকেলের দিকে দেওয়ানগঞ্জ উপজেলার বাহাদুরাবাদ ইউনিয়নের নাজিরপুর গ্রামে বজ্রপাতে সোহেল (২৯) নামে এক যুবকের মৃত্যু হয়েছে। দেওয়ানগঞ্জ মডেল থানার ওসি আনোয়ার হোসেন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। নাটোরের লালপুর উপজেলার বিলবাড়িয়া ইউনিয়নের নওপাড়া গ্রামের নওসাড়া সুলতানপুর চরের মাঠে বজ্রপাতে মো. আজিজ মণ্ডল (৪৫) নামে এক কৃষকের মৃত্যু হয়েছে। লালপুর থানার ওসি মো. শফিকুল ইসলাম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, লাশ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

পূর্ববর্তী নিবন্ধকিট শেষ হওয়ার আগেই নতুন চালান আসার সম্ভাবনা আছে
পরবর্তী নিবন্ধপশ্চিমবঙ্গে বিজেপি নেতা শুভেন্দুর সহকারীকে গুলি করে হত্যা