না ধুয়ে ফল-সবজি খেলে কী হতে পারে?

| শুক্রবার , ৫ জুন, ২০২৬ at ৮:৫৬ পূর্বাহ্ণ

বাজার থেকে আনা আঙুর, শসা, টমেটো, স্ট্রবেরি, আম কিংবা লেটুস দেখতে যতই পরিষ্কার হোক, না ধুয়ে খেলে অসুস্থ হওয়ার সম্ভাবনা বাড়ে। আবার বাইরে থাকলে ধোয়ার সুযোগ না পেলে, ভালো মতো মুছেই ফলে কামড় দেওয়া হয়। এটাও ভালো অভ্যাস নয়।

সরকারি কর্মচারী হাসপাতালের মেডিসিন বিভাগের, বিভাগীয় প্রধান কামরুল হাসান বলেন, ফল ও সবজি যতই তাজা বা পরিষ্কার দেখাক, না ধুয়ে খাওয়া নিরাপদ নয়। কারণ এর গায়ে এমন অনেক অদৃশ্য জীবাণু, ময়লা ও রাসায়নিক পদার্থ থাকে, যা শরীরে অনেক রকম অসুস্থতা তৈরিতে কাজ করে। এই চিকিৎসক বলেন, ফল ও সবজির গায়ে মাটি, পানি, প্রাণী কিংবা মানুষের সংস্পর্শ থেকে ক্ষতিকর জীবাণু লেগে থাকতে পারে। এসবের মধ্যে রয়েছে ইকোলাই মতো ব্যাকটেরিয়া এবং বিভিন্ন ধরনের পরজীবী। খবর বিডিনিউজের।

জীবাণুগুলো শরীরে প্রবেশ করলে ডায়রিয়া, পেটব্যথা, বমিভাব, জ্বর ও পানিশূন্যতার মতো সমস্যা দেখা দিতে পারে। কিছু ক্ষেত্রে কিডনির ক্ষতি, রক্তে সংক্রমণ কিংবা মস্তিষ্কে প্রদাহ পর্যন্তও হতে পারে। বিশেষ করে যেসব ফল ও সবজি কাঁচা অবস্থায় খাওয়া হয়, সেগুলোর ক্ষেত্রে ঝুঁকি বেশি, মন্তব্য করেন বারডেম হাসপাতালের পুষ্টি বিভাগের সাবেক প্রধান আখতারুন নাহার আলো। কারণ রান্নার মাধ্যমে জীবাণু ধ্বংস হওয়ার যে উপায় থাকে, কাঁচা খেলে সেটা হয় না।

ফল বা সবজি ক্ষেত থেকে রান্নাঘর পর্যন্ত পৌঁছানোর আগে বহু ধাপ অতিক্রম করে। চাষ, সংগ্রহ, পরিবহন, সংরক্ষণ। ফলে বিক্রির প্রতিটি পর্যায়ে এটি বিভিন্ন ধরনের দূষণের সংস্পর্শে আসে। এই পুষ্টিবিদের মতে, যেসব ফল ও সবজি মাটির কাছাকাছি জন্মায়, সেগুলোর দূষিত হওয়ার সম্ভাবনা তুলনামূলক বেশি। তরমুজ, স্ট্রবেরি, রসুন, শাকসবজি এবং মূলজাতীয় সবজির ক্ষেত্রে এই ঝুঁকি থেকেই যায়। তাই বাহ্যিকভাবে ফল বা সবজি পরিষ্কার দেখালেও, এর গায়ে জীবাণু বা দূষণকারী পদার্থ থেকে যেতে পারে। তাই শুধু দেখে নিরাপদ মনে করলেই হবে না।

ফল ও সবজি না ধুয়ে খেলে শুধু ব্যাকটেরিয়াই নয়, আরও অনেক অস্বস্তিকর উপাদান শরীরে প্রবেশ করতে পারে। এর মধ্যে রয়েছে মাটি, বালুকণা, ছোট পাথর, পোকামাকড় কিংবা প্রাণীর বর্জ্যের ক্ষুদ্র অংশ। এই উপাদানগুলো কখনও কখনও দাঁতের ক্ষতি, গলায় আটকে যাওয়া কিংবা পরিপাকতন্ত্রে আঘাতের মতো সমস্যাও তৈরি করতে পারে। তাই ফলের বাহ্যিক অংশ পরিষ্কার দেখে নিশ্চিন্ত হওয়া ঠিক নয়। কারণ ময়লা বা জীবাণুর বড় একটি অংশ খালি চোখে দেখাই যায় না।

