বাঁশখালী পৌরসভা এলাকায় বউ–শাশুড়ির ঝগড়া থামাতে গিয়ে লাঠির আঘাতে আহত হয়ে চমেক হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মোহাম্মদ রাশেদ (৩৫) নামে এক যুবক মারা গেছেন। এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে জমিলা আক্তার (৩০) নামে এক গৃহবধূকে গ্রেপ্তার করেছে বাঁশখালী থানা পুলিশ। ঘটনায় আরও কয়েকজন আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে। মঙ্গলবার বাঁশখালী পৌরসভার ৫ নম্বর ওয়ার্ডের জঙ্গল জলদি ধুইল্যাঝিরি এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। মৃত রাশেদ ওই এলাকার নুরুল আলমের ছেলে।
মামলা ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, জমিলা আক্তারের স্বামী মোহাম্মদ আবদুল্লাহ প্রায় পাঁচ বছর ধরে প্রবাসে রয়েছেন। পারিবারিক বিরোধকে কেন্দ্র করে জমিলা ও তাঁর শাশুড়ি হোসনে আরা বেগমের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। বিষয়টি নিয়ে স্থানীয়ভাবে একাধিকবার সালিস–বৈঠক হলেও বিরোধের স্থায়ী সমাধান হয়নি।
ঘটনার দিন হোসনে আরা বেগম তাঁর নাতনিকে দুষ্টুমি করার কারণে বেত দিয়ে মারধর করলে এ নিয়ে জমিলা আক্তারের সঙ্গে তাঁর শাশুড়ির কথা–কাটাকাটি শুরু হয়। একপর্যায়ে তা ঝগড়ায় রূপ নিলে স্থানীয় কয়েকজন নারী–পুরুষ পরিস্থিতি শান্ত করতে এগিয়ে আসেন। অভিযোগ রয়েছে, এ সময় ঝগড়া থামাতে এগিয়ে আসা প্রতিবেশী রাশেদকে লাঠি দিয়ে মাথায় আঘাত করেন জমিলা আক্তার। এতে তিনি গুরুতর আহত হন। স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে বাঁশখালী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক উন্নত চিকিৎসার জন্য চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে পাঠান। চমেক হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় গতকাল বুধবার মো: রাশেদের মৃত্যু হয়।
এ ঘটনায় নিহত রাশেদের স্ত্রী বাদী হয়ে বাঁশখালী থানায় মামলা করেন। মামলার পর পুলিশ অভিযুক্ত জমিলা আক্তারকে গ্রেপ্তার করে বলে থানা সুত্রে জানা যায়।
বাঁশখালী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. রবিউল হক বলেন, ‘ঝগড়া থামাতে গিয়ে লাঠির আঘাতে আহত হয়ে রাশেদ নামে এক যুবকের মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় তাঁর স্ত্রী বাদী হয়ে থানায় মামলা করেছেন। মামলার এজাহারভুক্ত আসামি জমিলা আক্তারকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। নিহতের মরদেহ চমেক হাসপাতালে ময়নাতদন্তের প্রক্রিয়া চলছে। ঘটনার প্রকৃত কারণ ও সংশ্লিষ্টদের ভূমিকা তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’












