পাঁচ স্তরের স্থানীয় সরকারের মধ্যে ইউনিয়ন পরিষদকে অগ্রাধিকার দেওয়ার বিষয়ে চিন্তা

স্থানীয় নির্বাচন : অগাস্টে তফসিলের ভাবনা ইসির

| বৃহস্পতিবার , ৪ জুন, ২০২৬ at ৬:১৪ পূর্বাহ্ণ

মাস তিনেকের মধ্যে স্থানীয় সরকারের আইনবিধি সংস্কার করে অগাস্টে ধাপভিত্তিক ভোটের তফসিল দিতে চায় নির্বাচন কমিশন। সেক্ষেত্রে সেপ্টেম্বরের শেষ দিকে বা অক্টোবরের শুরুতে হতে পারে স্থানীয় সরকারের অন্তত একটি প্রতিষ্ঠানের নির্বাচন। কয়েক ধাপে হলেও কোন প্রতিষ্ঠানের নির্বাচন দিয়ে শুরু হবে তা সরকারের সঙ্গে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নেবে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। খবর বিডিনিউজের।

স্থানীয় সরকারের ৪ হাজার ৫৮১ ইউনিয়ন পরিষদ, ৬১ জেলা পরিষদ, ৪৯৫ উপজেলা পরিষদ, ৩৩০ পৌরসভা, ১৩ সিটি করপোরেশনের বিভিন্ন পদ নির্বাচন উপযোগী রয়েছে।

অন্তর্বর্তী সরকারের অধীনে ১২ ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচন করলেও এ এম এম নাসির উদ্দিন নেতৃত্বাধীন কমিশন এখনও কোনো স্থানীয় সরকারের ভোট করেনি। এখন দলীয় সরকারের অধীনে নির্দলীয় স্থানীয় নির্বাচন করবে এ কমিশন। সংস্কার কাজ গুছিয়ে কোন নির্বাচন কবে হবে, তা নিয়ে বসবে নির্বাচন আয়োজনকারী সাংবিধানিক সংস্থাটি। সরকারের সঙ্গে আলোচনা করেই যথাসময়ে ভোট শুরু হবে।

স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম মঙ্গলবার সাংবাদিকদের বলেছেন, বাজেটে নির্বাচনের প্রয়োজনীয় বরাদ্দ আসার পরই জুলাইঅগাস্ট থেকে কোন নির্বাচন কবে অনুষ্ঠিত হবে, সেই বিষয়ে যৌথ বৈঠক করে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

ইসি সচিবালয়ের কর্মকর্তাদের সঙ্গে নির্বাচন কমিশনারদের ঈদ পরবর্তী শুভেচ্ছা বৈঠক হয়। জুনজুলাইয়ের মধ্যে সব প্রস্তুতি সম্পন্ন করে অগাস্ট থেকে নির্বাচনি কার্যক্রম শুরু করা এবং যাতে সেপ্টেম্বরঅক্টোবরের মধ্যে ভোট নেওয়া সম্ভব হয়, সে বিষয়ে বৈঠকে আলোচনা হয়।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে মঙ্গলবার নির্বাচন কমিশনার আব্দুর রহমানেল মাছউদ বলেন, “সেপ্টেম্বরঅক্টোবরে নির্বাচন করতে হলে অগাস্টে আমাদের তফসিল করতে হবে। সাধারণত এক থেকে দেড় মাস আগে ঘোষণা দিতে হয় (তফসিল)। ‘তফসিলের বিষয়টা নির্ভর করছে বর্ষা মৌসুমের পরিস্থিতি দেখে; আর ভোটের সময় পাবলিক পরীক্ষার বিষয়টি দেখতে হবে। এখনও কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি; সব বিষয় বিবেচনা করে যথাসময়ে আমরা সিদ্ধান্ত নেব।’ তিনি বলেন, প্রস্তুতিমূলক কাজের মধ্যে আইনবিধি সংস্কার, নির্বাচনি সরঞ্জামের মজুদ, চাহিদাসহ আনুষঙ্গিক বিষয়গুলো মাস তিনেকের মধ্যে শেষ করার পরিকল্পনা রয়েছে। স্থানীয় সরকারের সব নির্বাচনের জন্য একটা সাধারণ জিনিস লাগে, সেটা প্রস্তুতি নিচ্ছি। এরমধ্যে আচরণবিধি, নির্বাচন পরিচালনা বিধি, কেনাকাট। বিধি সংস্কার নিয়ে প্রস্তাব আমরা ওয়েবসাইটে দিয়ে দেব। সবার মতামত নিতে ১৫ দিন উন্মুক্ত থাকবে। জুলাইয়ের মধ্যে বিধি সংস্কার মন্ত্রণালয়ের ভেটিং পর্যন্ত শেষ হবে আশা করি। এরপর আগামী মাসে অন্যান্য প্রস্তুতি নিয়ে অগাস্টে তফসিলের প্রস্তুতি নেওয়া যাবে।বলেন এ নির্বাচন কমিশনার। তিনি বলেন, পাঁচ স্তরের স্থানীয় সরকারের মধ্যে ইউনিয়ন পরিষদকে অগ্রাধিকার দেওয়ার বিষয়ে চিন্তা করছে নির্বাচন কমিশন। চলতি বছরে সিটি নির্বাচন দিয়ে শুরু করা যাবে কিনা তা নিয়ে সংশয় রয়েছে। পৌরসভা, উপজেলা, জেলা পরিষদ নিয়ে কি করা যায় আলোচনা দরকার।