চাষের সময় বিভিন্ন ধরনের পোকামাকড়, আগাছা ও ছত্রাক নিয়ন্ত্রণে কীটনাশক ব্যবহার করা হয়। যদিও এসব পদার্থ নির্দিষ্ট নিয়ম মেনে ব্যবহার করা হয়, তবুও ফসল সংগ্রহের পর কিছু অবশিষ্টাংশ ফল ও সবজির গায়ে থেকে যেতে পারে। যেসব ফল বা সবজির গায়ে অনেক ভাঁজ, খাঁজ বা সূক্ষ্ম লোমযুক্ত, সেগুলোতে কীটনাশকের অবশিষ্টাংশ বেশি আটকে থাকতে পারে।

বিভিন্ন শাকপাতা, টমেটো, শসা এবং ক্যাপসিকাম, ছোট ফলের গায়ে রাসায়নিক পদার্থ আটকে থাকার সম্ভাবনা বেশি থাকে। যদিও ধোয়ার মাধ্যমে সব রাসায়নিক দূর করা সম্ভব নয়। তবুও চলমান ঠান্ডা পানিতে ভালোভাবে ধুলে, এসব ক্ষতিকর জিনিসের পরিমাণ অনেকটাই কমানো যায়, পরামর্শ দেন পুষ্টি বিশেষজ্ঞ আলো।

সব মানুষের জন্য ফল ও সবজি ধোয়া জরুরি। আর কিছু মানুষের ক্ষেত্রে বেশি গুরুত্বপূর্ণ। ডা. কামরুল হাসান বলেন, শিশু, বয়স্ক ব্যক্তি, গর্ভবতী নারী এবং যাদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা দুর্বল, তারা খাদ্যবাহিত সংক্রমণে বেশি ঝুঁকির মধ্যে থাকেন। তাদের শরীর অনেক সময় জীবাণুর বিরুদ্ধে যথেষ্ট প্রতিরোধ গড়ে তুলতে পারে না। ফলে সাধারণ সংক্রমণও গুরুতর আকার ধারণ করতে পারে।

অনেকে মনে করেন, যেহেতু সবজি রান্না করা হবে, তাই ধোয়ার প্রয়োজন নেই। তবে বিশেষজ্ঞরা এই ধারণার সঙ্গেও একমত নন। ফল বা সবজির বাইরের অংশে থাকা জীবাণু, কাটাকাটি বা প্রস্তুতির সময় ভেতরের অংশে চলে যেতে পারে। ফলে পরে রান্না করা হলেও কিছু ঝুঁকি থেকে যায়। একইভাবে যেসব ফলের খোসা ফেলে দেওয়া হয়, সেগুলোকেও আগে ধুয়ে নেওয়া উচিত। কারণ ছুরি দিয়ে কাটার সময় বাইরের অংশের জীবাণু ভেতরে প্রবেশ করতে পারে।

ফল ও সবজি কেনার পর সঙ্গে সঙ্গে না ধুয়ে খাওয়ার ঠিক আগে ধোয়া সবচেয়ে ভালো। এতে সেগুলো দীর্ঘদিন সতেজ থাকে। আখতারুন নাহার আলোর পরামর্শ হল, পরিষ্কার ঠান্ডা প্রবাহমান পানির নিচে ফল ও সবজি ধুতে হবে। আলু বা শক্ত খোসার সবজির ক্ষেত্রে নরম ব্রাশ ব্যবহার করা যেতে পারে। তবে সাবান, ব্লিচ বা রাসায়নিক পরিষ্কারক কখনই ব্যবহার করা উচিত নয়। কারণ এগুলো খাদ্যপণ্যের জন্য অনুমোদিত নয় এবং স্বাস্থ্যের জন্যও মারাত্মক ক্ষতিকর।

লেটুস, পালংসহ যে কোনো শাকপাতার ক্ষেত্রে পাতাগুলো আলাদা করে পানিতে ভিজিয়ে ঝাঁকিয়ে ধোয়া উচিত। এতে ভেতরে আটকে থাকা ময়লা ও জীবাণু বের হয়ে আসে।

পূর্ববর্তী নিবন্ধহাদি হত্যাকাণ্ড নিয়ে বক্তব্যের পর মমতার বিরুদ্ধে মামলা
পরবর্তী নিবন্ধসব উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স হবে ১০১ শয্যার