কক্সবাজারের চকরিয়ার বানিয়াছড়া হয়ে পেকুয়া সংযোগ সড়কের বরইতলীর সোনাইছড়ি ছড়াখালের ওপর নির্মিত একমাত্র বেইলি সেতুটির পাটাতন জরাজীর্ণ হয়ে গেছে। সেতুর পাটাতনের অনেকাংশে নষ্টসহ বিশাল ফুটো হয়ে চরম ঝুঁকি নিয়ে যানবাহন চলাচল করছে। এতে যেকোনো সময় মারাত্মক দুর্ঘটনার ঝুঁকি তো রয়েছেই তার ওপর চলাচলকারী যাত্রী–সাধারণের মনে নতুন করে ভয়–আতঙ্ক কাজ করছে ডাকাত–ছিনতাইকারীর কবলে পড়া নিয়ে। তাই বিষয়টির দিকে নজর দিতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছে জনগণ।
ওই সড়ক দিয়ে যাতায়াতকারী যাত্রী–সাধারণসহ স্থানীয় এলাকাবাসীর অভিযোগ, দীর্ঘসময় ধরে চকরিয়ার বরইতলী ইউনিয়নের সোনাইছড়ি ছড়াখালের ওপর নির্মিত এই বেইলি সেতুর পুরাতন পাটাতনগুলো সরিয়ে নতুন পাটাতন বসানো হয়নি। এতে জনগুরুত্বপূর্ণ এই বেইলি সেতুটি বেহাল দশায় পরিণত হয়েছে। এই অবস্থায় সেতুর পার হতে গিয়ে পাতাটনের ফুটোতে আটকে পড়ে ছোট–বড় যানবাহন প্রতিনিয়ত দুর্ঘটনায় পতিত হচ্ছে।
এই অবস্থায় যাত্রী–সাধারণের মধ্যে ভয়–আতঙ্ক বিরাজ করছে জানিয়ে বরইতলীর সমাজকর্মী আনিসুল ইসলাম ফারুকী দৈনিক আজাদীকে বলেন, জনগুরুত্বপূর্ণ এই বেইলি সেতুটি এমনিতেই একেবারে নির্জন এলাকায়। তাই একদিকে যেমন দুর্ঘটনার আশঙ্কা রয়েছে অপরদিকে রাতে নয়, দিনের বেলাতেও ডাকাত–ছিনতাইকারী হানা দেওয়ার ভয়–আতঙ্কে রয়েছেন তারা। তাই বড় ধরনের কোনো ঘটনা বা দুর্ঘটনা সংঘটিত হওয়ার আগেই এই সেতুটি মেরামত করে জন ও যানবাহন চলাচল নির্বিঘ্ন করার জরুরি উদ্যোগ নিতে হবে। বরইতলী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ ছালেকুজ্জামান বলেন, বরইতলী ইউনিয়নের এই বেইলি সেতুটি কয়েকযুগ আগে নির্মাণ করা হয়। দীর্ঘদিন ধরে যানবাহন চলাচলের কারণে বর্তমানে সেতুর বিভিন্ন অংশের পাতাটন ভেঙে গেছে এবং কয়েকটি স্থানে পাটাতন খুলে গিয়ে সেতুর মাঝখানে ফুটো হয়ে গেছে। এছাড়া সেতুটি কাঠামোগতভাবেও দুর্বল হয়ে পড়েছে। এই অবস্থায় যাত্রীবাহী ও পণ্যবাহী যানবাহন চলাচলে যেকোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনার আশঙ্কা রয়েছে। সড়ক বিভাগের সংশ্লিষ্টদের চরম উদাসীনতার কারণে সেতুটির এই পরিণতি এবং কাজ বন্ধ রয়েছে বলেও মনে করেন চেয়ারম্যান ছালেকুজ্জামান।
তিনি আরও বলেন, এই সেতু ব্যবহার করে প্রতিদিন বরইতলী ইউনিয়ন ছাড়াও পেকুয়াসহ দূর–দূরান্ত থেকে আসা কয়েক হাজার মানুষ বিভিন্ন যানবাহনে চলাচল করে থাকেন। একইসাথে পণ্যবাহী গাড়িও চলাচল করে। এই অবস্থায় প্রতিদিন জীবনের ঝুঁকি নিয়েই এই বেইলি সেতু দিয়ে চলাচল করছেন জনগণ এবং যানবাহন।
স্থানীয় এলাকাবাসী জানান, বানিয়ারছড়া–পেকুয়া সংযোগ সড়কের এই বেইলি সেতুর পাটাতন নষ্ট হয়ে যাওয়ার কারণে চলাচলরত যানবাহন ওই স্থানে গেলেই গতি কমিয়ে দিতে হয়। আর এই সুযোগে দিনের বেলাতেও যাত্রী–সাধারণের ওপর হামলে পড়ে ডাকাত–ছিনতাইকারীরা। এতে বেইলি সেতু এলাকায় যাত্রী–সাধারণের নির্বিঘ্ন চলাচলের ক্ষেত্রে নিরাপত্তা ঝুঁকিও বেড়ে গেছে।
এ ব্যাপারে সড়ক ও জনপথ বিভাগ চকরিয়া উপ–বিভাগীয় প্রকৌশলী কার্যালয়ের সহকারী প্রকৌশলী (এস.ও) মো. কুতুব উদ্দিন দৈনিক আজাদীকে বলেন, এই বেইলি সেতুকে টেকসইভাবে নির্মাণ করতে হবে। তবে মাঝেমধ্যে সেতুর পাটাতন পরিবর্তন করে দেওয়া হয়। গতবছরও পাটাতনের জরাজীর্ণ অবস্থা হওয়ায় তা অপসারণ করে নতুন করে পাটাতন বসানো হয়।
সহকারী প্রকৌশলী কুতুব উদ্দিনের ভাষ্য– পাটাতন নষ্ট হলেই তা তুলে নতুন করে বসানো হয়। কিন্তু স্থানীয়ভাবে চোরের দল সেই পাটাতনও খুলে নিয়ে যায় অনেক সময়। তাই স্থায়ীভাবে গার্ডার ও কংক্রিটের ব্রিজ নির্মাণ করা না গেলে এই সমস্যা থেকেই যাবে। আর তা জনপ্রতিনিধিদেরই উদ্যোগ নিতে হবে। তবে আমাদের দপ্তরের পক্ষ থেকে বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়েছে।














