একদিকে প্রকৃতির তাণ্ডব, অন্যদিকে মানুষের খামখেয়ালিপনা–এই দুইয়ের যাঁতাকলে পড়ে দিশেহারা রাঙ্গুনিয়া উপজেলার বেতাগী ইউনিয়নের ঢেমির ছড়া বিলের কৃষকেরা। কোনো পূর্ব ঘোষণা ছাড়াই কর্ণফুলী নদীর কাটাখালী স্লুইস গেটের কপাট (ঝাপ) খুলে দেওয়ায় জোয়ারের পানিতে তলিয়ে গেছে কৃষকের পাকা ধান। সোনালি ফসল ঘরে তোলার আগমুহূর্তে এমন বিপর্যয়ে বিলাপ করছেন ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকেরা।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শুধু এই বিলেই নয়, সামপ্রতিক কালবৈশাখী তাণ্ডবে পুরো উপজেলাজুড়েই কৃষকের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। ধান ঘরে তোলার আগমুহূর্তে এমন ক্ষতিতে শত শত কৃষক এখন চরম সংকটে পড়েছেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, উপজেলার বেতাগী কাটাখালী এলাকায় কর্ণফুলী নদীর রামগতি হাট খালের মুখে অবস্থিত স্লুইস গেটটি গত এক দশক ধরে বিলের কৃষিকাজে আশীর্বাদ হিসেবে কাজ করছিল। কিন্তু সরকারি জনবল না থাকায় কৃষকরা নিজেরাই চাঁদা তুলে সফি নামের এক ব্যক্তিকে গেটটি পরিচালনার দায়িত্ব দেন। সমপ্রতি কালবৈশাখী ঝড়ের প্রবল বর্ষণের মধ্যে কাউকে কিছু না জানিয়ে গেটটি খুলে দেন ওই চৌকিদার। এতে নদীর জোয়ারের পানি দ্রুত বিলের ভেতরে প্রবেশ করে পুরো এলাকা প্লাবিত করে ফেলে। ৬৫ কানি আয়তনের এই বিলে পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা না থাকায় জলাবদ্ধতা তৈরি হয়, যার ফলে পানিতে পচন ধরেছে ধান। ডেমির ছড়া বিলের সবচেয়ে বড় চাষি মাহবুবুল আলম। ৪০ কানি জমিতে আবাদ করতে গিয়ে তিনি ব্যুরো বাংলাদেশ ও ব্র্যাকসহ বিভিন্ন এনজিও এবং আত্মীয়–স্বজনের কাছ থেকে প্রায় সাড়ে তিন লাখ টাকা ঋণ নিয়েছেন। সরেজমিনে গেলে তাকে হাঁটুপানিতে দাঁড়িয়ে পচে যাওয়া ধানের দিকে চেয়ে হাহাকার করতে দেখা যায়। নিজের নষ্ট হওয়া ধানের গোছা দেখিয়ে বলেন, সব শেষ।
তিনি বলেন, এক হাজার টাকার বিনিময়ে গেট খোলা বা বন্ধ করা হয়। অথচ এবার আমাদের কাউকে না জানিয়েই গেটটি ছেড়ে দেওয়া হলো। আমার সব আবাদ এখন মাটির সাথে মিশে গেছে, এখন পাওনাদারের টাকা শোধ করব কীভাবে?
শুধু মাহবুবুল নন, ওই এলাকার প্রায় ১৫ থেকে ২০ জন কৃষক তাদের শেষ সম্বলটুকু হারিয়ে এখন পথে বসেছেন। দায়িত্বে থাকা চৌকিদার সফি বিষয়টি স্বীকার করে বলেন, খালের পাড়ে বসবাসরত হিন্দু পল্লীর বাসিন্দাদের গোসলে সমস্যা হওয়ায় তাদের অনুরোধে তিনি গেটটি খুলে দিয়েছিলেন। এভাবে কৃষকের মাঠের পর মাঠ ফসল ডুবে যাবে তা তিনি আঁচ করতে পারেননি বলে দাবি করেন।
বেতাগী এলাকার উপ–সহকারী কৃষি অফিসার মোহাম্মদ শাহাজান জানান, পশ্চিম বেতাগী ব্লকে প্রায় ৯৫ হেক্টর জমিতে আবাদ হয়েছিল। ঝড়ে এবং জোয়ারের পানিতে ধানের ক্ষয়ক্ষতির বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে দেখা হচ্ছে। ইতোমধ্যে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের ব্যাপারে ঊর্ধ্বতন মহলে জানানো হয়েছে।
ক্ষতিগ্রস্তদের তালিকা তৈরি হচ্ছে জানিয়ে উপজেলা কৃষি অফিসার ইমরুল কায়েস জানান, কৃষকদের প্রয়োজনীয় সহায়তা দিতে ঊর্ধ্বতন মহলে যোগাযোগ করা হচ্ছে।














