সিটি মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন চট্টগ্রামের স্বাস্থ্যসেবার মানোন্নয়নে নার্সিং খাতের বিকাশে ফ্রান্সের সহযোগিতা কামনা করেছেন। তিনি বলেছেন, আধুনিক চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে দক্ষ, প্রশিক্ষিত ও আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন নার্স তৈরির কোনো বিকল্প নেই। এ লক্ষ্যে চসিক পরিচালিত নার্সিং ইনস্টিটিউটে চার বছর মেয়াদি ব্যাচেলর ডিগ্রি চালুর পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।
গতকাল সোমবার টাইগারপাসস্থ চসিক কার্যালয়ে মেয়রের দপ্তরে বাংলাদেশে নিযুক্ত ফ্রান্সের রাষ্ট্রদূত জ্যঁ–মার্ক সেরে–শার্লের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাতে তিনি এসব কথা বলেন।
বৈঠকে ফ্রান্সের রাষ্ট্রদূত চট্টগ্রামে নারীর ক্ষমতায়ন নিশ্চিতকরণে মেয়রের পরিকল্পনা এবং সম্ভাব্য সহযোগিতার ক্ষেত্র সম্পর্কে জানতে চাইলে মেয়র বলেন, সুস্থ, পরিচ্ছন্ন ও বাসযোগ্য হেলদি সিটি হিসেবে চট্টগ্রামকে গড়ে তোলাই তাঁর অন্যতম প্রধান লক্ষ্য। মেয়র বলেন, আধুনিক ও মানসম্মত স্বাস্থ্যব্যবস্থা গড়ে তুলতে দক্ষ ও প্রশিক্ষিত নার্সের কোনো বিকল্প নেই। চিকিৎসাসেবার গুণগত মান বাড়াতে নার্সদের পেশাগত দক্ষতা বৃদ্ধি, আন্তর্জাতিক মানের প্রশিক্ষণ, আধুনিক কারিকুলাম এবং প্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষা নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি। বর্তমানে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন নার্সিং ইনস্টিটিউট থেকে ডিপ্লোমা ডিগ্রি প্রদান করা হচ্ছে। তবে আমরা চার বছর মেয়াদি ব্যাচেলর ডিগ্রি চালুর পরিকল্পনা নিয়েছি। দক্ষ নার্স গড়ে তুলতে পারলে শুধু চট্টগ্রামের স্বাস্থ্যসেবাই উন্নত হবে না, দেশে–বিদেশে বিপুল কর্মসংস্থানের সুযোগও সৃষ্টি হবে। এ ক্ষেত্রে ফ্রান্সের বিনিয়োগ, কারিগরি সহায়তা, অভিজ্ঞতা ও জ্ঞান বিনিময় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
বৈঠকে ফ্রান্সের রাষ্ট্রদূত চট্টগ্রামের বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, শিক্ষা ব্যবস্থা, বাণিজ্য ও বিনিয়োগ পরিবেশ, জলাবদ্ধতা নিরসন, পর্যটন শিল্পের বিকাশ এবং চট্টগ্রামের সঙ্গে ফ্রান্সের কোনো নগরের সিস্টার সিটি সম্পর্ক স্থাপনের সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা করেন।
বৈঠকে ফরাসি উন্নয়ন সংস্থা এএফডি’র কান্ট্রি ডিরেক্টর সিনথিয়া মেলা চট্টগ্রাম ওয়াসার চলমান স্যানিটেশন প্রকল্পের অগ্রগতি তুলে ধরে বলেন, এ প্রকল্পের মাধ্যমে নগরীতে আধুনিক পয়ঃনিষ্কাশন ব্যবস্থা গড়ে তোলা, বর্জ্যপানি পরিশোধনের সক্ষমতা বৃদ্ধি, কর্ণফুলী নদী ও নগরীর খালগুলোর দূষণ হ্রাস এবং জনস্বাস্থ্যের সুরক্ষা নিশ্চিত করা হবে। বৈঠকে আরও উপস্থিত ছিলেন চসিকের ভারপ্রাপ্ত প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ও সচিব মো. আশরাফুল আমিন, প্রধান পরিচ্ছন্ন কর্মকর্তা ক্যাপ্টেন ইখতিয়ার উদ্দিন আহমেদ চৌধুরী, প্রধান রাজস্ব কর্মকর্তা সরোয়ার কামাল, প্রধান শিক্ষা কর্মকর্তা ড. কিসিঞ্জার চাকমা, প্রধান প্রকৌশলী আনিসুর রহমান এবং ন্যাশনাল ব্রোকারস লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ওরমান রাফি নিজামসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। প্রেস বিজ্ঞপ্তি।









