সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের বদলি কার্যক্রম পরিচালনায় জাতীয়, বিভাগীয়, জেলা, উপজেলা বা থানা পর্যায়ে চার স্তরের কমিটিতে কিছুটা পরিবর্তন এনেছে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়। এর মধ্যে বিভাগীয়, জেলা, উপজেলা বা থানা পর্যায়ের কমিটিতে সদস্য হিসেবে দুজন গণ্যমান্য ব্যক্তির পরিবর্তে দুজন বিদ্যোৎসাহী বা শিক্ষানুরাগীকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। আর জাতীয় পর্যায়ের কমিটির সভাপতির দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালককে। এ দায়িত্ব আগে ছিল প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিবের। এ কমিটির দায়িত্বেও কিছুটা পরিবর্তন আনা হয়েছে।
প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের বিদ্যালয় অধিশাখার উপসচিব রাজীব কুমার সরকার গতকাল শনিবার রাতে বিডিনিউজকে বলেন, এসব পরিবর্তনগুলো এনে কমিটি গঠনের প্রজ্ঞাপনটি সংশোধন করা হয়েছে।
বিভাগীয়, জেলা, উপজেলা বা থানা পর্যায়ের কমিটির সদস্য হিসেবে গণমান্য ব্যক্তি বলতে কাদের বোঝানো হয়েছিল, তা স্পষ্ট করতেই সরকারের উচ্চপর্যায়ের সিদ্ধান্তে এ পরিবর্তন আনা হয়েছে বলে জানান এ কর্মকর্তা।
সংশোধিত প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, জাতীয় পর্যায়ে শিক্ষক বদলির আবেদন যাচাই–বাছাই ও নিষ্পত্তির জন্য গঠিত কমিটির সভাপতি হবেন প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক। প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের বিদ্যালয় অধিশাখার যুগ্মসচিব এ কমিটির সদস্য এবং প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের পলিসি ও অপারেশন শাখার পরিচালক এ কমিটির সদস্য সচিবের দায়িত্ব পালন করবেন।
আগের প্রজ্ঞাপনে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিবের নেতৃত্বে গঠিত এ কমিটিতে সদস্য হিসেবে অন্তর্ভুক্ত ছিলেন প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক। সদস্য–সচিব ছিলেন মন্ত্রণালয়ের বিদ্যালয় অধিশাখার অতিরিক্ত সচিব।
আগের প্রজ্ঞাপনে জাতীয় পর্যায়ের কমিটিকে সভার কার্যবিবরণীসহ বিস্তারিত প্রতিবেদন মন্ত্রীর অনুমোদনের জন্য পাঠানোর কথা বলা ছিল। সংশোধিত প্রজ্ঞাপনে আবেদন যাচাই–বাছাইসহ বদলির চূড়ান্ত তালিকা প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ে পাঠাতে বলা হয়েছে।
মন্ত্রণালয়ের প্রশাসনিক অনুমোদনের পর কমিটির সদস্য সচিবের দায়িত্বে থাকা অধিদপ্তরের পলিসি ও অপারেশন শাখার পরিচালককে বদলির আদেশ জারির ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে।
শিক্ষকদের বদলির জন্য সাতটি শর্ত অনুসরণ করতে সংশোধিত প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে চার কমিটিকে– ১. চাকরির মেয়াদ ন্যূনতম দুই বছর পূর্ণ না হলে কোনো সহকারী শিক্ষক বা শিক্ষিকা বদলির সুযোগ পাবেন না এবং বদলির পর তিন বছর অতিক্রম না হলে কোনো শিক্ষক পুনর্বদলির জন্য বিবেচিত হবেন না। ২. সংশ্লিষ্ট বিদ্যালয়ে কেবল শূন্য পদের বিপরীতে বদলি করা যাবে। ৩. কোনো শিক্ষকের আবেদন ছাড়া নিজ বিদ্যালয় থেকে অন্য বিদ্যালয়ে বদলি করা যাবে না। তবে জনস্বার্থে বা প্রশাসনিক কারণে জাতীয় কমিটির অনুমোদন সাপেক্ষে বদলি করা যাবে। ৪. যেসব বিদ্যালয়ে পাঁচজন বা তার কমসংখ্যক শিক্ষক কর্মরত আছেন কিংবা শিক্ষক–শিক্ষার্থী অনুপাত ১:৪০ এর বেশি, সেসব বিদ্যালয় থেকে বদলি করা যাবে না। ৫. একই বিদ্যালয়ে একাধিক শিক্ষক আবেদন করলে যথাক্রমে জ্যেষ্ঠ শিক্ষকেরা অগ্রাধিকার পাবেন। ৬. একটি বিদ্যালয়ে সর্বোচ্চ তিনজন শিক্ষককে ‘সংযুক্তি’ পদায়ন করা যাবে। ৭. বদলির ক্ষেত্রে সব শর্তাবলি পূরণ সাপেক্ষে শিক্ষিকারা স্থায়ী ঠিকানা বা স্বামীর ঠিকানার নিকটবর্তী বিদ্যালয়ে বদলির ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার পাবেন।
আগে অনলাইনে বদলির নীতিমালাতেও এসব শর্ত ছিল।












