ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ফলাফল পাল্টে দিতে পারে, এমন কোনো ‘ইঞ্জিনিয়ারিং’ না দেখার কথা বলছেন ইউরোপীয় ইউনিয়নের নির্বাচন পর্যবেক্ষণ মিশনের প্রধান ইভার্স ইয়াবস। ভোটের দুই মাসের বেশি সময় পর পর্যবেক্ষণ মিশনের পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন প্রকাশের সংবাদ সম্মেলনে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন। খবর বিডিনিউজের।
ইভার্স ইয়াবস বলেন, ‘নির্বাচন পর্যবেক্ষণের আন্তর্জাতিকভাবে গ্রহণযোগ্য সবচেয়ে ভালো উপায় অনুসরণ করে আমরা আমাদের কাজটা করেছি এবং ভোটের ফলাফল পাল্টে দিতে পারে– এমন কোনো ইঞ্জিনিয়ারিং আমরা দেখিনি। সুতরাং এ রকম কিছু সেখানে ছিল না।’ ফল গণনায় নির্বাচন কমিশনের উদ্যোগের কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘আমি মনে করি, পুরো প্রক্রিয়াকে স্বচ্ছ করতে নির্বাচন কমিশন অনেক কাজ করেছে। জাতীয় পর্যায় থেকে একক কেন্দ্র পর্যন্ত ফলাফল পাওয়া বা আসনভিত্তিক এবং জাতীয় পর্যায়ে কীভাবে ফলাফল গণনা করা হবে, সেটার দিক থেকে।’ অভিযোগ থাকলে আদালতে যাওয়ার যে আইনি সুযোগ রয়েছে, সেই প্রক্রিয়ার কথা তুলে ধরে ইভার্স ইয়াবস বলেন, ‘আমি মনে করি, এটা নাগরিকদের জন্যও গুরুত্বপূর্ণ। নির্বাচনি ইঞ্জিনিয়ারিং বা প্রতারণার অভিযোগ থাকলে আপনি আইনিভাবে সেটার প্রতিকার করতে পারেন এবং কীভাবে করা হবে সেটার প্রক্রিয়া এখানে আছে। এবং এটা খুবই গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।’ তিনি বলেন, ‘আমি যতটুকু জানি, এক্ষেত্রে কিছু মামলা চলমান আছে। আমি জানি না, এমন কোনো গণতান্ত্রিক নির্বাচন আছে কি না, যেখানে কোনো না কোনো প্রকারের ছোটখাটো অভিযোগ থাকে না। চ্যালেঞ্জ কোনো কোনো ক্ষেত্রে বেশি থাকে। তবে স্পষ্ট, নিরপেক্ষ ও পক্ষপাতহীন আইনি প্রক্রিয়া থাকাটা গুরুত্বপূর্ণ।’
ঢাকা–১৫ এবং ঢাকা–৮ আসনে ‘ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিং’র অভিযোগের বিষয়ে এক প্রশ্নের জবাবে ইইউ নির্বাচন পর্যবেক্ষণ মিশনের প্রধান বলেন, সুনির্দিষ্ট বিষয়ে মন্তব্য তারা করতে চান না। কারও অভিযোগ থাকলে আইনি প্রতিকার চাইতে পারে। আইনি প্রক্রিয়া থাকাকে ইতিবাচক হিসাবে বর্ণনা করে ঝুলে থাকা অভিযোগগুলোর দ্রুত মীমাংসার পরামর্শ দেন ইভার্স ইয়াবস।
২০০৮ সালের পর ত্রয়োদশ সংসদ নির্বচনে প্রথম পূর্ণাঙ্গ পর্যবেক্ষণ মিশন পাঠায় ইউরোপীয় ইউনিয়ন। পূর্ণ সক্ষমতার এই মিশনে ইউরোপীয় ইউনিয়নের ২৭টি সদস্য দেশের পাশাপাশি কানাডা, নরওয়ে ও সুইজারল্যান্ডের প্রায় ২০০ জন পর্যবেক্ষক ছিলেন।














