যুদ্ধ শেষ করার লক্ষ্যে গত সপ্তাহে স্বাক্ষরিত সমঝোতা চুক্তির সবগুলো প্রধান দিক নিয়ে পরস্পরবিরোধী বিবরণ দিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান। এগুলোর মধ্যে পারমাণবিক পরিদর্শন ও সম্পদ জব্দ নিয়ে পক্ষ দুটির মধ্যে স্পষ্টতই মতবিরোধ দেখা দিয়েছে। মঙ্গলবার যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, ইরান অনন্ত সংখ্যক পারমাণবিক পরিদর্শনে সম্মত হয়েছিল। কিন্তু তেহরান বলছে, আলোচনায় এমন কোনো ছাড় দেয়নি তারা। এতে তাদের মধ্যে হওয়া নড়বড়ে শান্তি চুক্তির কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। খবর বিডিনিউজের।
এই দুই দেশ সুইজারল্যান্ডে প্রথম পর্বের আলোচনায় মিলিত হয়েছিল, যা সোমবার শেষ হয়। কিন্তু তারা ইরানের জন্য আর্থিক প্রণোদনা, হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ এবং লেবাননে ইসরায়েলের সমান্তরাল যুদ্ধ নিয়ে তাদের সমঝোতার বিষয়ে পরস্পর বিরোধী বিবরণ দিচ্ছে আর তাতে যুদ্ধ শেষ করতে হওয়া সমঝোতা চুক্তির সবগুলো প্রধান দিক নিয়ে তাদের মধ্যে বিরোধের আভাস পাওয়া যাচ্ছে। খবর বিডিনিউজের। তারপরও ট্রাম্প দাবি করেছেন, ইরানের সঙ্গে আলোচনা মসৃণভাবে এগিয়ে যাচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্রের পেনসিলভেইনিয়ায় তিনি এক সমাবেশে বলেছেন, আমরা বেশ ভালোভাবেই মানিয়ে চলছি।
সমঝোতা চুক্তিটিতে লেবাননসহ সব যুদ্ধক্ষেত্রে অবিলম্বে যুদ্ধ বন্ধের আহ্বান জানানোর পাশাপাশি তেহরানের ওপর থেকে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার ও বিদেশে জব্দ ইরানি সম্পদ অবমুক্ত করার কথাও বলা হয়েছে। এতে ইরানের পুনর্গঠনের জন্য ৩০ হাজার কোটি ডলারের একটি বিনিয়োগ তহবিলের রূপরেখাও দেওয়া হয়েছে। এই রূপরেখায় ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচির ওপর কোনো সীমা আরোপ করেনি, বরং এই বিষয়টি ৬০ দিনের আলোচনায় সমাধান করার জন্য রেখে দেওয়া হয়েছে। ট্রাম্প দাবি করেছেন, ইরান তাদের ক্ষতিগ্রস্ত পারমাণবিক কেন্দ্রগুলোতে আন্তর্জাতিক পরিদর্শকদের অনন্ত সংখ্যক পরিদর্শনের বিষয়ে সম্মত হয়েছিল। তবে তাদের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে কোনো আলোচনা হওয়ার কথা অস্বীকার করেছে ইরান। তেহরান বলেছে, তারা আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার পরিদর্শকদের ফের তাদের দেশে আমন্ত্রণ জানাতে সম্মত হয়নি। এই দুই পক্ষ বিদেশের একাউন্টগুলোতে জব্দ থাকা ইরানি তহবিলে দেশটির প্রবেশাধিকার দেওয়ার বিষয়ের বিস্তারিত নিয়েও একমত হতে পারেনি। ট্রাম্প বলেছেন, যেকোনো অবমুক্ত সম্পদ যুক্তরাষ্ট্র থেকে খাদ্য ও ওষুধ কিনতে ব্যবহার করা হবে। অপরদিকে জাতিসংঘের জেনিভা দপ্তরে নিয়োজিত ইরানি রাষ্ট্রদূত আলি বাহরেনি বলেছেন, ওই অর্থ কীভাবে ব্যবহার করা হবে সে সিদ্ধান্ত নেবে ইরান।











