নাগরিকদের পশ্চিম এশিয়া ‘ছাড়ার কথা বিবেচনার’ আহ্বান মার্কিন দূতাবাসগুলোর

| রবিবার , ২ আগস্ট, ২০২৬ at ৭:১০ পূর্বাহ্ণ

পশ্চিম এশিয়ার বেশ কয়েকটি দেশের রাজধানীর মার্কিন দূতাবাস যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের ওই অঞ্চলের যুদ্ধের ‘অপ্রত্যাশিত বাড়বাড়ন্ত’ নিয়ে সতর্ক থাকতে আর তাদের চলে যাওয়ার জন্য প্রস্তুত থাকতে বলেছে। আল আরাবিয়ায় প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, আম্মান, জেরুজালেম, মাস্কাট, বাগদাদ ও বৈরুতের মার্কিন দূতাবাস সামাজিক মাধ্যমে জানানো এক নিরাপত্তা সতর্ক বার্তায় বলেছে, ওই অঞ্চলে থাকা আমেরিকানদের প্রস্থানের কথা বিবেচনা করা উচিত অথবা পরিস্থিতি আরও তীব্র হয়ে উঠার সম্ভাবনায় প্রস্থানের জন্য প্রস্তুত থাকা উচিত। এই বার্তায় মার্কিন নাগরিকদের ফ্লাইটের বিস্তারিত দেখে রাখতে আর স্থানীয় কর্তৃপক্ষ থেকে দেওয়া নিরাপত্তা পরামর্শ অনুসরণ করার আহ্বান জানানো হয়েছে। বার্তায় বলা হয়েছে, বর্তমানে পশ্চিম এশিয়ায় থাকা আমেরিকানদের সাবধানতা অবলম্বন করা ও আরও সতর্ক থাকা উচিত। তাদের ফ্লাইট বাতিল, সাময়িক আকাশসীমা বন্ধ থাকা আর সম্ভাব্য ভ্রমণ বিঘ্নের জন্যও প্রস্তুত থাকা উচিত। খবর বিডিনিউজের।

জর্ডানে থাকা আমেরিকানদের সেখানকার মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলোতে না যাওয়ার জন্য বলা হয়েছে। এসব ঘাঁটিতে সমপ্রতি ইরান ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে। ইসরায়েলে থাকা মার্কিন নাগরিকদের তাদের সবচেয়ে কাছের বোম্ব শেল্টারগুলো খুঁজে বের করে রাখতে বলেছে। জেরুজালেমের মার্কিন দূতাবাস এক পোস্টে বলেছে, ইরানি শাসনব্যবস্থা অনুমানযোগ্য নয়, এ অঞ্চলের বিভিন্ন এলাকায় কোনো পূবসতর্কতা বা উস্কানি ছাড়াই হামলা চালানোর সামপ্রতিক সিদ্ধান্ত আর আগে কখনো লক্ষ্যস্থল করা হয়নি এমন এলাকায় (যেমন মিশর) হামলার পরিধি বিস্তারের বিষয়টি থেকেই তা স্পষ্ট।

বৈরুতের মার্কিন দূতাবাস বলেছে যে মিশনটি ‘বাধ্যতামূলক প্রস্থানের নির্দেশিত অবস্থায়’ বহাল আছে; এর অর্থ জরুরি নয় এমন মার্কিন সরকারি কর্মীদের লেবাননের বাইরে সরিয়ে নেওয়া অব্যাহত ছিল। বুধবার মিশরের ভূমধ্যসাগরীয় দুমিয়াত বন্দরে নোঙর করে থাকা যুক্তরাষ্ট্রের মালিকানাধীন একটি এলএনজি ট্যাংকারে ড্রোন হামলা হয়। এতে ট্যাংকারটিতে আগুন ধরে যায়। মিশর হামলার ঘটনাটির তদন্ত করছে কিন্তু এখনও কোনো গোষ্ঠীকে এর জন্য দায়ী করেনি।

এরমধ্যে ইরানের সামরিক বাহিনী পশ্চিম এশিয়ায় ‘উত্তেজনা উস্কে তোলার জন্য’ যুক্তরাষ্ট্রকে দায়ী করেছে। তারা সতর্ক করে বলেছে, অপরাধী ও আগ্রাসী আমেরিকার জন্য প্রতিরক্ষামূলক ঢাল হিসেবে কাজ করা যে কোনো দেশই যুদ্ধের আগুনে জ্বলবে। কয়েকদিন বন্ধ থাকার পর চলতি সপ্তাহে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র রাতে পাল্টাপাল্টি হামলা চালানো আবার শুরু করেছে। তবে শুক্রবার ও শনিবার পাল্টাপাল্টি হামলার কোনো খবর হয়নি।

পূর্ববর্তী নিবন্ধসমকালের দর্পণ
পরবর্তী নিবন্ধমেধাবী প্রজন্ম গড়ে তুলতে সকলকে দায়িত্বশীল ভূমিকায় এগিয়ে আসতে হবে