রহমানেল মাছউদ বলেন, কোন নির্বাচন আগে হবে তা নির্ভর করছে (সরকারের সঙ্গে) আলোচনা সাপেক্ষে। অক্টোবরমার্চ পর্যন্ত ভোটের উপযুক্ত সময়; এরমধ্যে বছর শেষে বার্ষিক পরীক্ষা রয়েছে। যেহেতু স্থানীয় সরকারের সব স্তরে করতে হবে; বর্ষার সময়টা দেখে তফসিল করতে হবে আমাদের। নতুন অর্থবছরের বাজেটে স্থানীয় সরকারের ভোটের জন্য প্রয়োজনীয় বরাদ্দ থাকবে তুলে ধরে তিনি বলেন, সংসদ নির্বাচনের সময়ের কিছু অর্থও হাতে রয়েছে। সব মিলিয়ে বাজেট সঙ্কুলান ধাপে ধাপে হয়ে যাবে। ইসির নির্বাচন পরিচালনা শাখার কর্মকর্তারা বলছেন, স্থানীয় সরকার নির্বাচনের আগাম প্রস্তুতির অংশ হিসেবে মাঠ পর্যায়ে কতটি ব্যালট বাঙ আছে কিংবা কোন এলাকায় আর কতটি লাগবে তা নির্ধারণ করার জন্য এ নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। মাঠ পর্যায়ে কোনো ঘাটতি আছে কিনা তা যাচাই করতে অঞ্চলভিত্তিক তথ্য যাচাই করা হচ্ছে। এ সংক্রান্ত প্রতিবেদন চূড়ান্ত করে তা কমিশনের কাছে উপস্থাপন করা হবে।

বিধির খসড়া প্রকাশের পরিকল্পনা : স্থানীয় সরকার নির্বাচনে প্রস্তাবিত সংস্কার নিয়ে মধ্য জুনের মধ্যে সকল অংশীজন ও নাগরিকদের মতামত নিতে আইনবিধির খসড়া প্রকাশ করবে নির্বাচন কমিশন। নির্বাচন কমিশনার রহমানেল মাছউদ বলেন, ‘আইনবিধি সংশোধনের কার্যক্রম চলমান রয়েছে। ১৫ বা ২০ দিনের মধ্যে অংশীজন ও নাগরিকদের মতামত গ্রহণের জন্য ওয়েবসাইটে খসড়া প্রকাশ করা হবে। আর জুনের মধ্যেই আইনবিধির সকল কার্যক্রম শেষ করা হবে।’

নির্বাচনে সকলের জন্য সমান সুযোগ নিশ্চিত করার কথা তুলে ধরে এ নির্বাচন কমিশনার বলেন, ফেরারি আসামিদের ভোটে অংশ নেওয়ার সুযোগ নেই। আইনে যে বিধিনিষেধ রয়েছে সেগুলো সাপেক্ষে সকলে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করতে পারবে।

গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ (আরপিও), নির্বাচন পরিচালনা বিধিমালা ও আচরণবিধির সঙ্গে সমন্বয় রেখে স্থানীয় সরকারের আইনবিধান সংস্কার করা হবে। আইনবিধির প্রস্তাবিত সংশোধনের মধ্যে প্রার্থীদের জামানতের পরিমাণ বৃদ্ধি, স্বতন্ত্র প্রার্থীদের জন্য ভোটারের স্বাক্ষর সংগ্রহের বিধান বাতিলসহ বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন রয়েছে। সরকারি প্রতিষ্ঠানের আচরণ বিধিমালা মানতে অঙ্গীকারনামা থাকছে। অনলাইনে মনোনয়ন জমা দেওয়ার যে বিধান রয়েছে, তাও তুলে দেওয়া হবে। পাশাপাশি যেহেতু নির্দলীয় নির্বাচন হবে সেজন্য ভোটার সমর্থন হিসেবে এক শতাংশ ভোটারের স্বাক্ষরের যে বাধ্যবাধকতা আছে, তা তুলে দিয়ে প্রার্থীর জামানত ও নির্বাচনি ব্যয়ের পরিমাণ বাড়ানোর বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। এছাড়া নির্বাচনে পোস্টার নিষিদ্ধ, বিলবোর্ডে প্রচার, সামাজিক মাধ্যমে প্রচার, এআইএর অপব্যবহার রোধসহ নানা বিষয়ে বিধিনিষেধ যুক্ত করা হবে বলে কমিশনের একাধিক কর্মকর্তা বলেছেন।

পূর্ববর্তী নিবন্ধড. মইনুল ইসলামের কলাম
পরবর্তী নিবন্ধঢাকায় আসছেন তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী